ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: যোগ্য কাজ নেই ৬০% স্নাতকের

অর্থনীতি ডেস্ক: আগামী দুই দশকে বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা না গেলে এই বিশাল জনশক্তি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের শ্রমবাজারের জোগান সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের তুলনায় প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা তরুণদের একটি বড় অংশই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত পেশায় যুক্ত হতে পারছেন না।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার জনমিতিক পরিবর্তনসংক্রান্ত এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, দেশের অর্থনীতিতে তরুণ জনগোষ্ঠীর আধিক্য বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা পাওয়ার সময় আর খুব বেশি অবশিষ্ট নেই। আগামী দুই দশকের মধ্যে কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর পর থেকেই বয়স্ক জনগোষ্ঠীর হার দ্রুত বাড়তে শুরু করবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আগেই প্রবীণদের চিকিৎসাসেবাসহ নানা সামাজিক সুরক্ষার বাড়তি দায়িত্ব সরকারের কাঁধে চেপে বসবে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো মানসম্মত চাকরির তীব্র অভাব এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের অতিমাত্রায় আধিক্য। বর্তমানে দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো অনানুষ্ঠানিক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এসব পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, নির্ধারিত মজুরি কিংবা চাকরির আইনি নিরাপত্তা থাকে না। এমনকি স্নাতক বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী ব্যক্তিদের মধ্যেও ষাট শতাংশের বেশি মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে তাঁদের অর্জিত আয় আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম হয়ে থাকে।

শ্রমবাজারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বেহাল দশা এবং সামাজিক সুরক্ষার অপর্যাপ্ততা নিয়েও প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের চিকিৎসাসেবার একটি বড় অংশ শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ জনপদের মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ভর্তির হার আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে এবং সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই বহুমুখী সংকট উত্তরণে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং শ্রমজীবী মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: যোগ্য কাজ নেই ৬০% স্নাতকের

আপডেট টাইম : ৪৮ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: আগামী দুই দশকে বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা না গেলে এই বিশাল জনশক্তি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের শ্রমবাজারের জোগান সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের তুলনায় প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা তরুণদের একটি বড় অংশই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত পেশায় যুক্ত হতে পারছেন না।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার জনমিতিক পরিবর্তনসংক্রান্ত এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, দেশের অর্থনীতিতে তরুণ জনগোষ্ঠীর আধিক্য বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা পাওয়ার সময় আর খুব বেশি অবশিষ্ট নেই। আগামী দুই দশকের মধ্যে কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর পর থেকেই বয়স্ক জনগোষ্ঠীর হার দ্রুত বাড়তে শুরু করবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা না গেলে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আগেই প্রবীণদের চিকিৎসাসেবাসহ নানা সামাজিক সুরক্ষার বাড়তি দায়িত্ব সরকারের কাঁধে চেপে বসবে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো মানসম্মত চাকরির তীব্র অভাব এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের অতিমাত্রায় আধিক্য। বর্তমানে দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো অনানুষ্ঠানিক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এসব পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, নির্ধারিত মজুরি কিংবা চাকরির আইনি নিরাপত্তা থাকে না। এমনকি স্নাতক বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী ব্যক্তিদের মধ্যেও ষাট শতাংশের বেশি মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে তাঁদের অর্জিত আয় আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম হয়ে থাকে।

শ্রমবাজারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বেহাল দশা এবং সামাজিক সুরক্ষার অপর্যাপ্ততা নিয়েও প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের চিকিৎসাসেবার একটি বড় অংশ শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ জনপদের মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ভর্তির হার আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে এবং সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই বহুমুখী সংকট উত্তরণে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং শ্রমজীবী মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।