মোঃ আরমান হোসেনঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আবারও প্রকাশ্যে বনভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। খলিসা জানি বিটের আওতাধীন সিরাজপুর এলাকায় সরকারি বনের জমিতে একের পর এক বসতঘর নির্মাণকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগের তীর সরাসরি বিট কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার দিকে—ঘুষ গ্রহণ, গোপন সমঝোতা এবং দখলদারদের প্রশ্রয় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বনের জমি দখল করে স্থায়ী বসতঘর নির্মাণের জন্য নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। ভুক্তভোগী ফাতেমা অভিযোগ করেন, কথিত এক বিএনপি নেতা রুবেলের মাধ্যমে তিনি খলিসা জানি বিট কর্মকর্তাকে ৪০ হাজার টাকা দেন। বিনিময়ে তাকে মৌখিকভাবে ঘর নির্মাণের ‘অনুমতি’ দেওয়া হয় বলে দাবি তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসীর ক্ষোভ, “রক্ষক নাকি ভক্ষক? সরকারি কর্মকর্তাদের টাকা দিলে বনের জমিতে ঘর তোলা যায়, আর টাকা না দিলে উচ্ছেদ অভিযানে সব গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষ ভয়ে ও বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বনভূমি দখলের এক নীরব বাণিজ্য চলছে। প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। বরং অভিযোগ রয়েছে, ‘ম্যানেজ’ হলেই মিলছে ছাড়পত্র। এ বিষয়ে কাচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মাইনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ৫ই আগস্টের পর যেসব ঘর উঠেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, এরপর আর নতুন কোনো ঘর নির্মাণ হচ্ছে না। কেউ চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট স্থান বলার পর রেঞ্জ কর্মকর্তা ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া মেলেনি।
যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের বিরুদ্ধেই যদি দখল ও উৎকোচের অভিযোগ ওঠে- তবে বন রক্ষা করবে কে? সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে বনভূমি দখলের এই দৌরাত্ম্য যে থামবে না- এমন আশঙ্কাই করছেন এলাকাবাসী।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
মোঃ আরমান হোসেন, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি 





















