ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের অনিয়ম

শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের যোগসাজশে গোপালগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। গ্ৰাম পর্যায়ের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছেনা, শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসছে না। অনেকে আবার অগ্ৰীম হাজিরা খাতায় স্কাক্ষর করে স্কুল ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকছেন। পাশাপাশি ছুটি না নিয়েও অনেক শিক্ষক ছুটি কাটাচ্ছেন। এতে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গোপালগঞ্জের সচেতন মহল ও শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন শিক্ষা কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও শিক্ষকদের দায়িত্ব ফাকির কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থা হয়েছে।

এদিকে ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রমজান ও ঈদের ছুটির আগে শেষ কার্যদিবসে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা জালালাবাদ ইউনিয়নের চরবড়ফা গ্ৰামের ২০১ নং পারচাপালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেরীনা চৌধুরী (কবিতা) স্কুলে উপস্থিত না থেকে অগ্ৰীম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নিজের উপস্থিতি দেখিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

বিষয়টি জানতে গোপালগঞ্জে কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ কর্মী সরেজমিনে গিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুল কমিটির সভাপতি, ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, অন্যান্য সহকারী শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসী শিক্ষা কর্মকর্তাদের স্কুল তদারকির দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি শিক্ষাদপ্তরের উদ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অধিকতর তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষক মুক্তা খানম ও ফারজানা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, শেরীনা ম্যাডাম আজ স্কুলে আসেনি, কখন কিভাবে হাজিরা খাতায় স্কাক্ষর হয়েছে সেটি আমরা জানিনা।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মারুফ রেজা বলেন, ঐ স্কুলের শিক্ষকদের অনিয়মের কথা আগেও শুনেছি, আগামী মাসিক মিটিংয়ে উপজেলায় উত্থাপন করে শিক্ষা কর্মকর্তাদের নজরে আনা হবে।

এবিষয়ে চন্দ্রদীঘলিয়া ক্লাষ্টারের এটিও বাসুদেব বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, রমজান মাসে এরকম একটু হয়ে থাকে, আমি বিষয়টি দেখছি বলে গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক সহকারী জানান এটিও বাসুদেব বিশ্বাসের যোগসাজশে ঐ ক্লাষ্টারের অনেক শিক্ষকই স্কুল ফাঁকি দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করছে।

এবিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, স্কুলে না এসে অগ্ৰীম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা চাকুরী বিধির পরিপন্থী। আজ থেকে স্কুল বন্ধ হচ্ছে, স্কুল খোলার পর তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় দরবারে ‘পীর’ হত্যা মামলার আসামি রাজিব কারাগারে

error: Content is protected !!

গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের অনিয়ম

আপডেট টাইম : ০৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৩
মুন্সী সাদেকুর রহমান শাহীন, গোপালগঞ্জ অফিস :

শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের যোগসাজশে গোপালগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। গ্ৰাম পর্যায়ের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছেনা, শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসছে না। অনেকে আবার অগ্ৰীম হাজিরা খাতায় স্কাক্ষর করে স্কুল ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকছেন। পাশাপাশি ছুটি না নিয়েও অনেক শিক্ষক ছুটি কাটাচ্ছেন। এতে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গোপালগঞ্জের সচেতন মহল ও শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন শিক্ষা কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও শিক্ষকদের দায়িত্ব ফাকির কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থা হয়েছে।

এদিকে ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রমজান ও ঈদের ছুটির আগে শেষ কার্যদিবসে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা জালালাবাদ ইউনিয়নের চরবড়ফা গ্ৰামের ২০১ নং পারচাপালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেরীনা চৌধুরী (কবিতা) স্কুলে উপস্থিত না থেকে অগ্ৰীম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নিজের উপস্থিতি দেখিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

বিষয়টি জানতে গোপালগঞ্জে কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ কর্মী সরেজমিনে গিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুল কমিটির সভাপতি, ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, অন্যান্য সহকারী শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসী শিক্ষা কর্মকর্তাদের স্কুল তদারকির দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি শিক্ষাদপ্তরের উদ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অধিকতর তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষক মুক্তা খানম ও ফারজানা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, শেরীনা ম্যাডাম আজ স্কুলে আসেনি, কখন কিভাবে হাজিরা খাতায় স্কাক্ষর হয়েছে সেটি আমরা জানিনা।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মারুফ রেজা বলেন, ঐ স্কুলের শিক্ষকদের অনিয়মের কথা আগেও শুনেছি, আগামী মাসিক মিটিংয়ে উপজেলায় উত্থাপন করে শিক্ষা কর্মকর্তাদের নজরে আনা হবে।

এবিষয়ে চন্দ্রদীঘলিয়া ক্লাষ্টারের এটিও বাসুদেব বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, রমজান মাসে এরকম একটু হয়ে থাকে, আমি বিষয়টি দেখছি বলে গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক সহকারী জানান এটিও বাসুদেব বিশ্বাসের যোগসাজশে ঐ ক্লাষ্টারের অনেক শিক্ষকই স্কুল ফাঁকি দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করছে।

এবিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, স্কুলে না এসে অগ্ৰীম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা চাকুরী বিধির পরিপন্থী। আজ থেকে স্কুল বন্ধ হচ্ছে, স্কুল খোলার পর তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রিন্ট