ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

রাজশাহীতে রোজার শুরুতেই বাজারে আগুন

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীতে পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই কাঁচাবাজারে আগুন হঠাৎ লেবুর দাম দ্বিগুণ বেড়েছে চারগুণ। মাত্র দিনের ব্যবধানে ২০–২৫ টাকা হালি বিক্রি হওয়া লেবু এখন ৮০–১০০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া ও মুন্ডুমালা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া লেবু এখন অনেকটাই নাগালের বাইরে। লেবু কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতাকেই বিক্রেতাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে।

খেজুর ও শসার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

শুধু লেবুই নয়, গত সাত দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের খেজুরে কেজি প্রতি ৫০–৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সবচেয়ে কম দামের ‘প্রেম’ খেজুর আগে ২২০–২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৩০০ টাকায় উঠেছে। মাঝারি মানের খেজুর, যা কয়েকদিন আগেও ৪০০–৪৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০–৫৩০ টাকায়। মরিয়ম খেজুরের দাম ৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার টাকা কেজি। ইরানি মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।

শসার দামও বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪-৫০ টাকা। সবজির বাজারেও চাপ; সবজির দামও ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে-বেগুন ৭০-৮০ টাকা কেজি,কাঁচা মরিচ দুশ’ টাকা,
টমেটো ৮০ টাকা,লাউ ৪০-৫০ টাকা, নতুন করলা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে পালং শাক ২০ টাকা আঁটি, ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি এবং আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

বাজার করতে আসা মমিন বলেন, “রমজান এলেই একটি বড় সিন্ডিকেট বাজার দখল করে দাম বাড়িয়ে দেয়। দুইদিন আগে যে লেবু ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৮০ টাকা।”আরেক ক্রেতা ময়েন আলী বলেন, “রমজানে যেসব সবজি বেশি প্রয়োজন হয়, সেগুলোর প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। আলু ছাড়া কম দামে কিছুই নেই।”

বিক্রেতাদের দাবি লেবু বিক্রেতা ফয়জুল্লাহ জানান, পাইকারি বাজারেই লেবুর সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। সামনে আরও দাম বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে খেজুরের ক্রয় মূল্যের রশিদ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে রক্তাক্ত কালবেলার সাংবাদিক

error: Content is protected !!

রাজশাহীতে রোজার শুরুতেই বাজারে আগুন

আপডেট টাইম : ৪ ঘন্টা আগে
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীতে পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই কাঁচাবাজারে আগুন হঠাৎ লেবুর দাম দ্বিগুণ বেড়েছে চারগুণ। মাত্র দিনের ব্যবধানে ২০–২৫ টাকা হালি বিক্রি হওয়া লেবু এখন ৮০–১০০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া ও মুন্ডুমালা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া লেবু এখন অনেকটাই নাগালের বাইরে। লেবু কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতাকেই বিক্রেতাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে।

খেজুর ও শসার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

শুধু লেবুই নয়, গত সাত দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের খেজুরে কেজি প্রতি ৫০–৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সবচেয়ে কম দামের ‘প্রেম’ খেজুর আগে ২২০–২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৩০০ টাকায় উঠেছে। মাঝারি মানের খেজুর, যা কয়েকদিন আগেও ৪০০–৪৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০–৫৩০ টাকায়। মরিয়ম খেজুরের দাম ৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার টাকা কেজি। ইরানি মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।

শসার দামও বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪-৫০ টাকা। সবজির বাজারেও চাপ; সবজির দামও ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে-বেগুন ৭০-৮০ টাকা কেজি,কাঁচা মরিচ দুশ’ টাকা,
টমেটো ৮০ টাকা,লাউ ৪০-৫০ টাকা, নতুন করলা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে পালং শাক ২০ টাকা আঁটি, ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি এবং আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

বাজার করতে আসা মমিন বলেন, “রমজান এলেই একটি বড় সিন্ডিকেট বাজার দখল করে দাম বাড়িয়ে দেয়। দুইদিন আগে যে লেবু ৩০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৮০ টাকা।”আরেক ক্রেতা ময়েন আলী বলেন, “রমজানে যেসব সবজি বেশি প্রয়োজন হয়, সেগুলোর প্রায় সবগুলোরই দাম বেড়েছে। আলু ছাড়া কম দামে কিছুই নেই।”

বিক্রেতাদের দাবি লেবু বিক্রেতা ফয়জুল্লাহ জানান, পাইকারি বাজারেই লেবুর সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। সামনে আরও দাম বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে খেজুরের ক্রয় মূল্যের রশিদ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।


প্রিন্ট