ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০ টা থেকে আজ বৃহষ্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে পুলিশসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ শটগানের গুলি, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ফাঁটিয়ে বৃহষ্পতিবার দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। উপজেলার তুজারপুর গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
আহতরা যারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন, ইউসুফ ভুইয়া, শেখ শহীদ ও আমিনুর ভুইয়া। এছাড়াও এসআই জুয়েল মিয়া, এসআই আলমগীর, এসআই খলিল ও পুলিশ কনষ্টবল মোঃ ফুরকান, আব্দুল আহাদ, কামরুল ইসলাম ও শিপন সরদার তারা সবাই ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, গত শবে বরাতের রাতে তুজারপুর গ্রামের স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে গিয়াস উদ্দিনের ছেলের সঙ্গে একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিপক্ষ কাউসার মোল্লার ছেলের মধ্যে ঝগড়াসহ মারধরের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তুজারপুর গ্রামের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল শেখের বাড়িতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে, ওই রাতেই দুই পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে রাত সাড়ে ১০ টায় দুই গ্রæপে বিভক্ত হয় এবং দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে এক অপরের উপর হামলা করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শটগানের গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে রাত সাড়ে ৩ টার দিকে সেখানকার পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনে।
এরপর পুনরায় বৃহষ্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে সাড়ে বেলা ১২ টা পর্যন্ত পুনরায় সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষ। একর্পায়ে, সংঘর্ষে দুই পক্ষের লোকজন কয়েকটি মহল্লায় বিভক্ত হয়ে প্রায় ৮ থেকে ৯ শ লোক দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় ও কয়েকটি বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় উভয় পক্ষের প্রায় ২১ জন ও থানা পুলিশের দুই এসআইসহ ৫জন কনষ্টবল আহত হয়। পরে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নেয়।
স্থানীয়রা ও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জনপ্রতিনিধি জানান, এই গ্রামে এমন ঘটনা নতুন নয়। স্থানীয় ওয়াহাব ভুঁইয়ার পক্ষের আবুল কালাম দুলু, ইউপি সদস্য কামরুল শেখ, মোঃ মাওলাদাত ও জাহাঙ্গির মাতব্বরের লোকজন তাদের প্রতিপক্ষ একই গ্রামের ওমর মাতুব্বর, জাহিদ মোল্লা, মোষা মোল্লা, ওমর মাতুব্বর, কাউসার মোল্লা, মজিবর মাতুব্বরের লোকজনের সঙ্গে প্রায়ই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরা দু’পক্ষই স্থানীয় সতন্ত্র এমপি নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক।
ওয়াহাব ভুইয়া ও আবুল কালাম দুলু দাবি করেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপর হামলা করেছে। ওমর মাতুব্বরের ছেলেসহ তাদের দলের অনেকেই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মোবাইল প্রতারকদের মুল হোতা। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই বিভিন্নভাবে হামলার শিকার হতে হয়।
অপর পক্ষের ওমর মাতুব্বর ও জাহিদ মোল্লা জানায়, তারা প্রতিপক্ষকে বিষয়টির মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা রাজি হন নি। বরং তাদের উপর হামলাসহ বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন প্রতিপক্ষের লোকজন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জিয়ারুল ইসলাম জানান, মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে দুই তরুনদের মধ্যে সামান্য ঝগড়া হয়। এ নিয়ে গতকাল বুধবার রাত থেকে আজ বৃহষ্পতিবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দুই পক্ষ। পুলিশ সদস্যরা প্রায় ৪০ রাউন্ড গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ২৫ টি ঢাল, সাড়ে ৫০০ শড়কী ও ৫ পিচ রাঁনদা উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) হেলাল উদ্দিন ভুইয়া জানান, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের মুল হোতা ও এক জনপ্রতিনিধিসহ মোট ১১ জনকে আটক করা হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত এ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয় নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রকৃয়াধীন রয়েছে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সাইদা আক্তার ইমা, বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর 

























