আলিফ হোসেনঃ
ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে।এনিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আদর্শিক নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।তৃনমুলের ভাষ্য, বিএনপির একশ্রেণীর নেতার প্রাষাদ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তীরে এসে তৈরী ডুবেছে।কারণ আওয়ামী অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত এলাকায় বিএনপি ভালো করছে, অথচ বিএনপি অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত এলাকায় বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে।
মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন একজন আদর্শিক, পরিক্ষিত হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে তিনি সমান জনপ্রিয়। কারণ তার আদর্শ ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নাই এটা তার প্রতিপক্ষরাও অকপটে শিকার করেন। অথচ ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে তাকে পরাজিত হতে হয়েছে। কিন্ত্ত কেনো তার এমন পরাজয় ? এর দায় নিবে কে ? কাউকে না কাউকে তো এর দায় নিতে হবে।
তৃণমূলের অভিমত, দলে চিরুনী অভিযান চালিয়ে এদের চিহ্নিত ও ছুড়ে ফেলা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। কারণ বিএনপির ঘাঁটিতে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে শরিফ উদ্দিনের মতো হেভিওয়েট নেতাকে যদি পরাজিত হতে হয়-তাহলে আগামি দিনে উপজেলা,পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপির কি পরিনতি হতে পারে এটা ভেবেই আদর্শিক নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভোটার প্রায় ৮০ হাজার ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এবার মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪টি। ভোট বাতিল হয়েছে ৭ হাজার ৯৮৬টি। ভোটের ফলাফলের ব্যাবধান এক হাজার ৮৮৪টি (সরাসরি ভোট ৭৭৪ এবং পোস্টাল ভোট এক হাজার ১১০টি)।
অন্যদিকে বিগত নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় বিএনপির প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার ভোটার রয়েছে যারা কখানো ধানের শীষ প্রতিক ব্যতিত ভোট দেন না। কিন্ত্ত গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান পেয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদন্দী বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দীন পেয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। ফলে এক হাজার ৮৮৪ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
অথচ বিগত দিনের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় জামায়াতের এই পরিমাণ ভোট ব্যাংক নাই, তাহলে কারা ? দিলো এতো ভোট ?
সারাদেশে যেখানে বিএনপির ভুমিধস বিজয়, সেখানে বিএনপির ঘাঁটিতে ধানের শীষের পরাজয় ঘটেছে।এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃস্টি হয়েছে, দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া, বইছে নানা মুখরুচোক গুঞ্জন, প্রতিনিয়ত এসব গুঞ্জনের ডালপালা মেলছে, চলছে নানা বিশ্লেষণ।স্থানীয়রা অভিযোগের তীর ছুড়েছে দলের একশ্রেণীর বিপদগামী নেতার দিকে।
এদিকে কয়েকদিন বিভিন্ন এলাকার নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে মোটা দাগে কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে-যার মধ্যে অন্যতম রাজশাহী-১ আসনে এমপি হবার খোয়াব দেখা কিছু নেতা মনে করেন এখানে শরিফ উদ্দিনের পরাজয় হলে আগামিতে তাদের ভাগ্য খুলবে এবং বিএনপিতে ব্যারিস্টার পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্যর অবসান হবে, এই আশায় তারা তাদের অনুগতদের নিয়ে গেম খেলেছে।কারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরই এসব নেতার অনুসারীরা তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে,তাতে সহজেই অনুমান করা যায় নির্বাচনের মাঠে তাদের কি ভুমিকা ছিলো।
কিন্ত্ত এরা রাজনৈতিক অর্বাচীন,এক শরিফ না থাকলে ব্যারিস্টার পরিবারে আরো অসংখ্য শরিফ রয়েছেন যারা যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে এমপি নির্বাচন করার সক্ষমতা রাখে।তাই তারা যে আশা নিয়ে গেম খেলেছেন তাদের সে আশা কখানোই পুরুণ হবে না।
এদিকে জামায়াত যেখানে ভোটের মাঠে ঐক্যবদ্ধ একটা টিম হয়ে কাজ করেছে, সেখানে বিএনপি ব্যর্থ তারা ঐক্যবদ্ধ টিম হয়ে কাজ করার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে নিজেকে জাহির করতে গিয়ে নিজেদের সর্বনাশ করেছে।
এছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলো যে তাদের বিজয় নিশ্চিত। যেহুতু তারা বিজয়ী হবেই,তাই এই সুযোগে এক নেতা আরেক নেতাকে ঠেকাতে কলকাঠি নেড়েছেন। যেমন কলমা ইউপিতে যদি ধানের শীষের বড় বিজয় হয় তাহলে হযরত আলী মাস্টারের গুরুত্ব বেড়ে যাবে,তাই তাকে ঠেকাতে তার এলাকায় ধানের শীষের পরাজয় ঘটানো হয়েছে।
একইভাবে পাঁচন্দর ও বাধাইড় ইউপিতে যদি বড় জয় হয় তাহলে আগামি ইউপি নির্বাচনে মুজিবুর রহমান ও কামরুজ্জামান হেনা মনোনয়ন পাবে,তাই তাদের ঠেকাতে হবে।আবার তানোর পৌরসভায় বড় বিজয় হলে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের গুরুত্ব বেড়ে যাবে তাই তাকে ঠেকাতে হবে। কমবেশি প্রতিটি ইউনিটে এমন অবস্থা বিরাজমান ছিলো বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এসব নিয়ে বিএনপির অন্দর মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে।
এছাড়াও অভিজ্ঞ মহল মোটাদাগে কয়েকটি কারণ চিন্হিত করেছেন। এর মধ্যে দলের পোড় খাওয়া আদর্শিক,পরীক্ষিতদের অবমুল্যায়ন, তৃণমুলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও দলের একশ্রেণীর দায়িত্বশীল নেতার প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি মাঠের প্রকৃত চিত্র প্রার্থীর কাছে গোপণ রাখা।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত,এসব প্রতিরোধ করে দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী ও প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে টেকনোক্র্যাট কোটায় মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিনকে মন্ত্রী করা হোক। এতে একদিকে যেমন ষড়যন্ত্রকারিদের স্বপ্ন উবে যাবে, অন্যদিকে এর মাধ্যমে এই জনপদের মানুষ বুঝতে পারবে বিএনপির বিপদগামী নেতাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও আবেগের বসবতি হয়ে তারা বিএনপির বিপক্ষে যে ভোট দিয়েছে সেটা তাদের ভুল ছিলো।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 




















