মোঃ আরমান হোসেনঃ
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-এ সরকারি বরাদ্দকৃত রেশন সামগ্রী কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কারাগারের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী নির্ধারিত ব্যক্তিদের ভোগে ব্যবহার না করে বাইরে খোলা বাজারে পাচার করা হচ্ছে।আর এ পাচার কাজের মূল্য হোতা কারারক্ষী রোকন (বিপি-১২৮৩৭)।
সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা যায়, কারারক্ষী রোকন দীর্ঘদিন ধরে একই কারাগারে থাকা অবস্থায় এক বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি করে নিয়েছেন।মাঝে মাঝে বদলি হলেও অনৈতিক লেনদেনে আবারও কাশিমপুরে বারবার ফেরত এসেছেন।নিজের স্ত্রীর নামে কারাগারের প্রধান ফটকের বাইরে দিয়েছেন রেশন পণ্যের পাইকারি ও খুচরা দোকান। এখান থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় কারাগার থেকে অবৈধভাবে বের করা রেশন পণ্য মোড়ক/প্যাকেট পরিবর্তন করে পাইকারি ও খুচরা হিসেবে বিক্রি করে চলেছেন দেদারসে। একজন কারারক্ষী কিভাবে আর কোন অলৌকিক ক্ষমতায় প্রায় দেড় যুগ ধরে বার বার ঘুরে ফিরে একই কারাগারে ফেরত আসে আর নেতৃত্ব দেন এক বিশাল সিন্ডিকেটের?
কারাগারের বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যে চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়, তার একটি বড় অংশ কাগজে-কলমে ব্যবহৃত ও উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তবে তা কারাগারের ভেতরের বন্দী বা কারারক্ষীদের দ্বারা ভোগ/ব্যবহৃত হচ্ছে না। এসব রেশন পণ্য কারারক্ষী হয়েও ব্যবসায়ী বনে যাওয়া রোকনের মাধ্যমে কম দামে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রেশন গ্রহণ, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের যোগসাজশে কারারক্ষী রোকন এই অনিয়ম করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সরকারি হিসাবপত্রে পূর্ণমাত্রায় রেশন উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্দিষ্ট সময় পরপর অস্বাভাবিকভাবে কারারক্ষী রোকন ট্রাক ভরে ভরে কারাগারের ভিতর থেকে রেশন পণ্য বাইরে এনে তা কারাগারের সামনে থাকা নিজের দোকান থেকে বস্তা/প্যাকেট পরিবর্তন করে সরাসরি এবং পাইকারি ভাবে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে।
কারা প্রশাসন সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী, সরকারি রেশন আত্মসাৎ, পাচার বা কালোবাজারে বিক্রি করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, চাকরিচ্যুতি এবং ফৌজদারি মামলার বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মহিলা জেলের জেল সুপার কাওয়ালিন নাহারের সাথে ২ দিনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। পরে ঢাকা বিভাগীয় ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও তার বক্তব্যও পাওয়া যায় নি।
কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় এই কালোবাজারি সিন্ডিকেটের গোড়া কোথায় এবং তা কত বড় সে বিষয়ে যথেষ্ট প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী—কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবসা, বাণিজ্য, কোম্পানি বা লাভজনক কাজে যুক্ত হতে পারবেন না বলা হলেও কারারক্ষী রোকন স্ত্রীর নামে ট্রেড লাইসেন্স করিয়ে নিজেই রেশন পণ্যের এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। পাশাপাশি বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কারাগার থেকে রেশন পণ্য বাইরে বিক্রি করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও অদৃশ্য ক্ষমতায় রোকন এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বহুদিন থেকেই।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ছাড়া এই অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে না। সরকারি সম্পদের সুরক্ষা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
মোঃ আরমান হোসেন, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি 




















