ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ভারতীয় আরো ২০ ইঞ্জিন পাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে

বাংলাদেশ রেলওয়েকে অনুদান হিসেবে আরো ২০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) দিচ্ছে ভারত। আজ বিকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ব্রড গেজ ইঞ্জিনগুলো হস্তান্তর করবে ভারত। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকাল ৪টায় লোকোমোটিভ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দুই দেশের রেলমন্ত্রী যোগ দেবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দর্শনা এবং ভারতের গেদে অংশে হস্তান্তর অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের দুই রেলমন্ত্রীর মধ্যে গত বছরের ১ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। একই বছরের ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লির রেলভবনে অনুষ্ঠিত ইন্টার গভর্নমেন্ট রেলওয়ে মিটিংয়ে (আইজিআরএম) বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে দেয়ার বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে ২০২০ সালেও ভারত থেকে ১০টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগেরবার পাওয়া লোকোমোটিভগুলো পশ্চিমাঞ্চলের রুটে চলাচল করছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে সংস্থাটির বহরে থাকা মোট ইঞ্জিনের সংখ্যা ৩০৭। এর মধ্যে ১৯৭টি ইঞ্জিন মিটার গেজ, যার সিংহভাগই চলাচল করছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচল করছে ১১০টি ব্রড গেজ ইঞ্জিন। বর্তমানে প্রায় ৪০০ ট্রেন পরিচালনা করছে রেলওয়ে। এসব ট্রেনের বিপরীতে সচল ইঞ্জিনের সংখ্যা মাত্র ২৭১। স্বভাবতই ইঞ্জিনস্বল্পতায় ভুগছে সংস্থাটি, যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পরিচালনা কার্যক্রম।

অন্যদিকে বহরে থাকা ইঞ্জিনগুলোর মধ্যে সিংহভাগেরই শেষ হয়েছে অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল। রেল ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর নির্ধারিত থাকলেও অধিকাংশ ইঞ্জিনের বয়স পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। পুরনো এসব ইঞ্জিনে কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারছে না সিংহভাগ ট্রেন, কমেছে ইঞ্জিনের কর্মঘণ্টা।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরনো ইঞ্জিনগুলো ঘন ঘন মেরামতের জন্য কারখানায় নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশল (লোকোমোটিভ) শাখার তথ্য বলছে, মেরামতের জন্য ইঞ্জিন কারখানায় নেয়া স্বাভাবিক কার্যক্রমেরই অংশ। তবে এর একটা নির্ধারিত মাত্রা রয়েছে। রেলওয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতিদিন মোট ইঞ্জিনের ৮০ শতাংশ ব্যবহারের জন্য রাখতে হবে। বাকি ২০ শতাংশ থাকবে সার্ভিসিংয়ে। বর্তমানে মেরামত ও ব্যবহার উপযোগী ইঞ্জিনের অনুপাত নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে বেশি থাকছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ব্রড গেজ ইঞ্জিনগুলো রেলের পরিচালন ব্যবস্থায় গতি আনবে বলে মনে করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

রেলওয়েতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুদান হিসেবে বাংলাদেশকে ২০টি ডিজেলচালিত ব্রড গেজ ইঞ্জিন গত বছরের ডিসেম্বরেই বুঝে নেয়ার অনুরোধ জানায় ভারত। কিন্তু প্রক্রিয়াগত কিছু জটিলতায় এতদিন সেগুলো দেশে আসেনি। অবশেষে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০টি লোকোমোটিভ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করছে ভারত।

ভারত যে ২০টি ইঞ্জিন অনুদান হিসেবে দিচ্ছে, এর আগে সেগুলো ভারতে গিয়ে দেখে এসেছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে সাত সদস্যের একটি পরিদর্শক দলকে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অনুদানের লোকোমোটিভগুলো দেখতে ভারতে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। পরিদর্শক দলটি সেসব দেখে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। তাদের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তারা ভারতে ৩৪টি লোকোমোটিভ দেখে এসেছেন। তার মধ্য থেকে কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে ২০টি লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে নেয়ার জন্য নির্বাচন করে এসেছেন।

রেলের একজন কর্মকর্তা জানান, ভারত বাংলাদেশকে যে ২০টি ইঞ্জিন দিচ্ছে, সেগুলো ২০১৭-১৮ সালের দিকে তৈরি করা। ইঞ্জিনগুলো নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রেলপথ, স্টেশন, সিগন্যাল ব্যবস্থাসহ সামগ্রিক রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে কিনা তা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পাদনের পর ব্রড গেজ ইঞ্জিনগুলোর সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের বিস্তারিত (স্পেসিফিকেশন) যাচাই, আমদানি ছাড়পত্র গ্রহণ, কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া বিভাগে চাকরির সুযোগ

error: Content is protected !!

ভারতীয় আরো ২০ ইঞ্জিন পাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে

আপডেট টাইম : ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০২৩
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক :

বাংলাদেশ রেলওয়েকে অনুদান হিসেবে আরো ২০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) দিচ্ছে ভারত। আজ বিকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ব্রড গেজ ইঞ্জিনগুলো হস্তান্তর করবে ভারত। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকাল ৪টায় লোকোমোটিভ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দুই দেশের রেলমন্ত্রী যোগ দেবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দর্শনা এবং ভারতের গেদে অংশে হস্তান্তর অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের দুই রেলমন্ত্রীর মধ্যে গত বছরের ১ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। একই বছরের ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লির রেলভবনে অনুষ্ঠিত ইন্টার গভর্নমেন্ট রেলওয়ে মিটিংয়ে (আইজিআরএম) বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে দেয়ার বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে ২০২০ সালেও ভারত থেকে ১০টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগেরবার পাওয়া লোকোমোটিভগুলো পশ্চিমাঞ্চলের রুটে চলাচল করছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে সংস্থাটির বহরে থাকা মোট ইঞ্জিনের সংখ্যা ৩০৭। এর মধ্যে ১৯৭টি ইঞ্জিন মিটার গেজ, যার সিংহভাগই চলাচল করছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচল করছে ১১০টি ব্রড গেজ ইঞ্জিন। বর্তমানে প্রায় ৪০০ ট্রেন পরিচালনা করছে রেলওয়ে। এসব ট্রেনের বিপরীতে সচল ইঞ্জিনের সংখ্যা মাত্র ২৭১। স্বভাবতই ইঞ্জিনস্বল্পতায় ভুগছে সংস্থাটি, যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পরিচালনা কার্যক্রম।

অন্যদিকে বহরে থাকা ইঞ্জিনগুলোর মধ্যে সিংহভাগেরই শেষ হয়েছে অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল। রেল ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর নির্ধারিত থাকলেও অধিকাংশ ইঞ্জিনের বয়স পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। পুরনো এসব ইঞ্জিনে কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারছে না সিংহভাগ ট্রেন, কমেছে ইঞ্জিনের কর্মঘণ্টা।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরনো ইঞ্জিনগুলো ঘন ঘন মেরামতের জন্য কারখানায় নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশল (লোকোমোটিভ) শাখার তথ্য বলছে, মেরামতের জন্য ইঞ্জিন কারখানায় নেয়া স্বাভাবিক কার্যক্রমেরই অংশ। তবে এর একটা নির্ধারিত মাত্রা রয়েছে। রেলওয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতিদিন মোট ইঞ্জিনের ৮০ শতাংশ ব্যবহারের জন্য রাখতে হবে। বাকি ২০ শতাংশ থাকবে সার্ভিসিংয়ে। বর্তমানে মেরামত ও ব্যবহার উপযোগী ইঞ্জিনের অনুপাত নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে বেশি থাকছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ব্রড গেজ ইঞ্জিনগুলো রেলের পরিচালন ব্যবস্থায় গতি আনবে বলে মনে করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

রেলওয়েতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুদান হিসেবে বাংলাদেশকে ২০টি ডিজেলচালিত ব্রড গেজ ইঞ্জিন গত বছরের ডিসেম্বরেই বুঝে নেয়ার অনুরোধ জানায় ভারত। কিন্তু প্রক্রিয়াগত কিছু জটিলতায় এতদিন সেগুলো দেশে আসেনি। অবশেষে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০টি লোকোমোটিভ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করছে ভারত।

ভারত যে ২০টি ইঞ্জিন অনুদান হিসেবে দিচ্ছে, এর আগে সেগুলো ভারতে গিয়ে দেখে এসেছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে সাত সদস্যের একটি পরিদর্শক দলকে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অনুদানের লোকোমোটিভগুলো দেখতে ভারতে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। পরিদর্শক দলটি সেসব দেখে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। তাদের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তারা ভারতে ৩৪টি লোকোমোটিভ দেখে এসেছেন। তার মধ্য থেকে কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে ২০টি লোকোমোটিভ অনুদান হিসেবে নেয়ার জন্য নির্বাচন করে এসেছেন।

রেলের একজন কর্মকর্তা জানান, ভারত বাংলাদেশকে যে ২০টি ইঞ্জিন দিচ্ছে, সেগুলো ২০১৭-১৮ সালের দিকে তৈরি করা। ইঞ্জিনগুলো নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রেলপথ, স্টেশন, সিগন্যাল ব্যবস্থাসহ সামগ্রিক রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে কিনা তা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পাদনের পর ব্রড গেজ ইঞ্জিনগুলোর সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের বিস্তারিত (স্পেসিফিকেশন) যাচাই, আমদানি ছাড়পত্র গ্রহণ, কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।