মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ
২৬৯ নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবেদীন ফারুকের সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মোঃ মফিজুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার ( ৮ ফেব্রুয়ারী ) সন্ধ্যায় সেনবাগ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের আগে বিকেলে কাজী মোঃ মফিজুর রহমানের নির্বাচনী গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব কাজী মোঃ মফিজুর রহমান বিকেল আনুমানিক ৩টা থেকে সেনবাগ উপজেলার ৬নং কাবিলপুর ইউনিয়নের শরিয়ত উল্লাহ মিয়ার দোকান এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। পরে তিনি আজিজপুর ও সমীর মুন্সিরহাট হয়ে সন্ধ্যায় দিলদার মার্কেট উত্তর বাজার এলাকায় পৌঁছালে তার গাড়িকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ করেন তার সমর্থকরা। তাদের দাবি, এ হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে করা হয়েছে।
গুলির ঘটনার প্রতিবাদে আলহাজ্ব কাজী মোঃ মফিজুর রহমানের সমর্থকরা সেনবাগ পৌর শহর ও বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মফিজুর রহমানের সমর্থকদের অভিযোগ, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুকের অনুসারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এদিকে জয়নুল আবেদিন ফারুকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা গুলির ঘটনায় জড়িত নন এবং এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ফারুকের এক সমর্থক বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি। গুলির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক অপপ্রচার।”
রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুরো সেনবাগ পৌরসভা এলাকা ও বাজার এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ঘটনার পর সেনবাগ বাজার এলাকায় পৃথক পৃথক সাংবাদিক সম্মেলন করেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবেদীন ফারুক এবং স্বতন্ত্র কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী মোঃ মফিজুর রহমান।
আলহাজ্ব কাজী মোঃ মফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আমার নির্বাচনী গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে এবং আমাদের সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অন্যদিকে জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন,“আমরা সহিংসতায় বিশ্বাস করি না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।”
এ ঘটনায় উভয় পক্ষ সেনবাগ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সহিংসতার ঘটনায় নোয়াখালী-২ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি 




















