ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন মনিটরিং নীতিমালা, আসছে পরিমার্জিত কারিকুলাম: প্রতিমন্ত্রী ববি

শিক্ষা ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনতে নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কেবল উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি শিশু প্রকৃত অর্থে শিক্ষা গ্রহণ করছে কি না তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নতুন এই মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠদানের মান, বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে মিড-ডে মিলের খাবার বিতরণ করেন এবং এর সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়া সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের মা সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শ্রেণিকক্ষের লাইব্রেরি ও বুক ক্যাপ্টেনদের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পুষ্টি ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয়ের বাগান কার্যক্রম এবং লিটল এগ্রিকালচারিস্ট ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান যে, বর্তমানে দেশের একশটি উপজেলায় এই কার্যক্রম চলছে এবং আগামী বছরের মধ্যে তা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধবপুর উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্যোগে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করতে এই সফর বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার অংশীদারত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচির ভালো দিকগুলো সরকারের নিজস্ব প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এ ছাড়া জগদীশপুর চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিশুদের পুষ্টি ও সামগ্রিক সুস্থতার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই শিক্ষার পরিবেশ পাল্টে দিতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

শিশুদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী আনন্দদায়ক শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড পরিমার্জিত কারিকুলাম তৈরির কাজ করছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। নতুন এই শিক্ষাক্রমে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিখন ঘণ্টার বৈষম্য দূর করা, পাঠদান পদ্ধতিকে আরও বিজ্ঞানসম্মত ও সহজবোধ্য করা এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন মনিটরিং নীতিমালা, আসছে পরিমার্জিত কারিকুলাম: প্রতিমন্ত্রী ববি

error: Content is protected !!

প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন মনিটরিং নীতিমালা, আসছে পরিমার্জিত কারিকুলাম: প্রতিমন্ত্রী ববি

আপডেট টাইম : এই মাত্র
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

শিক্ষা ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনতে নতুন মনিটরিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কেবল উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি শিশু প্রকৃত অর্থে শিক্ষা গ্রহণ করছে কি না তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নতুন এই মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠদানের মান, বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে মিড-ডে মিলের খাবার বিতরণ করেন এবং এর সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়া সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের মা সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শ্রেণিকক্ষের লাইব্রেরি ও বুক ক্যাপ্টেনদের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পুষ্টি ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয়ের বাগান কার্যক্রম এবং লিটল এগ্রিকালচারিস্ট ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান যে, বর্তমানে দেশের একশটি উপজেলায় এই কার্যক্রম চলছে এবং আগামী বছরের মধ্যে তা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধবপুর উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্যোগে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করতে এই সফর বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার অংশীদারত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচির ভালো দিকগুলো সরকারের নিজস্ব প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এ ছাড়া জগদীশপুর চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিশুদের পুষ্টি ও সামগ্রিক সুস্থতার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই শিক্ষার পরিবেশ পাল্টে দিতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

শিশুদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী আনন্দদায়ক শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড পরিমার্জিত কারিকুলাম তৈরির কাজ করছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। নতুন এই শিক্ষাক্রমে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিখন ঘণ্টার বৈষম্য দূর করা, পাঠদান পদ্ধতিকে আরও বিজ্ঞানসম্মত ও সহজবোধ্য করা এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।