ঢাকা , সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি: নারী নেতৃত্বে তৃণমূলের আস্থা ও নাজমা আক্তার

জসীমউদ্দীন ইতি:

 

একটি জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না, বরং সেই উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও–এর রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের হলেও, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগ্য ও সাহসী নারী নেতৃত্বের অভাব বারবার অনুভূত হয়েছে। এই শূন্যতা পূরণে বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নামটি সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা আক্তার।

 

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নাজমা আক্তারকে ঘিরে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাশা কেবল আবেগতাড়িত নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক সংগ্রামের ইতিহাস। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে প্রতিকূল পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল, তাতে অনেক বাঘা বাঘা নেতা যখন আত্মগোপনে বা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তখন নাজমা আক্তারের মতো মাঠপর্যায়ের নেত্রীরা রাজপথে থেকে সংগঠনের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অসংখ্য মামলা ও হামলার মোকাবিলা করেও তিনি মাঠ ছাড়েননি—এটি তার রাজনৈতিক দৃঢ়তারই পরিচয় দেয়।

 

হরিপুর উপজেলা পরিষদ–এর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক কাজের গভীরে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি জানেন তৃণমূলের নারীদের সংকট কোথায়। বর্তমানে তিনি যেভাবে সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন, তা একজন জনমুখী নেতার প্রতিচ্ছবি। রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে তার যে ভাবনা, তা ঠাকুরগাঁওয়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আশার আলো।

 

রাজনীতিতে ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি’ এখন একটি দুষ্প্রাপ্য বিষয়। অথচ স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নাজমা আক্তার তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সেই বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসনের মূল উদ্দেশ্যই হলো সেইসব নারীদের সংসদে পাঠানো, যারা সরাসরি ভোটের রাজনীতিতে আসার আগে তৃণমূলের ভিত্তি মজবুত করেছেন এবং যারা নারী সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলতে পারবেন।

 

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন এবং নারীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতৃত্ব। দলীয় হাইকমান্ড যদি তৃণমূলের এই স্পন্দন অনুভব করতে পারে এবং নাজমা আক্তারের মতো পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন করে, তবে তা কেবল একটি রাজনৈতিক দলকেই শক্তিশালী করবে না, বরং ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও পূর্ণ হবে।

 

একটি আধুনিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন ঠাকুরগাঁও গড়তে নাজমা আক্তারের মতো লড়াকু নেতৃত্বের অভিষেক এখন সময়ের দাবি।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) সাথে এমপি চাঁদের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

error: Content is protected !!

ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি: নারী নেতৃত্বে তৃণমূলের আস্থা ও নাজমা আক্তার

আপডেট টাইম : ১২ ঘন্টা আগে
জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :

জসীমউদ্দীন ইতি:

 

একটি জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না, বরং সেই উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও–এর রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের হলেও, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগ্য ও সাহসী নারী নেতৃত্বের অভাব বারবার অনুভূত হয়েছে। এই শূন্যতা পূরণে বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নামটি সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা আক্তার।

 

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নাজমা আক্তারকে ঘিরে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাশা কেবল আবেগতাড়িত নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক সংগ্রামের ইতিহাস। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে প্রতিকূল পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল, তাতে অনেক বাঘা বাঘা নেতা যখন আত্মগোপনে বা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তখন নাজমা আক্তারের মতো মাঠপর্যায়ের নেত্রীরা রাজপথে থেকে সংগঠনের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অসংখ্য মামলা ও হামলার মোকাবিলা করেও তিনি মাঠ ছাড়েননি—এটি তার রাজনৈতিক দৃঢ়তারই পরিচয় দেয়।

 

হরিপুর উপজেলা পরিষদ–এর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক কাজের গভীরে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি জানেন তৃণমূলের নারীদের সংকট কোথায়। বর্তমানে তিনি যেভাবে সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন, তা একজন জনমুখী নেতার প্রতিচ্ছবি। রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে তার যে ভাবনা, তা ঠাকুরগাঁওয়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আশার আলো।

 

রাজনীতিতে ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি’ এখন একটি দুষ্প্রাপ্য বিষয়। অথচ স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নাজমা আক্তার তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সেই বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসনের মূল উদ্দেশ্যই হলো সেইসব নারীদের সংসদে পাঠানো, যারা সরাসরি ভোটের রাজনীতিতে আসার আগে তৃণমূলের ভিত্তি মজবুত করেছেন এবং যারা নারী সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলতে পারবেন।

 

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন এবং নারীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এখন প্রয়োজন অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতৃত্ব। দলীয় হাইকমান্ড যদি তৃণমূলের এই স্পন্দন অনুভব করতে পারে এবং নাজমা আক্তারের মতো পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন করে, তবে তা কেবল একটি রাজনৈতিক দলকেই শক্তিশালী করবে না, বরং ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও পূর্ণ হবে।

 

একটি আধুনিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন ঠাকুরগাঁও গড়তে নাজমা আক্তারের মতো লড়াকু নেতৃত্বের অভিষেক এখন সময়ের দাবি।


প্রিন্ট