ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

বোয়ালমারীতে পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রতিকী ছবি।

মিজান উর রহমানঃ

 

বোয়ালমারীতে পানিতে ডুবে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চন্দনা-বারাশিয়া নদীতে ডুবে দুই বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে এ হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

 

নিহত শিশুটির নাম হুসাইন শিকদার (২)। শিশুটি ওই গ্রামের মো. তরিকুল ইসলাম ও আরজিনা বেগমের সন্তান।

 

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার থেকে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার সময় শিশু হুসাইন তার দাদী আকলিমা বেগম (৬৫) এর সাথে পাড়ির পাশে রাস্তায় ঘুড়তে আসে। কিছুক্ষণ পর দাদী আকলিমা বেগম হুসাইনকে বাড়িতে পাঠিয়ে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। প্রায় আধা ঘন্টা পর তিনি বাড়িতে এসে জানতে পারেন শিশুটি বাড়িতে আসে নাই। তখই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

 

হুসাইনের মা আরজিনা বেগম জানান, “আমি তখন রান্নাঘরে মাছ কাটছিলাম। ভেবেছিলাম আমার শ্বাশুড়ির সঙ্গে ছেলেটা আছে। পরে শুনি তিনি তাকে রেখে আমার ননদের বাড়িতে গেছেন। তখন নদীর পাড়ে গিয়ে দেখি, ছেলের স্যান্ডেলটা পানিতে ভাসছে”।

 

শিশুর বাবা তরিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কখন যে আমার ছেলেটা নদীতে পড়ে গেছে, আমরা জানি না। ভেবেছিলাম সে তার দাদির সঙ্গে আছে। নদীতে ছেলের স্যান্ডেল ভাসতে দেখে বুকটা কেপে উঠে।”

 

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা প্রায় ৫০-৬০ জন মিলে নদীতে তল্লাশি চালান। খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সকাল সাড়ে দশটা থেকে টানা চার ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান চালায়, তারপরও শিশুটির মরদেহ তখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে ৪-৫ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়েছি। শিশুটির লাশ উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

 

শিশুটি এভাবে নিখোঁজ হওয়ায় নদীর পাড় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে । নিথর হয়ে বসে আছেন শিশু হুসাইনের মা-বাবা। তাঁদের চোখের পানি যেন বাধা মানছে না, তারা বুঝে গেঝেন, ছোট্ট হুসাইনকে আর কোনোদিন কোলে নিতে পারবেন না। কিন্তু পিতা-মাতার মন কিছুতেই তা মানতে পারছে না।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় সংখ্যক কর্মী নেবে সৌদি আরব, আবেদন করবেন যেভাবে

error: Content is protected !!

বোয়ালমারীতে পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
মিজান উর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

মিজান উর রহমানঃ

 

বোয়ালমারীতে পানিতে ডুবে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চন্দনা-বারাশিয়া নদীতে ডুবে দুই বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে এ হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

 

নিহত শিশুটির নাম হুসাইন শিকদার (২)। শিশুটি ওই গ্রামের মো. তরিকুল ইসলাম ও আরজিনা বেগমের সন্তান।

 

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার থেকে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার সময় শিশু হুসাইন তার দাদী আকলিমা বেগম (৬৫) এর সাথে পাড়ির পাশে রাস্তায় ঘুড়তে আসে। কিছুক্ষণ পর দাদী আকলিমা বেগম হুসাইনকে বাড়িতে পাঠিয়ে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। প্রায় আধা ঘন্টা পর তিনি বাড়িতে এসে জানতে পারেন শিশুটি বাড়িতে আসে নাই। তখই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

 

হুসাইনের মা আরজিনা বেগম জানান, “আমি তখন রান্নাঘরে মাছ কাটছিলাম। ভেবেছিলাম আমার শ্বাশুড়ির সঙ্গে ছেলেটা আছে। পরে শুনি তিনি তাকে রেখে আমার ননদের বাড়িতে গেছেন। তখন নদীর পাড়ে গিয়ে দেখি, ছেলের স্যান্ডেলটা পানিতে ভাসছে”।

 

শিশুর বাবা তরিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কখন যে আমার ছেলেটা নদীতে পড়ে গেছে, আমরা জানি না। ভেবেছিলাম সে তার দাদির সঙ্গে আছে। নদীতে ছেলের স্যান্ডেল ভাসতে দেখে বুকটা কেপে উঠে।”

 

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা প্রায় ৫০-৬০ জন মিলে নদীতে তল্লাশি চালান। খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সকাল সাড়ে দশটা থেকে টানা চার ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান চালায়, তারপরও শিশুটির মরদেহ তখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে ৪-৫ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়েছি। শিশুটির লাশ উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

 

শিশুটি এভাবে নিখোঁজ হওয়ায় নদীর পাড় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে । নিথর হয়ে বসে আছেন শিশু হুসাইনের মা-বাবা। তাঁদের চোখের পানি যেন বাধা মানছে না, তারা বুঝে গেঝেন, ছোট্ট হুসাইনকে আর কোনোদিন কোলে নিতে পারবেন না। কিন্তু পিতা-মাতার মন কিছুতেই তা মানতে পারছে না।