কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় প্রকোপে শিশুসহ সব বয়সীদের ভিড় বাড়ছে ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি ২৩ জন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের তুলনায় শিশুরা বেশি দুর্বল হয়ে পরছে বলে জানালেন হাসপাতালের ইনডোরের ইনচার্জ রোজিনা খাতুন ও নার্স উম্মে রুমানা পারভিন।
মঙ্গলবার (৯মে,)সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে ২৩ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ববিবার ভর্তি হয়েছিলো ২৫জন। আজ মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছে ১৮জন। প্রতিদিনই ১০থেকে ১২জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিসংখন অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। গত ৯ জানুয়ারী থেকে মে,পযন্ত মোট ১৩৯৫জন ডায়রিয়া রুগী ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নেন। পূর্বে রুগীসহ ৯মে, মঙ্গলবার পযন্ত ভর্তি আছে ২৮জন সব বয়সের ডায়রিয়া রুগী। বেশীর ভাগ আক্রান্ত শিশুরা।
ভেড়ামারায় প্রচন্ড গরমে মানুষ যে শুধু ডায়রিয়ায় ভুগছে তা-ই নয়, মানসিক অবসাদগ্রস্ততায় ভুগছে, ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারছে না। জন্ডিস, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড ও ভাইরাসজনিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
গরমের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত এক সপ্তাহে শতাধিক মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালে শয্যা-সংকটের কারণে ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা বিছিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।
চিকিৎসাধীন রোগী ছুম্মা খাতুন বলেন, গত দুদিন ধরে চিকিৎসাধীন আছি। শয্যা না পেয়ে খুব ভোগান্তি হচ্ছে। ওয়ার্ডের পথে ও মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ মে) দুপুরে ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যদি ও ডায়রিয়া রুগীদের জন্য ওয়ার্ড নেই।তবু ও গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্সরা। আর রোগীর স্বজনরা খাওয়ার স্যালাইন ও ওষুধ নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন নার্সদের টেবিলে। শয্যা ও বারান্দায় জায়গা স্বল্পতার কারণে গাদাগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ থেকে ১৩ দিন আগে ডায়রিয়ার রোগী ছিল না বললেই চলে। হঠাৎ করে গরম বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ঋতু পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই শিশু। আক্রান্ত রোগীদের সার্বক্ষণিক নজরে রাখা হচ্ছে।
অত্র উপজেলার ফারাকপুর গ্রামের বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, তাঁর ৩ বছরের শিশুকে দুদিন আগে হাসপাতালে ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
জগশ্বর গ্রামের মিরাজ হোসনে বলেন, তার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূরুল আমীন বলেন, প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রচন্ড গরম পড়ার ফলে শিশুদের খাবার এবং পানির সমস্যার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভেড়ামারা স্বাস্থ্য সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, গরমে রাস্তাঘাটে তৈরি করা লেবুর শরবত পান ও বাসি খাবার গ্রহণ করছে। এসব খাবার ডায়রিয়ার জীবাণুর অন্যতম উৎস। সবাই একসঙ্গে এসব খাবার গ্রহণ করছে এবং ডায়রিয়া রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, করোনাকালে মানুষ নানা ধরনের স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে ছিল। ঘন ঘন হাত পরিস্কার করার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সংক্রমণ কমে আসায় ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার প্রবণতা কমেছে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে খাবার প্রস্তুত, স্পর্শ, পরিবেশন ও খাবার খাওয়ার আগে হাত এবং টয়লেট থেকে বের হয়ে ও বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।তাহলে রোগ কম হবে। ডায়রিয়ায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন ও ঠিকমত ওষুধ খেলেই ভালো হয়ে যাবে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি 
























