ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

বানিজ্যিক ভবনের মালিককে অস্ত্র উচিয়ে হুমকি

ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্রসহ ডা. গোলাম কবিরকে থানায় নিলো পুলিশঃ অস্ত্র জব্দ

-ডা. গোলাম কবিরকে অস্ত্রসহ থানায় নেয়া হয়েছে। -ছবিঃ দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শর্টগানসহ ডা. গোলাম কবির নামে ‘জেলা কৃষকলীগ’র এক নেতাকে থানায় নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে জনসম্মুখে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার পৌরসদরের চৌরাস্তা সংলগ্ন খান প্লাজা থেকে তাকে থানায় নেয়া হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পৌরসদরের চৌরাস্তা সংলগ্ন খান প্লাজায় ‘ডা. গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’ নামে ডা. গোলাম কবিরের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। খান প্লাজার মালিক সালমা বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে গণ্ডগোল চলে আসছিল। ঘটনার দিন ডা. গোলাম কবির ও বিল্ডিংয়ের মালিক সালমা বেগমের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ডা. গোলাম কবির শর্টগান প্রদর্শন করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডা. গোলাম কবিরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান চৌধুরী বলেন, ‘গণ্ডাগোল দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখি ডা. গোলাম কবির শর্টগান বের করে গুলি করতে যান। পরে লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।’
বিল্ডিং মালিক সালমা বেগমের মেয়ে জন্নাতুল ফেরদৌস নিপা বলেন, ‘তিনি জোর করে আমাদের ফ্লাট দখল করতে চান। ভাড়া দেন না। ফ্লাটে মেয়েদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ করেন। ভাড়া চাইলে ভয়ভীতি দেখান। শর্টগান নিয়ে আমার মাকে গুলি করতে যান আশপাশের লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’
এ ছাড়া  ডা. গোলাম কবীর নিজেকে ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সহ সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
বিল্ডিং মালিক সালমা বেগম বলেন, ‘ডা. গোলাম কবির কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই আমার একটি ফ্লাট দখল করে রেখেছন। ভাড়া দেন না। তিনি এখন আমার পুরো বিল্ডিং দখল করতে চান। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি ভবনে এলে তার কাছে ভাড়া চাইলে তিনি আমার ও আমার মেয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং শর্টগান দিয়ে আমাকে গুলি করতে যান। আশপাশের লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে পুলিশ অস্ত্রসহ তাকে থানায় নিয়ে যান। আমার জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমি তার শাস্তি দাবি করি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির বলেন, ‘সব মিথ্যা কথা। আমি নতুন অস্ত্র কিনেছি। লাইসেন্স করার জন্য ফরিদপুর ডিসি অফিসে যাচ্ছিলাম। বিল্ডিংয়ের মালিক সালমা বেগম ও তার মেয়ে নিপা আমার ওপর জোরজবরদস্তি করে এবং অস্ত্র কেড়ে নিতে চায়। তখন তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।’
ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষক লীগের জেলা কমিটির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি ভুয়া পরিচয় দেন। তাকে এর আগেও ভুয়া পরিচয় দেওয়া ও কৃষক লীগের নাম ভাঙতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা শোনেন না। তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার কৃষক লীগ বহন করবে না।’
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, ‘আটক নয়, অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। ডা. গোলাম কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তবে এভাবে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানো আইনগত অপরাধ। তার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

বানিজ্যিক ভবনের মালিককে অস্ত্র উচিয়ে হুমকি

ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্রসহ ডা. গোলাম কবিরকে থানায় নিলো পুলিশঃ অস্ত্র জব্দ

আপডেট টাইম : ০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই ২০২৩
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শর্টগানসহ ডা. গোলাম কবির নামে ‘জেলা কৃষকলীগ’র এক নেতাকে থানায় নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে জনসম্মুখে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার পৌরসদরের চৌরাস্তা সংলগ্ন খান প্লাজা থেকে তাকে থানায় নেয়া হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পৌরসদরের চৌরাস্তা সংলগ্ন খান প্লাজায় ‘ডা. গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’ নামে ডা. গোলাম কবিরের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। খান প্লাজার মালিক সালমা বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে গণ্ডগোল চলে আসছিল। ঘটনার দিন ডা. গোলাম কবির ও বিল্ডিংয়ের মালিক সালমা বেগমের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ডা. গোলাম কবির শর্টগান প্রদর্শন করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডা. গোলাম কবিরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান চৌধুরী বলেন, ‘গণ্ডাগোল দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখি ডা. গোলাম কবির শর্টগান বের করে গুলি করতে যান। পরে লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।’
বিল্ডিং মালিক সালমা বেগমের মেয়ে জন্নাতুল ফেরদৌস নিপা বলেন, ‘তিনি জোর করে আমাদের ফ্লাট দখল করতে চান। ভাড়া দেন না। ফ্লাটে মেয়েদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ করেন। ভাড়া চাইলে ভয়ভীতি দেখান। শর্টগান নিয়ে আমার মাকে গুলি করতে যান আশপাশের লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’
এ ছাড়া  ডা. গোলাম কবীর নিজেকে ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সহ সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
বিল্ডিং মালিক সালমা বেগম বলেন, ‘ডা. গোলাম কবির কোনো প্রকার চুক্তি ছাড়াই আমার একটি ফ্লাট দখল করে রেখেছন। ভাড়া দেন না। তিনি এখন আমার পুরো বিল্ডিং দখল করতে চান। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি ভবনে এলে তার কাছে ভাড়া চাইলে তিনি আমার ও আমার মেয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং শর্টগান দিয়ে আমাকে গুলি করতে যান। আশপাশের লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে পুলিশ অস্ত্রসহ তাকে থানায় নিয়ে যান। আমার জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমি তার শাস্তি দাবি করি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির বলেন, ‘সব মিথ্যা কথা। আমি নতুন অস্ত্র কিনেছি। লাইসেন্স করার জন্য ফরিদপুর ডিসি অফিসে যাচ্ছিলাম। বিল্ডিংয়ের মালিক সালমা বেগম ও তার মেয়ে নিপা আমার ওপর জোরজবরদস্তি করে এবং অস্ত্র কেড়ে নিতে চায়। তখন তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।’
ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষক লীগের জেলা কমিটির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি ভুয়া পরিচয় দেন। তাকে এর আগেও ভুয়া পরিচয় দেওয়া ও কৃষক লীগের নাম ভাঙতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি তা শোনেন না। তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার কৃষক লীগ বহন করবে না।’
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, ‘আটক নয়, অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। ডা. গোলাম কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তবে এভাবে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানো আইনগত অপরাধ। তার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’