ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নড়াইলে এতিম শিশুদের নিয়ে খেজুর রসের পিঠা উৎসব

দেশব্যাপী জেঁকে বসেছে শীত। আর এই শীতকে উপভোগ্য করতে নড়াইলে দেড় শতাধিক এতিম শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা হলো আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর রসের পিঠা উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে মা বাবা হারা এসব এতিম শিশুদের যেন আনন্দের শেষ ছিলো না। নিজেদের হাতে তৈরি পিঠা ভাগাভাগি করে খেয়েছেন তারা। এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। সম্প্রতি ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন করা হয়।
নড়াইল সদর উপজেলার সীমানন্দপুর গ্রামে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ আজিজুর রহমান বালিকা সমাজ সেবা এতিমখানা’। এই এতিমখানায় দুই শতাধিক এতিম শিশুদের বসবাস। সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত এতিম সদস্যের সংখ্যা ১৪০ জন। মা বাবা হারা এসব এতিম শিশুদের কষ্ট লাঘবে আয়োজন করা হয় খেজুর রসে ভেজানো পিঠা উৎসব। এই প্রতিষ্ঠানের মেয়েরা নিজেরাই চাউল দিয়ে গুড়া তৈরি করে, খেজুর রস জ্বালিয়ে পিঠা তৈরি করেছে। সবাই মিলে এক লাইনে বসে তৃপ্তি সহকারে খেয়েছে। এ যেন ভালবাসার একটি বড় পরিবার।
এতিমখানার নিবাসী মদিনা খানম, মাহমুদা খানম, নাঈমা সুলতানা, রূপালী খানম, সুমাইয়া, শান্তা, সাদিয়া, মাসুরা, জাকিয়া, কুলসম, লাবনীসহ একাধিক নিবাসী বলেন, ‘ আমরা বিভিন্ন এলাকার বোনেরা সবাই একসাথে এতিম খানায় বাস করি। আমাদের কারও মা আবার কারও আব্বা নেই। বাড়িতে আর্থিক অবস্থাও ভালো না। আমাদেরকে এই শীতে খেজুর রসের পিঠা খাওয়ানোতে খুব খুশি হয়েছি। অন্যান্য সময়ে বিভিন্ন ফল খাওয়ানো হয়। কিছুদিন আগে আমাদের চিতই পিঠা খাওয়ানো হয়েছিলো।  আমরা নিজেরা আতপ চাউল থেকে গুড়া তৈরি করেছি। খেজুর রস জ্বালিয়ে গাড়ো করে তার মধ্যে পিঠা ভিজিয়ে ভিজা পিঠা তৈরি করেছি। আমরা এক লাইনে বসে এক সাথে খেয়েছি। মাঝে মধ্যে অনেক স্যাররা এসে আমাদের মিষ্টি খাওয়ান।
আবার ভাত-মাংস খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। আমরা সবাই মিলে-মিশে থাকার কারনে মা বাবার কষ্ট ভুলে থাকতে পারি। আমাদের এখানের স্যাররাও আমাদের খুব ভালবাসেন। ’এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক  মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, ‘ নড়াইল সহ দেশের বিভিন্ন  জেলার শিশুরা এই এতিম খানায় বসবাস করে। এখানে দুই শতাধিক মেয়ে রয়েছে। আমরা ১৪০জন এতিম শিশুর জন্য সরকারী অনুদান পেয়ে থাকি। এখানে বসবাসরত শিশুরা আমাদের সন্তান। এদের কারও মা নেই। আবার কারও বাবা নেই। অনেকের বাবা মা কেউ নেই। বাড়ির আর্থিক অবস্থাও ভাল না। তাই তাদের চাহিদা আমরা পূরণ করার চেষ্টা করি। ওরা যাতে কষ্ট না পায় সেজন্যই খেজুর রসের ভিজা পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে আগে চিতই পিঠার উৎসব করা হয়। এতে আমার খুব ভালো লাগে। এছাড়া মৌসুম অনুযায়ী ফল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।  এসব নিবাসীরা বয়স ভেদে প্রাথমিক বিদ্যালয়,  স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে অধ্যায়ন করে।
এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা চন্ডিবরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘ বর্তমান দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধগতির কারনে খরচ বহন করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাকি সব এতিমদের ভরণ-পোষণ বিত্তবানদের সহযোগিতায় চলে। এতিম শিশুদের লালন-পালন ও জীবনমান উন্নয়নে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা
প্রয়োজন।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খোকসায় ট্রাক-নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

error: Content is protected !!

নড়াইলে এতিম শিশুদের নিয়ে খেজুর রসের পিঠা উৎসব

আপডেট টাইম : ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী ২০২১
খন্দকার সাইফুল্লা আল মাহমুদ, নড়াইল প্রতিনিধিঃ :
দেশব্যাপী জেঁকে বসেছে শীত। আর এই শীতকে উপভোগ্য করতে নড়াইলে দেড় শতাধিক এতিম শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা হলো আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর রসের পিঠা উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে মা বাবা হারা এসব এতিম শিশুদের যেন আনন্দের শেষ ছিলো না। নিজেদের হাতে তৈরি পিঠা ভাগাভাগি করে খেয়েছেন তারা। এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। সম্প্রতি ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন করা হয়।
নড়াইল সদর উপজেলার সীমানন্দপুর গ্রামে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ আজিজুর রহমান বালিকা সমাজ সেবা এতিমখানা’। এই এতিমখানায় দুই শতাধিক এতিম শিশুদের বসবাস। সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত এতিম সদস্যের সংখ্যা ১৪০ জন। মা বাবা হারা এসব এতিম শিশুদের কষ্ট লাঘবে আয়োজন করা হয় খেজুর রসে ভেজানো পিঠা উৎসব। এই প্রতিষ্ঠানের মেয়েরা নিজেরাই চাউল দিয়ে গুড়া তৈরি করে, খেজুর রস জ্বালিয়ে পিঠা তৈরি করেছে। সবাই মিলে এক লাইনে বসে তৃপ্তি সহকারে খেয়েছে। এ যেন ভালবাসার একটি বড় পরিবার।
এতিমখানার নিবাসী মদিনা খানম, মাহমুদা খানম, নাঈমা সুলতানা, রূপালী খানম, সুমাইয়া, শান্তা, সাদিয়া, মাসুরা, জাকিয়া, কুলসম, লাবনীসহ একাধিক নিবাসী বলেন, ‘ আমরা বিভিন্ন এলাকার বোনেরা সবাই একসাথে এতিম খানায় বাস করি। আমাদের কারও মা আবার কারও আব্বা নেই। বাড়িতে আর্থিক অবস্থাও ভালো না। আমাদেরকে এই শীতে খেজুর রসের পিঠা খাওয়ানোতে খুব খুশি হয়েছি। অন্যান্য সময়ে বিভিন্ন ফল খাওয়ানো হয়। কিছুদিন আগে আমাদের চিতই পিঠা খাওয়ানো হয়েছিলো।  আমরা নিজেরা আতপ চাউল থেকে গুড়া তৈরি করেছি। খেজুর রস জ্বালিয়ে গাড়ো করে তার মধ্যে পিঠা ভিজিয়ে ভিজা পিঠা তৈরি করেছি। আমরা এক লাইনে বসে এক সাথে খেয়েছি। মাঝে মধ্যে অনেক স্যাররা এসে আমাদের মিষ্টি খাওয়ান।
আবার ভাত-মাংস খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। আমরা সবাই মিলে-মিশে থাকার কারনে মা বাবার কষ্ট ভুলে থাকতে পারি। আমাদের এখানের স্যাররাও আমাদের খুব ভালবাসেন। ’এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক  মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, ‘ নড়াইল সহ দেশের বিভিন্ন  জেলার শিশুরা এই এতিম খানায় বসবাস করে। এখানে দুই শতাধিক মেয়ে রয়েছে। আমরা ১৪০জন এতিম শিশুর জন্য সরকারী অনুদান পেয়ে থাকি। এখানে বসবাসরত শিশুরা আমাদের সন্তান। এদের কারও মা নেই। আবার কারও বাবা নেই। অনেকের বাবা মা কেউ নেই। বাড়ির আর্থিক অবস্থাও ভাল না। তাই তাদের চাহিদা আমরা পূরণ করার চেষ্টা করি। ওরা যাতে কষ্ট না পায় সেজন্যই খেজুর রসের ভিজা পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে আগে চিতই পিঠার উৎসব করা হয়। এতে আমার খুব ভালো লাগে। এছাড়া মৌসুম অনুযায়ী ফল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।  এসব নিবাসীরা বয়স ভেদে প্রাথমিক বিদ্যালয়,  স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে অধ্যায়ন করে।
এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা চন্ডিবরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘ বর্তমান দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধগতির কারনে খরচ বহন করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাকি সব এতিমদের ভরণ-পোষণ বিত্তবানদের সহযোগিতায় চলে। এতিম শিশুদের লালন-পালন ও জীবনমান উন্নয়নে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা
প্রয়োজন।