হুমায়ন আহমেদঃ
এক সময় জমি চাষের ঐতিহ্যবাহী ও চিরায়ত পদ্ধতি ছিল গরু-মহিষ, জোয়াল ও লাঙল দিয়ে হালচাষ। এই পদ্ধতি ছিল পরিবেশবান্ধব ও জমির জন্য অত্যন্ত উপকারী। লাঙলের ফলা জমির গভীর পর্যন্ত মাটি আলগা করত, গরুর পায়ের চাপে জমিতে তৈরি হতো কাদা, আর গরুর গোবর জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার সেই চিরচেনা দৃশ্য আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
একসময় কাক ডাকা ভোরে কৃষকদের কাঁধে লাঙল-জোয়াল আর সঙ্গে বলদ গরু নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়ার দৃশ্য ছিল খুবই পরিচিত। এখন আর লাঙল ও জোয়াল দিয়ে জমি চাষ চোখে পড়ে না বললেই চলে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন, যার প্রভাব পড়েছে কৃষিকাজেও।
আগে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে গরু-মহিষ পালন করতেন হালচাষের জন্য। নিজেদের জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হালচাষ করে তারা সংসারের ব্যয়ভার বহন করতেন। কিন্তু এখন জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যে পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। এতে সময় ও শ্রম কম লাগায় কৃষকরা ঝুঁকছেন আধুনিক পদ্ধতির দিকে। ফলে অনেকেই পেশা বদল করে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলার আইন্দিপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “ছোটবেলায় আমরা হালচাষ করতাম। আমাদের বাড়িতে ২-৩ জোড়া বলদ গরু ছিল। হালচাষের জন্য প্রয়োজন হতো এক জোড়া বলদ, কাঠের তৈরি লাঙল, বাঁশের জোয়াল, মই, লরি (বাঁশের তৈরি গরু তাড়ানোর লাঠি) ও গরুর মুখে টোনা।”
তিনি আরও বলেন, এখন এলাকায় নতুন নতুন আধুনিক মেশিন এসেছে। এসব মেশিন দিয়েই মানুষ জমি চাষ করছে। ফলে গরু, মহিষ, লাঙল ও জোয়াল দিয়ে হালচাষের দৃশ্য প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখন এসব ঐতিহ্য কেবল পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রায় গরুর গাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।
প্রিন্ট

মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক 
হুমায়ন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 





















