ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

আমরা কি ঠিকভাবে বাণিজ্যচুক্তি করতে পারছি

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক বাণিজ্যের শর্তগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আসছেন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিভিন্ন নিয়মকানুন এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে দেশীয় স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নানা মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পর বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত, সেই বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের স্বার্থ এবং স্থানীয় শিল্পপণ্য সুরক্ষার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। অতীতে সম্পাদিত বেশ কিছু বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও কৌশলগত সুবিধার বিষয়টি পুরোপুরি মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধার কারণে আমাদের পণ্যগুলো বৈশ্বিক বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ফলে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।

এই পরিস্থিতি উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও অধিকতর গবেষণা এবং দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছেন অভিজ্ঞ বিশ্লেষকেরা। বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেবল রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই চলবে না, বরং আমদানির ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাত যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত গতিপ্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হলে চুক্তি সম্পাদনের সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে যুগোপযোগী ও কৌশলগত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ Negotiator বা মধ্যস্থতাকারীদের একটি বিশেষ দল গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবেই আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও বেশি গতিশীল ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

আমরা কি ঠিকভাবে বাণিজ্যচুক্তি করতে পারছি

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক বাণিজ্যের শর্তগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আসছেন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিভিন্ন নিয়মকানুন এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে দেশীয় স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নানা মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পর বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত, সেই বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের স্বার্থ এবং স্থানীয় শিল্পপণ্য সুরক্ষার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। অতীতে সম্পাদিত বেশ কিছু বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও কৌশলগত সুবিধার বিষয়টি পুরোপুরি মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধার কারণে আমাদের পণ্যগুলো বৈশ্বিক বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ফলে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।

এই পরিস্থিতি উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও অধিকতর গবেষণা এবং দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছেন অভিজ্ঞ বিশ্লেষকেরা। বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেবল রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই চলবে না, বরং আমদানির ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাত যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত গতিপ্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হলে চুক্তি সম্পাদনের সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে যুগোপযোগী ও কৌশলগত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ Negotiator বা মধ্যস্থতাকারীদের একটি বিশেষ দল গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবেই আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও বেশি গতিশীল ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।