ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

বাবার সাথে শেষ কথা তুই থাকিস আমি আসবনে

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুষ্টিয়ার আশীষ মণ্ডলের মেয়ে আনুশকা মণ্ডল পরী বাবার মরদেহের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলাে ‘যাওয়ার সময় বাবা আমাকে বলেছিল, তুই যাবি নে? আমি বলেছিলাম, না বাবা আমার শরীর খারাপ। বমি হচ্ছে, আমি যাব না। বাবা বলেছিল, আর কোন জায়গায় তোকে নিয়ে যাব না। ওই দিন বাবার সাথে শেষ কথা হয়েছিল। আর কোনো দিন কথা বলতে পারব না বাবার সাথে। বাবা আমারে কয়ে থুয়ে গেছিলো, তুই থাকিস আমি আসবনে।

.

আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে আশীষের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়া শহরের কুমারগাড়া ঘোষপাড়ায় বাড়িতে পৌঁছালে তার স্বজনেরা আহাজারি করে ওঠেন। তাঁকে শেষবারের মতো এক নজর শেষ দেখার জন্য ভিড় করে এলাকাবাসী।

.

বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আশীষের স্ত্রী। স্বজনেরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। সে সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্বশুর মিহির বিশ্বাস। কথা হলে চোখ মুছে তিনি বলেন, ‘গত রোববার কুষ্টিয়া থেকে জামাই (আশীষ) তার ভাইয়ের ছেলে দুর্জয়কে নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার জন্য ঢাকায় বোন-জামাইয়ের বাড়িতে যায়। সেখানে থেকে বোন সাধনা রানী মণ্ডল, ভগ্নিপতি দিলীপ কুমার বিশ্বাস, ভাগনি আরাধ্যা বিশ্বাসসহ কয়েকজন মাইক্রোবাসে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে জামাই, তার বোন ও ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়।

.

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জামাইয়ের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছেছে। এখন কীভাবে চলবে এই পরিবার এই ভেবে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।

.

স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশীষ মণ্ডল স্থানীয় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কর্মস্থলের কাছাকাছি শহরের নিজ বাড়িতেই স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। খুব ছোটবেলায় মামা তাঁকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সূত্রে মামা বাড়ির পাশেই জমি কিনে স্থায়ী বসবাস করছেন।

.

নিহত আশীষ মণ্ডল কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত যতীন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে।

.

এদিকে ভাগনেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মামা গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। কথা হলে তিনি বলেন, আশীষের যখন দেড় বছর বয়স তখন আমি তাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছি। সন্তানের মতো কোলে-পিঠে করে ভাগনেকে বড় করেছি। কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছিল। বিবাহিত জীবনে তার ৯ বছরের একটি মেয়ে আছে। এখন কোথায় যাবে ওরা? ওদের তো আর কেউ থাকল না।।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটে আবার ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ আঁতাত’

error: Content is protected !!

বাবার সাথে শেষ কথা তুই থাকিস আমি আসবনে

আপডেট টাইম : ১১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপাের্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

চট্টগ্রামের জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুষ্টিয়ার আশীষ মণ্ডলের মেয়ে আনুশকা মণ্ডল পরী বাবার মরদেহের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলাে ‘যাওয়ার সময় বাবা আমাকে বলেছিল, তুই যাবি নে? আমি বলেছিলাম, না বাবা আমার শরীর খারাপ। বমি হচ্ছে, আমি যাব না। বাবা বলেছিল, আর কোন জায়গায় তোকে নিয়ে যাব না। ওই দিন বাবার সাথে শেষ কথা হয়েছিল। আর কোনো দিন কথা বলতে পারব না বাবার সাথে। বাবা আমারে কয়ে থুয়ে গেছিলো, তুই থাকিস আমি আসবনে।

.

আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে আশীষের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়া শহরের কুমারগাড়া ঘোষপাড়ায় বাড়িতে পৌঁছালে তার স্বজনেরা আহাজারি করে ওঠেন। তাঁকে শেষবারের মতো এক নজর শেষ দেখার জন্য ভিড় করে এলাকাবাসী।

.

বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আশীষের স্ত্রী। স্বজনেরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। সে সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্বশুর মিহির বিশ্বাস। কথা হলে চোখ মুছে তিনি বলেন, ‘গত রোববার কুষ্টিয়া থেকে জামাই (আশীষ) তার ভাইয়ের ছেলে দুর্জয়কে নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার জন্য ঢাকায় বোন-জামাইয়ের বাড়িতে যায়। সেখানে থেকে বোন সাধনা রানী মণ্ডল, ভগ্নিপতি দিলীপ কুমার বিশ্বাস, ভাগনি আরাধ্যা বিশ্বাসসহ কয়েকজন মাইক্রোবাসে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে জামাই, তার বোন ও ভগ্নিপতির মৃত্যু হয়।

.

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জামাইয়ের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছেছে। এখন কীভাবে চলবে এই পরিবার এই ভেবে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।

.

স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশীষ মণ্ডল স্থানীয় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কর্মস্থলের কাছাকাছি শহরের নিজ বাড়িতেই স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। খুব ছোটবেলায় মামা তাঁকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সূত্রে মামা বাড়ির পাশেই জমি কিনে স্থায়ী বসবাস করছেন।

.

নিহত আশীষ মণ্ডল কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত যতীন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে।

.

এদিকে ভাগনেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মামা গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। কথা হলে তিনি বলেন, আশীষের যখন দেড় বছর বয়স তখন আমি তাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছি। সন্তানের মতো কোলে-পিঠে করে ভাগনেকে বড় করেছি। কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছিল। বিবাহিত জীবনে তার ৯ বছরের একটি মেয়ে আছে। এখন কোথায় যাবে ওরা? ওদের তো আর কেউ থাকল না।।