ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

৪৯ দিনের শিশু সাদীর রহস্যজনক মৃত্যু

৪৯ দিন বয়সী ছেলে শিশুর মৃতদেহ টিউবওয়েল পাড়ে রাখা পানি ভর্তি বালতি থেকে উদ্ধার করেছে স্বজনরা। মৃত শিশুটি ঘোষপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুর গ্রামের মামুন মোল্যার ছেলে।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারী) বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুর গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রইস মোল্যার ৪৯ দিন বয়সের নাতি সাদির মৃতদেহ পানি ভর্তি বালতি থেকে উদ্ধার করা হয়। এ রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নানা গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে। কে তাকে রেখে গেলো পানি ভরা বালতিতে। এখনো শিশুটি উপুড় হতে পারেনা। ঘর থেকে ১৫০ মিটার দূরের টিউবওয়েল পাড়ের বালতিতে শিশুটি কি করে গেলো। আর শিশুটিকে মারার কারণই বা কি? এ প্রশ্ন স্থানীয় লোকজনের।

 

মৃত শিশুটির দাদা রইস মোল্যা বলেন, আমার স্ত্রী নাতিকে গোসল করিয়ে ওর মায়ের কাছে ঘুম পাড়িয়ে ডোবরা মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বেলা এগারোটায় কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে ছেলের বউকে ডাকাডাকি করি। সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখি ছেলের স্ত্রীর পাশে নাতি নেই। পরে ছেলের স্ত্রীর কানে পানের বোটা দিয়ে খোচা মারলে, সে তখন চিৎকার দিয়ে উঠে বলছিল আমার ছেলেকে কে যেন নিয়ে গেছে। বলেই সে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে।

 

তখন পাশের বাড়ির লোকজন নিয়ে নাতিকে খোঁজাখুঁজি করে টিউবওয়েল পাড়ে গিয়ে দেখা যায় পানি ভর্তি বালতির ভেতরে নাতির মাথা নিচে পা উপরের দিকে রয়েছে। এ সময় বালতির ভেতর থেকে একটি গেঞ্জি, বিছানার ছোট কাঁথা, ও কম্বল দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করি। এখন কিভাবে এটা হয়েছে, কে বা কারা এটা করেছে তা ছেলের স্ত্রী বলতে পারবে।

 

শিশুটির মা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। পরিবারের লোকজন এ বিষয়ে কোন প্রকার আইনি সহায়তা না নিয়ে জানাযা শেষে রাতে কাফন দাফন সম্পন্ন করেন।

 

রইস মোল্যার দুলা ভাই লোকমান মৃধা বলেন, কেউ ওই শিশুটাকে কাঁথা, কম্বল, ও তাঁর পরণে শীতের টুপি ও জ্যাকেট সহ তাকে বালতিতে কেউ না কেউ রেখে মেরে ফেলেছে। তবে এখন তার মা বলতে পারে কি ঘটেছিল।

 

ঘোষপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, মৃত শিশুর দাদা ফোন করে আমাকে জানান তার নাতি মারা গিয়েছে। ঘটনা স্থলে এসে বিস্তারিত শোনার পরে বিষয়টা মিলাতে পারছিনা কে তাকে মেরে ফেলছে। কেউ সঠিক ভাবে মৃত্যুর কথা বলতে পারছেনা।

 

 

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শেখ সাদিক বলেন, বিষয়টা সম্পর্কে আমার জানা নেই, আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানে হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহযোগীতা চাইলে, তাদের সহযোগীতা করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বোঝা যায় তলেতলে একটা খাতির ছিল: বিএনপি-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত গোলাম পরওয়ারের

error: Content is protected !!

৪৯ দিনের শিশু সাদীর রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪
এস. এম. রবিউল ইসলাম রুবেল, স্টাফ রিপোর্টার :

৪৯ দিন বয়সী ছেলে শিশুর মৃতদেহ টিউবওয়েল পাড়ে রাখা পানি ভর্তি বালতি থেকে উদ্ধার করেছে স্বজনরা। মৃত শিশুটি ঘোষপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুর গ্রামের মামুন মোল্যার ছেলে।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারী) বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুর গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রইস মোল্যার ৪৯ দিন বয়সের নাতি সাদির মৃতদেহ পানি ভর্তি বালতি থেকে উদ্ধার করা হয়। এ রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নানা গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে। কে তাকে রেখে গেলো পানি ভরা বালতিতে। এখনো শিশুটি উপুড় হতে পারেনা। ঘর থেকে ১৫০ মিটার দূরের টিউবওয়েল পাড়ের বালতিতে শিশুটি কি করে গেলো। আর শিশুটিকে মারার কারণই বা কি? এ প্রশ্ন স্থানীয় লোকজনের।

 

মৃত শিশুটির দাদা রইস মোল্যা বলেন, আমার স্ত্রী নাতিকে গোসল করিয়ে ওর মায়ের কাছে ঘুম পাড়িয়ে ডোবরা মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বেলা এগারোটায় কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে ছেলের বউকে ডাকাডাকি করি। সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখি ছেলের স্ত্রীর পাশে নাতি নেই। পরে ছেলের স্ত্রীর কানে পানের বোটা দিয়ে খোচা মারলে, সে তখন চিৎকার দিয়ে উঠে বলছিল আমার ছেলেকে কে যেন নিয়ে গেছে। বলেই সে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে।

 

তখন পাশের বাড়ির লোকজন নিয়ে নাতিকে খোঁজাখুঁজি করে টিউবওয়েল পাড়ে গিয়ে দেখা যায় পানি ভর্তি বালতির ভেতরে নাতির মাথা নিচে পা উপরের দিকে রয়েছে। এ সময় বালতির ভেতর থেকে একটি গেঞ্জি, বিছানার ছোট কাঁথা, ও কম্বল দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করি। এখন কিভাবে এটা হয়েছে, কে বা কারা এটা করেছে তা ছেলের স্ত্রী বলতে পারবে।

 

শিশুটির মা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। পরিবারের লোকজন এ বিষয়ে কোন প্রকার আইনি সহায়তা না নিয়ে জানাযা শেষে রাতে কাফন দাফন সম্পন্ন করেন।

 

রইস মোল্যার দুলা ভাই লোকমান মৃধা বলেন, কেউ ওই শিশুটাকে কাঁথা, কম্বল, ও তাঁর পরণে শীতের টুপি ও জ্যাকেট সহ তাকে বালতিতে কেউ না কেউ রেখে মেরে ফেলেছে। তবে এখন তার মা বলতে পারে কি ঘটেছিল।

 

ঘোষপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, মৃত শিশুর দাদা ফোন করে আমাকে জানান তার নাতি মারা গিয়েছে। ঘটনা স্থলে এসে বিস্তারিত শোনার পরে বিষয়টা মিলাতে পারছিনা কে তাকে মেরে ফেলছে। কেউ সঠিক ভাবে মৃত্যুর কথা বলতে পারছেনা।

 

 

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শেখ সাদিক বলেন, বিষয়টা সম্পর্কে আমার জানা নেই, আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানে হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহযোগীতা চাইলে, তাদের সহযোগীতা করা হবে।