এস. এম সালমান কবীর হৃদয়ঃ
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ৯ বছর বয়সী শিশু কন্যা আমেনা খাতুনকে নৃশংসভাবে হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পাঠান মির্জাপুর চৌমুহনী এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা শিশু আমেনা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্ত হোসেনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হলে সমাজে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, একশ্রেণির লোক আসামি হোসেনকে মানসিক প্রতিবন্ধী বা মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে উল্লেখ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইতিমধ্যে মেডিকেল পরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছে, সে কোনো মানসিক প্রতিবন্ধী নয় বা ভারসাম্যহীন নয় বলে তারা দাবি করেন। আসামিকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে দেখিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে শিশু আমেনাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত হোসেন মূলত একজন মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তির কারণে সে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, শিশু আমেনা হত্যার ঘটনায় কোনো ধরনের প্রভাব, তদবির কিংবা আসামিকে বাঁচানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকারী হোসেনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ফাঁসির দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ রোজ শুক্রবার বিকেল ৩ ঘটিকায় নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পাঠান মির্জাপুর চৌমুহনী এলাকার পাঠান গ্রামে শিশু কন্যা আমেনা খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানা যায়। নিহত আমেনা ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের কন্যা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশু আমেনা বাড়ির বাইরে খেলাধুলা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত হোসেন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত হোসেনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, শিশু আমেনা হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা সোচ্চার থাকবেন। তারা দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতের মাধ্যমে হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আসামির মানসিক অবস্থা ও মাদকাসক্তির অভিযোগও যথাযথভাবে যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
শিশু আমেনা হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসীর একটাই দাবি—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব 
এস. এম সালমান কবীর হৃদয় 




















