ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

মায়ের গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ: কোরআনের বিস্ময়কর বর্ণনা

ধর্ম ডেস্ক: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং উন্নত প্রযুক্তি আসার অনেক আগে থেকেই পবিত্র কোরআনে মাতৃগর্ভে মানবশিশু সৃষ্টির প্রতিটি সূক্ষ্ম ধাপ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আধুনিক যুগে মাইক্রোস্কোপ ও আলট্রাসাউন্ড আবিষ্কারের মাধ্যমে মানবভ্রূণের বিকাশের স্তরগুলো উন্মোচিত হলেও, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে এগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বহু আগেই দেওয়া হয়েছিল। সৃষ্টির প্রথম ধাপে পুরুষ ও নারীর কোষের সংমিশ্রণকে কোরআনে মিশ্রিত বীর্য বা নুতফাতুন আমশাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানের দ্বারাসম্পূর্ণ প্রমাণিত।

গর্ভধারণের কিছুদিনের মাথায় ভ্রূণটি জরায়ুর দেয়ালে শক্তভাবে আটকে যায় এবং এই স্তরটিকে কোরআনে আলাকাহ বলা হয়েছে। আরবি এই শব্দটির বিভিন্ন অর্থ রয়েছে যার মধ্যে জোঁক এবং ঝুলে থাকা বস্তু অন্যতম। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়ে ভ্রূণটি দেখতে হুবহু একটি জোঁকের মতো হয় এবং তা মায়ের জরায়ু থেকে রক্ত চুষে নিজের পুষ্টি গ্রহণ করে। এর পরবর্তী ধাপে ভ্রূণটি দাঁতে চিবানো এক টুকরা গোশতপিণ্ডের রূপ নেয়, যাকে কোরআনের পরিভাষায় মুদগাহ বলা হয়েছে এবং এই সময়ে এর পিঠে হাড়ের প্রাথমিক খাঁজ তৈরি হয়।

চিবানো গোশতপিণ্ডের স্তর পেরিয়ে যাওয়ার পর ভ্রূণের ভেতরে প্রথমে কংকাল বা হাড়ের শক্ত কাঠামো তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা মাংসপেশি দ্বারা আবৃত করা হয়। পবিত্র কোরআনে এই ক্রমবিকাশের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেখানে হাড় গঠনের পর পেশিকলা দিয়ে তা ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাফসির গ্রন্থ এবং ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী ভ্রূণের এই শারীরিক কাঠামো তৈরির সুনির্দিষ্ট কিছু সময়সীমা রয়েছে যা বিভিন্ন হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে।

মায়ের গর্ভে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুরক্ষিত তিনটি অন্ধকার আবরণের ভেতরে সম্পন্ন হয়ে থাকে যা ভ্রূণকে নিরাপদ রাখে। এই তিনটি পর্দার মধ্যে রয়েছে মায়ের পেটের দেয়াল, জরায়ুর দেয়াল এবং ভ্রূণের নিজস্ব অ্যামনিওটিক থলি। সবশেষে শারীরিক কাঠামো পুরোপুরি গঠিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে তাতে আত্মা বা রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে ভ্রূণটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবশিশুর রূপ লাভ করে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ: কোরআনের বিস্ময়কর বর্ণনা

error: Content is protected !!

মায়ের গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ: কোরআনের বিস্ময়কর বর্ণনা

আপডেট টাইম : ১১ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ধর্ম ডেস্ক: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং উন্নত প্রযুক্তি আসার অনেক আগে থেকেই পবিত্র কোরআনে মাতৃগর্ভে মানবশিশু সৃষ্টির প্রতিটি সূক্ষ্ম ধাপ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আধুনিক যুগে মাইক্রোস্কোপ ও আলট্রাসাউন্ড আবিষ্কারের মাধ্যমে মানবভ্রূণের বিকাশের স্তরগুলো উন্মোচিত হলেও, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে এগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বহু আগেই দেওয়া হয়েছিল। সৃষ্টির প্রথম ধাপে পুরুষ ও নারীর কোষের সংমিশ্রণকে কোরআনে মিশ্রিত বীর্য বা নুতফাতুন আমশাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানের দ্বারাসম্পূর্ণ প্রমাণিত।

গর্ভধারণের কিছুদিনের মাথায় ভ্রূণটি জরায়ুর দেয়ালে শক্তভাবে আটকে যায় এবং এই স্তরটিকে কোরআনে আলাকাহ বলা হয়েছে। আরবি এই শব্দটির বিভিন্ন অর্থ রয়েছে যার মধ্যে জোঁক এবং ঝুলে থাকা বস্তু অন্যতম। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়ে ভ্রূণটি দেখতে হুবহু একটি জোঁকের মতো হয় এবং তা মায়ের জরায়ু থেকে রক্ত চুষে নিজের পুষ্টি গ্রহণ করে। এর পরবর্তী ধাপে ভ্রূণটি দাঁতে চিবানো এক টুকরা গোশতপিণ্ডের রূপ নেয়, যাকে কোরআনের পরিভাষায় মুদগাহ বলা হয়েছে এবং এই সময়ে এর পিঠে হাড়ের প্রাথমিক খাঁজ তৈরি হয়।

চিবানো গোশতপিণ্ডের স্তর পেরিয়ে যাওয়ার পর ভ্রূণের ভেতরে প্রথমে কংকাল বা হাড়ের শক্ত কাঠামো তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা মাংসপেশি দ্বারা আবৃত করা হয়। পবিত্র কোরআনে এই ক্রমবিকাশের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেখানে হাড় গঠনের পর পেশিকলা দিয়ে তা ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাফসির গ্রন্থ এবং ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী ভ্রূণের এই শারীরিক কাঠামো তৈরির সুনির্দিষ্ট কিছু সময়সীমা রয়েছে যা বিভিন্ন হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে।

মায়ের গর্ভে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুরক্ষিত তিনটি অন্ধকার আবরণের ভেতরে সম্পন্ন হয়ে থাকে যা ভ্রূণকে নিরাপদ রাখে। এই তিনটি পর্দার মধ্যে রয়েছে মায়ের পেটের দেয়াল, জরায়ুর দেয়াল এবং ভ্রূণের নিজস্ব অ্যামনিওটিক থলি। সবশেষে শারীরিক কাঠামো পুরোপুরি গঠিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে তাতে আত্মা বা রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে ভ্রূণটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবশিশুর রূপ লাভ করে।