প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বের ৩৭টি দেশের শত শত প্রতিভাবান দলকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনন্য এক গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই হ্যাকাথন ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে দেশের তরুণদের গড়া দল ‘জেডএআই বিডি’। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থিত জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রতিযোগিতার বিচারকেরা বাংলাদেশের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন। বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় দেশের এই অভাবনীয় সাফল্যে প্রযুক্তি অঙ্গনসহ গোটা দেশে আনন্দের জোয়ার বইছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি দলটি উদ্ভাবন করেছে ‘ক্লজচেইন’ নামের একটি অত্যাধুনিক এআই প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য সংক্রান্ত আইন এবং বিধিমালা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতাও যাচাই করতে সক্ষম। এই বিশেষ প্রজেক্টটি তৈরির পেছনে মূল নেতৃত্বে ছিলেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কৃতি সন্তান আবু নাছের মুহা. নাফিউ। তাঁর সাথে দলের অন্য মেধাবী সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্পন্ন করেছেন।
জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন বা ইউএনএসকাপের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলা বিভিন্ন ধাপের কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া পেরিয়ে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের মতো শক্তিশালী দেশগুলো চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়। ফাইনাল রাউন্ডে বিচারকদের সরাসরি নানা প্রশ্নের উত্তর ও প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে বাংলাদেশি দলটি।
দলটির এই অর্জনের পেছনে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক বা বিডিরেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের ডেটা সেন্টারের বিশেষ কম্পিউটার সুবিধা ব্যবহার করায় কোনো বিদেশি বাণিজ্যিক এআই সেবার ওপর নির্ভর করতে হয়নি। এদিকে নাফিউয়ের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে তাঁর শৈশবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে চরম উদ্দীপনা। শিক্ষকেরা তাঁর শৈশব থেকেই প্রতিভার কথা স্মরণ করে ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 























