ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

পদ্মায় নদীপথের দখল নিয়ে কাকন ও কালু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ

ইসমাইল হোসেন বাবু সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ায় পদ্মায় নদীপথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় নদীতে থাকা জেলে ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে পদ্মা-গড়াই নদীর মোহনা ও পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চর এলাকায় শুরু হওয়া এ বন্দুকযুদ্ধ থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর মহানগর ট্যাক-সংলগ্ন পদ্মা নদীর অপর পাড়ে ডিগ্রির চর এলাকায় স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে অবস্থান নেন কাকন বাহিনীর সদস্যরা। অন্যদিকে, পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চরের কলাবাগান এলাকায় অবস্থান নেয় কালু বাহিনী। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে নদী এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়ন জানিয়েছেন, কাকন বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে একটি ট্রলারে করে এসে গোলাগুলি শুরু করে। পরে বিকেল ৪টার দিকে আরও দুটি নৌকা এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। দুপুর ২টা থেকে কিছুক্ষণ পরপর গুলির শব্দ শোনা যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক গুলির শব্দ শুনেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

গোলাগুলির কারণে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

প্রত্যক্ষদর্শী সবুজ বলেন, থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কাকন বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলির কারণে আমরা আতঙ্কে আছি।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মহানগর ট্যাকে নৌ পুলিশ অবস্থান করলেও নদীর অপর পাড়ে ডিগ্রির চর এলাকায় গোলাগুলি চলতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে নৌ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিউদ্দিন জানান, কারা গুলি করছে, তা জানতে পুলিশের গোয়েন্দা দল কাজ করছে। কাউকে তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমরা শুনেছি, গোলাগুলি হয়েছে। আমাদের লোকজন পাঠিয়েছি, সঙ্গে ঈশ্বরদী থানার টিম রয়েছে। তবে, ঘটনা ঘটেছে, দ্যাট ইজ ট্রু।”

তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের গোলাগুলির সময় কলাবাগান পর্যন্ত নৌ পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা নতুন করে কোনো গুলির শব্দ পাননি।

সন্ধ্যার পর দুই বাহিনীর সদস্যরা ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গোলাগুলির ঘটনায় হতাহত কিংবা কাউকে অপহরণের তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

পদ্মায় নদীপথের দখল নিয়ে কাকন ও কালু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ

আপডেট টাইম : ১০ ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ইসমাইল হোসেন বাবু সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ায় পদ্মায় নদীপথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় নদীতে থাকা জেলে ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে পদ্মা-গড়াই নদীর মোহনা ও পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চর এলাকায় শুরু হওয়া এ বন্দুকযুদ্ধ থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর মহানগর ট্যাক-সংলগ্ন পদ্মা নদীর অপর পাড়ে ডিগ্রির চর এলাকায় স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে অবস্থান নেন কাকন বাহিনীর সদস্যরা। অন্যদিকে, পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চরের কলাবাগান এলাকায় অবস্থান নেয় কালু বাহিনী। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে নদী এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়ন জানিয়েছেন, কাকন বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে একটি ট্রলারে করে এসে গোলাগুলি শুরু করে। পরে বিকেল ৪টার দিকে আরও দুটি নৌকা এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। দুপুর ২টা থেকে কিছুক্ষণ পরপর গুলির শব্দ শোনা যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক গুলির শব্দ শুনেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

গোলাগুলির কারণে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে, সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

প্রত্যক্ষদর্শী সবুজ বলেন, থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কাকন বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলির কারণে আমরা আতঙ্কে আছি।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মহানগর ট্যাকে নৌ পুলিশ অবস্থান করলেও নদীর অপর পাড়ে ডিগ্রির চর এলাকায় গোলাগুলি চলতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে নৌ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিউদ্দিন জানান, কারা গুলি করছে, তা জানতে পুলিশের গোয়েন্দা দল কাজ করছে। কাউকে তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমরা শুনেছি, গোলাগুলি হয়েছে। আমাদের লোকজন পাঠিয়েছি, সঙ্গে ঈশ্বরদী থানার টিম রয়েছে। তবে, ঘটনা ঘটেছে, দ্যাট ইজ ট্রু।”

তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের গোলাগুলির সময় কলাবাগান পর্যন্ত নৌ পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা নতুন করে কোনো গুলির শব্দ পাননি।

সন্ধ্যার পর দুই বাহিনীর সদস্যরা ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গোলাগুলির ঘটনায় হতাহত কিংবা কাউকে অপহরণের তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।