সেলিম সানোয়ার পলাশঃ
রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলায় এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং অতিরিক্ত দাম দিয়েও সিলেন্ডার না পাওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
স্থানীয় বাজারগুলোতে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দামেও মিলছেনা। সিলিন্ডার না থাকায় ক্রেতাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। বিশেষ করে গৃহস্থালি রান্না, হোটেল-রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান ও বেকারির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ায় বেশীর ভাগ এলাকায় চায়ের দোকান হোটেল বন্ধ হয়ে পড়ছে। গোদাগাড়ী ডাংপাড়া এলাকার চা বিক্রেতা কাজল বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ায় আমার চায়ের দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে।
কয়েকজন চায়ের দোকানদার অভিযোগের সুরে বলেন সিন্ডিকেট করে গ্যাস ব্যবসায়িরা গ্যাসের সংকট সৃষ্টি করছে। গ্যাস ব্যবসায়িরা বেশি দামে কারও কাছে গ্যাস বিক্রি করছে, আবার গ্যাস নাই বলে অনেক ক্রেতাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। যাতে করে বুঝা যায় গ্যাস সংকট রয়েছে।
গোদাগাড়ীতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ পরিবার এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। সংকটের কারণে অনেক পরিবার নিয়মিত রান্না করতে পারছেন না। বিকল্প হিসেবে বাইরে থেকে খাবার কিনতে গিয়ে বাড়ছে সংসার ব্যয়। নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়ছে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপে।
স্থানীয় এক গৃহিণী বলেন, “এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতেই এখন অনেক টাকা লাগে। আবার কিনতে গেলেও পাওয়া যায় না। রান্না করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।” এছাড়া হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র খাদ্য ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের দাম বাড়ায় ও গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। লাভ কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়েগেছে।
সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, দেশে এলপি গ্যাসের মজুদ রয়েছে এবং এটি মূলত কৃত্রিম সংকট। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে তদারকির অভাবও সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলার সাধারণ মানুষ দ্রুত এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা ও নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রিন্ট

মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক 
সেলিম সানোয়ার পলাশ, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















