ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

নাসিরনগরের মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ !

মোঃ ইপাজ খাঁঃ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার এমপিওভুক্ত খান্দুরা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা গত ২৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, টানা তিন বছর ধরে মাদ্রাসার বাজেটভুক্ত কোনো ধরনের মেরামত বা উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফান্ডের বিপুল পরিমাণ টাকার হিসাবও পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগকারীদের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ ম্যানেজিং কমিটির নাম ব্যবহার করে কোনো বৈধ সভা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সুপার জহিরুল ইসলাম। এমনকি স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, সুপার মাদ্রাসার বিভিন্ন খাতের অর্থ এককভাবে ব্যবহার করছেন এবং কোনোভাবে স্বচ্ছ হিসাব দিচ্ছেন না। ভর্তির টাকা, মাঠ সংস্কার, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সহ নানা আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, মানসিক নির্যাতন এবং অপমানজনক ভাষা ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেছে অভিযোগকারীরা।

এছাড়া শিক্ষক বদলি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন শিক্ষক–কর্মচারীরা। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের। চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলেও তা অফিসিয়াল রেকর্ডে দেখানো হয়নি।

শিক্ষকরা জানান, এসব অনিয়মের কারণে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে; শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে সুপারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাব ব্যবহার করে সুপার তাদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছেন।

অভিযুক্ত সুপার জহিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। অভিযোগগুলোর কোনো প্রমাণ নেই। কারও অভিযোগ থাকলে আমি তার সমাধান করে দেব।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য বলেন, “এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা হওয়ায় আমাদের এখতিয়ার সীমিত। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

এ বিষয়ে নাসিরনগরের ইউএনও শাহিনা নাসরিন বলেন, “শিক্ষকরা একবার নিজেদের মধ্যে বসে আপসের চেষ্টা করেছিলেন। গুরুতর অভিযোগগুলো যাচাই করে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

error: Content is protected !!

নাসিরনগরের মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ !

আপডেট টাইম : ১২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
মোঃ ইপাজ খাঁ, মাধবপুর ( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

মোঃ ইপাজ খাঁঃ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার এমপিওভুক্ত খান্দুরা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা গত ২৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, টানা তিন বছর ধরে মাদ্রাসার বাজেটভুক্ত কোনো ধরনের মেরামত বা উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফান্ডের বিপুল পরিমাণ টাকার হিসাবও পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগকারীদের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ ম্যানেজিং কমিটির নাম ব্যবহার করে কোনো বৈধ সভা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সুপার জহিরুল ইসলাম। এমনকি স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, সুপার মাদ্রাসার বিভিন্ন খাতের অর্থ এককভাবে ব্যবহার করছেন এবং কোনোভাবে স্বচ্ছ হিসাব দিচ্ছেন না। ভর্তির টাকা, মাঠ সংস্কার, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সহ নানা আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, মানসিক নির্যাতন এবং অপমানজনক ভাষা ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেছে অভিযোগকারীরা।

এছাড়া শিক্ষক বদলি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন শিক্ষক–কর্মচারীরা। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের। চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলেও তা অফিসিয়াল রেকর্ডে দেখানো হয়নি।

শিক্ষকরা জানান, এসব অনিয়মের কারণে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে; শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে সুপারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাব ব্যবহার করে সুপার তাদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছেন।

অভিযুক্ত সুপার জহিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। অভিযোগগুলোর কোনো প্রমাণ নেই। কারও অভিযোগ থাকলে আমি তার সমাধান করে দেব।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য বলেন, “এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা হওয়ায় আমাদের এখতিয়ার সীমিত। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

এ বিষয়ে নাসিরনগরের ইউএনও শাহিনা নাসরিন বলেন, “শিক্ষকরা একবার নিজেদের মধ্যে বসে আপসের চেষ্টা করেছিলেন। গুরুতর অভিযোগগুলো যাচাই করে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”