নিজস্ব সংবাদদাতা, সদরপুর (ফরিদপুর):
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে মাহে রমজানের পঞ্চম দিনেও প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও লেবু, শসাসহ বিভিন্ন প্রকার ফলের দাম আকাশচুম্বী। নিম্ন আয়ের রোজাদাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিরাট ফারাক। ইফতারে বাহারি আইটেম না হোক, অন্তত এক গ্লাস লেবুর শরবত করে খাওয়ার অবস্থাও নেই অনেকের। দোকানিরা যে যেভাবে দাম হাঁকাচ্ছেন, ক্রেতারা সেই দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। নেই প্রশাসনের নজরদারি, নেই ভোক্তা কমিটির তৎপরতা।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সদরপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় লেবু ১০০ টাকা হালি, ছোট ৮০ টাকা হালি। বেগুন ১০০ টাকা কেজি, শসা ১০০ টাকা কেজি, ছোলা ৯০ টাকা কেজি। খেজুর জাতভেদে ২৫০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত। কালো আঙুর ৫৪০ টাকা, সাদা আঙুর ৪৪০ টাকা, কমলা ৩৫০ টাকা, মাল্টা ৩২০ টাকা, আপেল ৩৫০ টাকা, আনার ৫৫০ টাকা, স্ট্রবেরি ১০০০ টাকা, বরই ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জরিপের ডাঙ্গীর বাসিন্দা হালিমা বেগম সংবাদকর্মীদের জানান, “এক গ্লাস লেবুর শরবত আর দুইটা খেজুর দিয়া ইফতার করমু সেই অবস্থাও নাই। খেজুর কিনতে গেলে টাকা শেষ হয়ে যায়, অন্য জিনিস কিনতে পারি না। রোজা আইলেই সব জিনিসের দাম বাড়ে।”
রিকশাচালক বাবুল বলেন, “কেউ দান-খয়রাত না করলে কিনে খাওয়ার মতো সাধ্য আমাদের নেই।”
বাজারের ফল ব্যবসায়ী লাবলু সংবাদকর্মীদের বলেন, রমজান শুরু হওয়ার আগেই মালের ঘাটতি দেখিয়ে আড়ত থেকে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি আইটেমে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। “আমরা সামান্য লাভে বিক্রি করি,” দাবি তার। আরেক ফল ব্যবসায়ী সাজ্জাদও একই কথা বলেন। সবজি ব্যবসায়ী রনি জানান, রমজানের শুরুতেই পাইকাররা লেবু ও শসার দাম বাড়িয়েছে।
তবে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। সচেতন মহলের অভিমত, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাজারদর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া শুভ লক্ষণ নয়। সরকারের উচিত সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি বৃদ্ধি করা।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
মোঃ নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার 





















