জাতীয় ডেস্ক: আগামী পাঁচ বছরে প্রায় এক কোটি কর্মী বিদেশ পাঠানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সম্প্রতি রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই পরিকল্পনার কথা জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের এই মহা-উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈধ উপায়ে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিক্রুটিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এছাড়া গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ আর বিদেশে কোনো অদক্ষ শ্রমিক পাঠাতে ইচ্ছুক নয়। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে দক্ষ ও মানসম্মত কর্মী তৈরির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে বাংলাদেশকে একটি দক্ষ জনশক্তি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে তোলার ওপরও বিশেষ জোর দেন মন্ত্রী।
অবৈধ অভিবাসন এবং হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, অবৈধ পন্থায় বিদেশ যাত্রা এবং অর্থ প্রেরণ দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। কর্মীদের অবশ্যই গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে, যাতে গুটিকয়েক মানুষের অপরাধের দায় পুরো জাতির ওপর না পড়ে। পাশাপাশি, বিদেশগামী সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণাকারী চক্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দেশ বা বিদেশ যেখানেই হোক প্রতারণা বন্ধ না করলে তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা সততা ও বৈধতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করবেন, সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। তবে কোনো এজেন্সি যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে কর্মীদের আর্থিক শোষণ ও হয়রানি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং হয়রানি রোধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণের তাগিদ দেন তিনি।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 
























