জাতীয় ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের কাঠামোগত সংস্কার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধসহ তেরো দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে অবস্থিত নির্ভীক জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং সরকারি নিয়োগে দলীয়করণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে কেবল মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচনের জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে বিগত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, অথচ বর্তমানে প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে নানা ধরনের গড়িমসি লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে বলা হয় যে পিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বিচার বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জ্যেষ্ঠতা ও মেধার মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি, মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক নম্বর দেওয়ার প্রবণতা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী তরুণদের বঞ্চিত করার সংস্কৃতি রাষ্ট্রের সংস্কার অঙ্গীকারের সরাসরি পরিপন্থি বলে মন্তব্য করা হয়।
সরকারি চাকরিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুগত কর্মীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন ছাত্রশিবিরের শীর্ষ এই নেতা। তিনি স্পষ্ট জানান যে চাকরি হলো রাষ্ট্রের সেবা করার একটি বড় দায়িত্ব, তাই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে। কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে যেন কখনোই বঞ্চনার শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে দেড় হাজারের কাছাকাছি প্রার্থীকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই নিয়োগপত্র না দেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পেশ করা তেরো দফা প্রস্তাবের মধ্যে পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন, নবম ও দশম গ্রেডসহ সব সরকারি চাকরি পিএসসির আওতাধীন করা এবং বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশের মাধ্যমে সর্বোচ্চ বারো মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ পনেরো কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা, মৌখিক পরীক্ষার অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে মেধা ও পেশাদারিত্বকে মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেলসহ সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 





















