ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সারা দিন একা ঘরবন্দি জীবন কাটে শিশু লাবিবের

ইসমাইল হোসেন বাবু, স্টাফ রিপোর্টার:

চার বছর বয়সী শিশু সালাউদ্দিন লাবিব সমাজের অন্যান্য শিশুর মতো বেড়ে উঠলেও মা-বাবার আদর-স্নেহ থেকে বঞ্চিত। তার বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী, ফলে তিনি ভিক্ষাবৃত্তিতে বের হয়ে পড়েন, এবং মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বাড়িতে মাসের পর মাস থাকেন না। এর ফলে, সারা দিন একা ঘরবন্দি জীবন কাটে লাবিবের। তার জীবন চিত্রটি অত্যন্ত করুণ— এক একাকী, ছন্নছাড়া জীবনযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি।

 

লাবিব কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কামিরহাট গ্রামের মজিবুল ব্যাপারী লিটনের ছেলে। লিটন শারীরিক প্রতিবন্ধী, এবং তার স্ত্রী সালমা খাতুন মানসিকভাবে অসুস্থ। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় সালাউদ্দিন লাবিব। জন্মের পর থেকেই মা-বাবার শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ঘরবন্দি থাকতে হয়। যখন তার বাবা ভিক্ষাবৃত্তি শেষে বাড়ি ফিরে আসেন, তখন তা হয় গভীর রাতে। এই দীর্ঘ সময়টুকু নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে কাটাতে হয় তাকে, আর ক্ষুধায় কষ্ট সহ্য করতে হয়।

 

বাবা ভিক্ষাবৃত্তি করে যা আয় করেন, তা দিয়ে লাবিব এবং তার নিজের জন্য খাবার কিনে আনেন। বাবাকে দেখলেই আনন্দের ঝিলিক বয়ে যায় লাবিবের চোখে, আর তখন বাবা-ছেলে একসঙ্গে খুনশুটি করে সময় কাটায়।

 

জানতে চাইলে, লিটন বলেন, ‘‘সন্তানের জন্য খুব কষ্ট হয়। ঘরে আটকে রেখে ভিক্ষাবৃত্তি করতে বেরিয়ে পড়ি। দিনের বেলা লাবিব ঘরে একাই থাকে। সারাদিন যা আয় হয়, তা দিয়ে দুজনের খাবার কিনে বাড়ি ফেরার পরই সন্তানের মুখে আহার জোটে।’’

 

লিটন আরও জানান, তার স্ত্রী বাড়ি থেকে প্রায়ই চলে যান, এবং মাসের পর মাস কোথায় থাকে তা তিনি জানেন না। মাঝেমধ্যে কেউ তাকে ঘুরতে দেখে বলে জানান। লিটন বলেন, ‘‘আমি জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধী। আমাদের ঘরে লাবিব জন্ম নিলেও তার পরিচর্যা আমি করতে পারি না। আত্মীয়স্বজন কেউই তার পাশে দাঁড়ায় না।’’

 

এছাড়া, লিটন জানান, কিছুদিন আগে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান পেয়েছিলেন, কিন্তু চোর তা চুরি করে নিয়ে গেছে। এখন ভ্যানটি অচল পড়ে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেউ যদি তার ভ্যানের ব্যাটারি কিনে দেন অথবা একটি হুইলচেয়ার কিংবা ছোট মুদি দোকান তৈরি করে দেন, তাহলে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে ছেলেকে কাছে রেখে আয় করতে পারবেন।

 

এ বিষয়ে চা দোকানি আল মামুন বলেন, ‘‘লাবিবের কষ্ট দেখে আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। তবে আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সাধ্য নেই। তাই সমাজের ধনাঢ্যদের কাছে অনুরোধ, এই শিশুর জন্য হলেও যেন পাশে দাঁড়ান।’’

 

প্রতিবেশী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘‘লাবিব ও তার প্রতিবন্ধী বাবা লিটনকে দেখে খুব কষ্ট হয়। লিটন যখন বাইরে যায়, লাবিব একাই থাকে, তাকে আটকে রেখে দেওয়া হয়। তার খাবারও জোটে না যতক্ষণ না তার বাবা ফিরে আসে। এই অবস্থায় তাকে সাহায্য করা হলে লাবিবের ভবিষ্যৎ এবং তার বাবার দিনগুলো সুন্দর হতে পারে।’’

 

আরও পড়ুনঃ রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ঘর থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

 

শিশু লাবিবের করুণ পরিণতির বিষয়টি অবগত হয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিবি করিমুন নেছা। তিনি জানান, ‘‘বিষয়টি খুবই হৃদয়বিদারক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক ঘাম হয় কেন?

error: Content is protected !!

সারা দিন একা ঘরবন্দি জীবন কাটে শিশু লাবিবের

আপডেট টাইম : ০৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৪
ইসমাইল হােসেন বাবু, ষ্টাফ রিপােটার :

ইসমাইল হোসেন বাবু, স্টাফ রিপোর্টার:

চার বছর বয়সী শিশু সালাউদ্দিন লাবিব সমাজের অন্যান্য শিশুর মতো বেড়ে উঠলেও মা-বাবার আদর-স্নেহ থেকে বঞ্চিত। তার বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী, ফলে তিনি ভিক্ষাবৃত্তিতে বের হয়ে পড়েন, এবং মা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বাড়িতে মাসের পর মাস থাকেন না। এর ফলে, সারা দিন একা ঘরবন্দি জীবন কাটে লাবিবের। তার জীবন চিত্রটি অত্যন্ত করুণ— এক একাকী, ছন্নছাড়া জীবনযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি।

 

লাবিব কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কামিরহাট গ্রামের মজিবুল ব্যাপারী লিটনের ছেলে। লিটন শারীরিক প্রতিবন্ধী, এবং তার স্ত্রী সালমা খাতুন মানসিকভাবে অসুস্থ। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় সালাউদ্দিন লাবিব। জন্মের পর থেকেই মা-বাবার শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ঘরবন্দি থাকতে হয়। যখন তার বাবা ভিক্ষাবৃত্তি শেষে বাড়ি ফিরে আসেন, তখন তা হয় গভীর রাতে। এই দীর্ঘ সময়টুকু নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে কাটাতে হয় তাকে, আর ক্ষুধায় কষ্ট সহ্য করতে হয়।

 

বাবা ভিক্ষাবৃত্তি করে যা আয় করেন, তা দিয়ে লাবিব এবং তার নিজের জন্য খাবার কিনে আনেন। বাবাকে দেখলেই আনন্দের ঝিলিক বয়ে যায় লাবিবের চোখে, আর তখন বাবা-ছেলে একসঙ্গে খুনশুটি করে সময় কাটায়।

 

জানতে চাইলে, লিটন বলেন, ‘‘সন্তানের জন্য খুব কষ্ট হয়। ঘরে আটকে রেখে ভিক্ষাবৃত্তি করতে বেরিয়ে পড়ি। দিনের বেলা লাবিব ঘরে একাই থাকে। সারাদিন যা আয় হয়, তা দিয়ে দুজনের খাবার কিনে বাড়ি ফেরার পরই সন্তানের মুখে আহার জোটে।’’

 

লিটন আরও জানান, তার স্ত্রী বাড়ি থেকে প্রায়ই চলে যান, এবং মাসের পর মাস কোথায় থাকে তা তিনি জানেন না। মাঝেমধ্যে কেউ তাকে ঘুরতে দেখে বলে জানান। লিটন বলেন, ‘‘আমি জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধী। আমাদের ঘরে লাবিব জন্ম নিলেও তার পরিচর্যা আমি করতে পারি না। আত্মীয়স্বজন কেউই তার পাশে দাঁড়ায় না।’’

 

এছাড়া, লিটন জানান, কিছুদিন আগে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান পেয়েছিলেন, কিন্তু চোর তা চুরি করে নিয়ে গেছে। এখন ভ্যানটি অচল পড়ে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেউ যদি তার ভ্যানের ব্যাটারি কিনে দেন অথবা একটি হুইলচেয়ার কিংবা ছোট মুদি দোকান তৈরি করে দেন, তাহলে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে ছেলেকে কাছে রেখে আয় করতে পারবেন।

 

এ বিষয়ে চা দোকানি আল মামুন বলেন, ‘‘লাবিবের কষ্ট দেখে আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। তবে আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সাধ্য নেই। তাই সমাজের ধনাঢ্যদের কাছে অনুরোধ, এই শিশুর জন্য হলেও যেন পাশে দাঁড়ান।’’

 

প্রতিবেশী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘‘লাবিব ও তার প্রতিবন্ধী বাবা লিটনকে দেখে খুব কষ্ট হয়। লিটন যখন বাইরে যায়, লাবিব একাই থাকে, তাকে আটকে রেখে দেওয়া হয়। তার খাবারও জোটে না যতক্ষণ না তার বাবা ফিরে আসে। এই অবস্থায় তাকে সাহায্য করা হলে লাবিবের ভবিষ্যৎ এবং তার বাবার দিনগুলো সুন্দর হতে পারে।’’

 

আরও পড়ুনঃ রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ঘর থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

 

শিশু লাবিবের করুণ পরিণতির বিষয়টি অবগত হয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিবি করিমুন নেছা। তিনি জানান, ‘‘বিষয়টি খুবই হৃদয়বিদারক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’