ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে Logo মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ভবিষ্যতে গড়ে উঠবে বৃদ্ধা আশ্রম

উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কবরস্থানের জমি বুঝে পেল এলাকাবাসী

পিরোজপুর অফিস::

 

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলাধীন ৭নং সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বলেশ্বর নদীর পাড় সংলগ্ন বলতি চর এলাকায় ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কবরস্থান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে কবরস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় জমি নির্ধারণ করে তা এলাকাবাসীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কবরস্থানের জমিতে মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি পুকুরও খনন করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেখমাটিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে ভূমিহীন, গৃহহীন ও নিজস্ব জমিহীন অসহায় মানুষের জন্য কোনো স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কারও মৃত্যু হলে দাফনের স্থান নিয়ে স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

 

বিশেষ করে বলতি চর সংলগ্ন দুইটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আবাসন এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক ভূমিহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশের নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্ট নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

 

এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর পক্ষে রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলী সরদার জেলা প্রশাসক, পিরোজপুর বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কবরস্থানের জরুরি প্রয়োজনের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এলাকার পরিবারহীন ও অসহায় বৃদ্ধদের জন্য ভবিষ্যতে একটি বৃদ্ধা আশ্রম স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।

 

আবেদনের প্রেক্ষিতে নাজিরপুর উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে পরিদর্শন করে বলতি চর এলাকায় কবরস্থানের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে তা এলাকাবাসীর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে প্রাথমিক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়।

 

এলাকাবাসীরা জানান, এ উদ্যোগের ফলে বিশেষ করে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষরা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে কেউ মৃত্যুবরণ করলে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

 

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বৃদ্ধা আশ্রমটি বাস্তবায়িত হলে এটি পরিবারহীন ও অসহায় বৃদ্ধদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠবে।

 

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ উপজেলা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কবরস্থানের জন্য জমি নির্ধারণ ও প্রাথমিক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর চাহিদা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্যান্য মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ মানবিক উদ্যোগ এলাকায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই বৃদ্ধা আশ্রম স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে অসহায় ও অবহেলিত মানুষরা বাস্তব উপকার লাভ করবেন।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (প্রেস) আরিফুর রহমানের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্টিত

error: Content is protected !!

ভবিষ্যতে গড়ে উঠবে বৃদ্ধা আশ্রম

উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কবরস্থানের জমি বুঝে পেল এলাকাবাসী

আপডেট টাইম : ১০ ঘন্টা আগে
হাসান মামুন, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি :

পিরোজপুর অফিস::

 

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলাধীন ৭নং সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বলেশ্বর নদীর পাড় সংলগ্ন বলতি চর এলাকায় ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কবরস্থান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে কবরস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় জমি নির্ধারণ করে তা এলাকাবাসীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কবরস্থানের জমিতে মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি পুকুরও খনন করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেখমাটিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে ভূমিহীন, গৃহহীন ও নিজস্ব জমিহীন অসহায় মানুষের জন্য কোনো স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কারও মৃত্যু হলে দাফনের স্থান নিয়ে স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

 

বিশেষ করে বলতি চর সংলগ্ন দুইটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আবাসন এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক ভূমিহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশের নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্ট নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

 

এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর পক্ষে রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলী সরদার জেলা প্রশাসক, পিরোজপুর বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কবরস্থানের জরুরি প্রয়োজনের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এলাকার পরিবারহীন ও অসহায় বৃদ্ধদের জন্য ভবিষ্যতে একটি বৃদ্ধা আশ্রম স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।

 

আবেদনের প্রেক্ষিতে নাজিরপুর উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে পরিদর্শন করে বলতি চর এলাকায় কবরস্থানের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে তা এলাকাবাসীর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে প্রাথমিক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়।

 

এলাকাবাসীরা জানান, এ উদ্যোগের ফলে বিশেষ করে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষরা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে কেউ মৃত্যুবরণ করলে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

 

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বৃদ্ধা আশ্রমটি বাস্তবায়িত হলে এটি পরিবারহীন ও অসহায় বৃদ্ধদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠবে।

 

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ উপজেলা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কবরস্থানের জন্য জমি নির্ধারণ ও প্রাথমিক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর চাহিদা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্যান্য মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ মানবিক উদ্যোগ এলাকায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই বৃদ্ধা আশ্রম স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে অসহায় ও অবহেলিত মানুষরা বাস্তব উপকার লাভ করবেন।


প্রিন্ট