ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ফরিদপুরের অদম্য মেধাবী নাঈমা সুলতানা পাখিকে কম্পিউটার উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক 

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছায়ানীড় পরিবার এর ধারাবাহিক সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম অংশ হিসেবে সংগঠনের সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অদম্য মেধাবী ও খর্বাকৃতির মোসা: নাইমা সুলতানা পাখিকে (২২) কম্পিউটার (ল্যাপটপ) উপহার দিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল আহসান তালুকদার।
মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটার দিকে মোসা: নাঈমা সুলতানা পাখিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং একটি কম্পিউটার উপহার দেন। এছাড়াও পড়ালেখার পাশাপাশি তার পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে মোসা: নাঈমা সুলতানা পাখি বলেন, আমি প্রথমে ধন্যবাদ জানাই ছায়ানীড় পরিবার নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জাগো নিউজকে। আমাকে শীতবস্ত্র (কম্বল) এবং শিক্ষা উপকরণ বাড়ীতে পৌঁছে দিয়েছে এবং আমার পরিবার ও আমার জীবনের বাস্তব চিত্র নিয়ে একটি প্রতিবেদন করার জন্য। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের প্রতি আমি এবং আমার পরিবার আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন আমার ও আমার পরিবারের স্বপ্ন ও আশা পূরণ করতে পারি।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি “স্বপ্ন ছুঁতে চান পাখি, প্রয়োজন একটি কম্পিউটার” শিরোনামে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। পরে তিনি পাখিকে তার কার্যালয়ে ডেকে একটি কম্পিউটার (ল্যাপটপ) উপহার দেন। এ সময় তার লেখাপড়ার এবং শারীরিক খোঁজ খবর নেন ভবিষ্যতে তাদের পরিবারের পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য। সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারি অদম্য মেধাবী ছাত্রী পাখির স্বপ্ন ছুঁতে প্রয়োজন একটি কম্পিউটার। সে অনুযায়ী তার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ল্যাপটপ উপহার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভালো সব কাজে জেলা প্রশাসন সকলের পাশে থাকে, আগামীতেও থাকবে বলে তিনি জানান।
মোসা: নাইমা সুলতানা পাখি একজন খর্বাকৃতির মানুষ। বয়স ২২ বছর। উচ্চতা মাত্র ২৯ ইঞ্চি। ওজন ২০ কেজি। অভাব অনটনের সংসার তাদের। তবুও বড় হওয়ার স্বপ্ন পূরণে প্রতিনিয়ত করছেন জীবনযুদ্ধ। বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের পড়াশোনা। যুক্ত আছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও। ফরিদপুর সদর উপজেলার শহরতলীর কানাইপুর ইউনিয়নের উলুকান্দা গ্রামের নাদের মাতুব্বর ও সাহিদা বেগম দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে পাখি সবার বড়। গ্রামের স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছেন পাখি।
বর্তমানে ফরিদপুর সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অনার্স (বাংলা) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বাবা নাদের মাতুব্বর একসময় পাট-ভুষী মালের ব্যবসা করতেন। ১২ বছর আগে ব্রেন স্ট্রোক করে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন তিনি। একেবারেই চলাফেরা করতে পারেন না। পাখির মেজো বোন হাফসা আক্তার নার্সিংয়ের ছাত্রী, ছোট বোন সামিয়া সুলতানা নবম শ্রেণিতে পড়ে। সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই। বাবার জমানো কিছু টাকা আর কৃষি জমি বর্গা দিয়ে কোনোমতে চলে তাদের পরিবার। পাখির বাবা অসুস্থ।
নাঈমা সুলতানা পাখি বলেন, সংসারে রোজগারের মতো কেউ নেই। পড়াশোনা তো দূরে থাক ঠিকমতো সংসারই তো চলে না। পদে পদে বাধা। এরপরও কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়া চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষ ছোট হলেও আমার স্বপ্নটা বড়। চাই লেখাপড়া করে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি একটা চাকরি করে পরিবারের হাল ধরতে। বাবা-মা, বোনদের মুখে হাসি ফোটাতে। কারও করুণা কিংবা ভিক্ষা করে নয়, মাথা উঁচু করে বাঁচতে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সমাজের দৃষ্টান্ত হতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিবার ছাড়াও দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমি হাল ছাড়বো না। আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। কিন্তু সমাজের প্রতিবন্ধী হয়ে থাকতে চাই না। পড়াশোনার পাশাপাশি কয়েকটি টেকনিক্যাল কোর্সও করেছি। এখন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। আজ জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে নতুন একটি কম্পিউটার উপহার দিয়েছে আমি অনেক বেশি খুশী হয়েছি এবং মহান আল্লাহর নিকটে শুকরিয়া আদায় করে ডিসি স্যারের জন্য দোয়া কামনা করছি।
ফরিদপুর সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, পাখি অদম্য মেধাবী ছাত্রী। সে বাংলা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সবার সহযোগিতা পেলে অনেক ভালো ফলাফল করবে।
কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, পাখির পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। তার বাবা নাদের মাতুব্বর দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ হয়ে ঘরে শয্যাশায়ী। নিজেদের কিছু জমি বর্গা দেওয়া আছে। তা থেকে যা আসে তা দিয়েই কোনোমতে চলছে ওদের সংসার। বিভিন্ন সময়ে আমি তাদের সাহায্য সহযোগিতা করে থাকি এবং পরিবারের খোঁজ খবর নিতে চেষ্টা করি।
পাখির মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘স্বামী অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘদিন ঘরে পড়ে আছে। তিন মেয়ের পড়াশোনাসহ সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতে খুবই কষ্ট হয়। পাখির স্বপ্ন পড়াশোনা শেষে ভালো সরকারি চাকরি করে সংসারের হাল ধরবে। আজকে ডিসি স্যার আমার মেয়েকে নতুন একটা দামী কম্পিউটার উপহার দিয়েছে আমরা স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠন ছায়ানীড়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ইনামুল হাসান মাসুম বলেন, সুন্দর সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে শান্তিময় দেশ ও জাতি গঠনের প্রত্যয়ে ছায়ানীড় পরিবার এর পথ চলা। সেই ধারাবাহিকতায় ছায়ানীড় সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় আমরা সমাজের অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াই। পাখি একজন অদম্য মেধাবী ছাত্রী। তিনি সমাজের একজন অনুকরণীয়।
তিনি আরো জানান, আমি ১ ডিসেম্বর ২০২২ইং তারিখে আনসার আলী মিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হয়েছি। নতুন চাকরির প্রথম মাসের বেতন গ্রহণ করে আংশিক অর্থ সেবামূলক কাজের জন্য বরাদ্দ দিয়েছি। সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র (কম্বল) এবং ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে নাঈমা সুলতানা পাখির পড়াশোনার জন্য শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করে পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের সাধ্য মতো তার পাশে থাকার চেষ্টা করি। এরপরও তার পাশে দাঁড়াতে সমাজের মানবিক ও বৃত্তবানদের আহ্বান জানাচ্ছি। সকলের দোয়া ও সহোযোগিতায় আগামীতেও আমাদের এই সেবামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে, ইনশাআল্লাহ্।
গত ২৮ জানুয়ারি পাখিকে নিয়ে জাগো নিউজে স্বপ্ন ছুঁতে চান পাখি, প্রয়োজন একটি কম্পিউটার শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

ফরিদপুরের অদম্য মেধাবী নাঈমা সুলতানা পাখিকে কম্পিউটার উপহার দিলেন জেলা প্রশাসক 

আপডেট টাইম : ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩
মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছায়ানীড় পরিবার এর ধারাবাহিক সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম অংশ হিসেবে সংগঠনের সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অদম্য মেধাবী ও খর্বাকৃতির মোসা: নাইমা সুলতানা পাখিকে (২২) কম্পিউটার (ল্যাপটপ) উপহার দিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল আহসান তালুকদার।
মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটার দিকে মোসা: নাঈমা সুলতানা পাখিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং একটি কম্পিউটার উপহার দেন। এছাড়াও পড়ালেখার পাশাপাশি তার পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে মোসা: নাঈমা সুলতানা পাখি বলেন, আমি প্রথমে ধন্যবাদ জানাই ছায়ানীড় পরিবার নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জাগো নিউজকে। আমাকে শীতবস্ত্র (কম্বল) এবং শিক্ষা উপকরণ বাড়ীতে পৌঁছে দিয়েছে এবং আমার পরিবার ও আমার জীবনের বাস্তব চিত্র নিয়ে একটি প্রতিবেদন করার জন্য। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের প্রতি আমি এবং আমার পরিবার আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন আমার ও আমার পরিবারের স্বপ্ন ও আশা পূরণ করতে পারি।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি “স্বপ্ন ছুঁতে চান পাখি, প্রয়োজন একটি কম্পিউটার” শিরোনামে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। পরে তিনি পাখিকে তার কার্যালয়ে ডেকে একটি কম্পিউটার (ল্যাপটপ) উপহার দেন। এ সময় তার লেখাপড়ার এবং শারীরিক খোঁজ খবর নেন ভবিষ্যতে তাদের পরিবারের পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য। সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারি অদম্য মেধাবী ছাত্রী পাখির স্বপ্ন ছুঁতে প্রয়োজন একটি কম্পিউটার। সে অনুযায়ী তার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ল্যাপটপ উপহার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভালো সব কাজে জেলা প্রশাসন সকলের পাশে থাকে, আগামীতেও থাকবে বলে তিনি জানান।
মোসা: নাইমা সুলতানা পাখি একজন খর্বাকৃতির মানুষ। বয়স ২২ বছর। উচ্চতা মাত্র ২৯ ইঞ্চি। ওজন ২০ কেজি। অভাব অনটনের সংসার তাদের। তবুও বড় হওয়ার স্বপ্ন পূরণে প্রতিনিয়ত করছেন জীবনযুদ্ধ। বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের পড়াশোনা। যুক্ত আছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও। ফরিদপুর সদর উপজেলার শহরতলীর কানাইপুর ইউনিয়নের উলুকান্দা গ্রামের নাদের মাতুব্বর ও সাহিদা বেগম দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে পাখি সবার বড়। গ্রামের স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছেন পাখি।
বর্তমানে ফরিদপুর সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অনার্স (বাংলা) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বাবা নাদের মাতুব্বর একসময় পাট-ভুষী মালের ব্যবসা করতেন। ১২ বছর আগে ব্রেন স্ট্রোক করে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন তিনি। একেবারেই চলাফেরা করতে পারেন না। পাখির মেজো বোন হাফসা আক্তার নার্সিংয়ের ছাত্রী, ছোট বোন সামিয়া সুলতানা নবম শ্রেণিতে পড়ে। সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই। বাবার জমানো কিছু টাকা আর কৃষি জমি বর্গা দিয়ে কোনোমতে চলে তাদের পরিবার। পাখির বাবা অসুস্থ।
নাঈমা সুলতানা পাখি বলেন, সংসারে রোজগারের মতো কেউ নেই। পড়াশোনা তো দূরে থাক ঠিকমতো সংসারই তো চলে না। পদে পদে বাধা। এরপরও কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়া চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষ ছোট হলেও আমার স্বপ্নটা বড়। চাই লেখাপড়া করে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি একটা চাকরি করে পরিবারের হাল ধরতে। বাবা-মা, বোনদের মুখে হাসি ফোটাতে। কারও করুণা কিংবা ভিক্ষা করে নয়, মাথা উঁচু করে বাঁচতে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সমাজের দৃষ্টান্ত হতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিবার ছাড়াও দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমি হাল ছাড়বো না। আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। কিন্তু সমাজের প্রতিবন্ধী হয়ে থাকতে চাই না। পড়াশোনার পাশাপাশি কয়েকটি টেকনিক্যাল কোর্সও করেছি। এখন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। আজ জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে নতুন একটি কম্পিউটার উপহার দিয়েছে আমি অনেক বেশি খুশী হয়েছি এবং মহান আল্লাহর নিকটে শুকরিয়া আদায় করে ডিসি স্যারের জন্য দোয়া কামনা করছি।
ফরিদপুর সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, পাখি অদম্য মেধাবী ছাত্রী। সে বাংলা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সবার সহযোগিতা পেলে অনেক ভালো ফলাফল করবে।
কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, পাখির পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। তার বাবা নাদের মাতুব্বর দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ হয়ে ঘরে শয্যাশায়ী। নিজেদের কিছু জমি বর্গা দেওয়া আছে। তা থেকে যা আসে তা দিয়েই কোনোমতে চলছে ওদের সংসার। বিভিন্ন সময়ে আমি তাদের সাহায্য সহযোগিতা করে থাকি এবং পরিবারের খোঁজ খবর নিতে চেষ্টা করি।
পাখির মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘স্বামী অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘদিন ঘরে পড়ে আছে। তিন মেয়ের পড়াশোনাসহ সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতে খুবই কষ্ট হয়। পাখির স্বপ্ন পড়াশোনা শেষে ভালো সরকারি চাকরি করে সংসারের হাল ধরবে। আজকে ডিসি স্যার আমার মেয়েকে নতুন একটা দামী কম্পিউটার উপহার দিয়েছে আমরা স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠন ছায়ানীড়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ইনামুল হাসান মাসুম বলেন, সুন্দর সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে শান্তিময় দেশ ও জাতি গঠনের প্রত্যয়ে ছায়ানীড় পরিবার এর পথ চলা। সেই ধারাবাহিকতায় ছায়ানীড় সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় আমরা সমাজের অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াই। পাখি একজন অদম্য মেধাবী ছাত্রী। তিনি সমাজের একজন অনুকরণীয়।
তিনি আরো জানান, আমি ১ ডিসেম্বর ২০২২ইং তারিখে আনসার আলী মিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হয়েছি। নতুন চাকরির প্রথম মাসের বেতন গ্রহণ করে আংশিক অর্থ সেবামূলক কাজের জন্য বরাদ্দ দিয়েছি। সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র (কম্বল) এবং ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে নাঈমা সুলতানা পাখির পড়াশোনার জন্য শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করে পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের সাধ্য মতো তার পাশে থাকার চেষ্টা করি। এরপরও তার পাশে দাঁড়াতে সমাজের মানবিক ও বৃত্তবানদের আহ্বান জানাচ্ছি। সকলের দোয়া ও সহোযোগিতায় আগামীতেও আমাদের এই সেবামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে, ইনশাআল্লাহ্।
গত ২৮ জানুয়ারি পাখিকে নিয়ে জাগো নিউজে স্বপ্ন ছুঁতে চান পাখি, প্রয়োজন একটি কম্পিউটার শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।