ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

দৌলতপুরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাবার পর মারা গেল ছেলেও

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে বাবার মৃত্যুর পর মারা গেলেন ছেলে ফারুক মণ্ডলও (২২)। এনিয়ে এই ঘটনায় মারা গেলেন ৩ জন।আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন আরও একজন।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়েছে।

এরআগে রোববার (৩০ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে মারা যান ফারুকের বাবা দীনি মণ্ডল। আর ওইদিন দুপুরে মারা যান আক্তার মণ্ডল।

স্বজনরা জানান, ফারুক নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। তিন ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সবার ছোট ও অবিবাহিত ছিলেন তিনি।

ফারুকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মৃত ফারুক মণ্ডলের শরীরে ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এই ঘটনায় একই হাসপাতালে ভর্তি থাকা তাদের প্রতিবেশী সাইদুল কাজীর (৩৫) অবস্থাও গুরুতর।

এছাড়া এই ঘটনায় কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছেন ফজলুল মণ্ডল (৫০) নামে আরও একজন।

ফারুক মণ্ডলের চাচাতো ভাই আল মামুন জানান, তাদের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ইউনিয়নের আমদানি ঘাট এলাকায়। গত দুই মাস ধরে একই ইউনিয়নের খাঁ ও শিকদার গোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিলো তাদের।

তিনি বলেন, ওই পক্ষ আমাদের কয়েকজনকে মারধর করে। সেই ঘটনায় আমরা দৌলতপুর থানায় মামলা করি। গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে তার চাচা দীনি মণ্ডল, চাচাতো ভাই ফারুকসহ কয়েকজন চিলমারি বাজারে গেলে খাঁ ও শিকদার গোষ্ঠীর লোকজন লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে ধাওয়া করে।

ধাওয়া খেয়ে চিলমারি বাজার মোজাম্মেল মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন তারা। এসময় দেড় থেকে দুইশ লোক সেই ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ও পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পাঁচটি ঘর পুড়ে যায়। কয়েকজন দগ্ধ হন। এছাড়া কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ৪ জনকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ও ফজলুল মণ্ডলকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আদালতের নির্দেশের পরও বিরোধপূর্ণ বাড়িতে বসবাস

error: Content is protected !!

দৌলতপুরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাবার পর মারা গেল ছেলেও

আপডেট টাইম : ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০২৩
ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে বাবার মৃত্যুর পর মারা গেলেন ছেলে ফারুক মণ্ডলও (২২)। এনিয়ে এই ঘটনায় মারা গেলেন ৩ জন।আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন আরও একজন।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়েছে।

এরআগে রোববার (৩০ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে মারা যান ফারুকের বাবা দীনি মণ্ডল। আর ওইদিন দুপুরে মারা যান আক্তার মণ্ডল।

স্বজনরা জানান, ফারুক নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। তিন ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সবার ছোট ও অবিবাহিত ছিলেন তিনি।

ফারুকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মৃত ফারুক মণ্ডলের শরীরে ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এই ঘটনায় একই হাসপাতালে ভর্তি থাকা তাদের প্রতিবেশী সাইদুল কাজীর (৩৫) অবস্থাও গুরুতর।

এছাড়া এই ঘটনায় কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছেন ফজলুল মণ্ডল (৫০) নামে আরও একজন।

ফারুক মণ্ডলের চাচাতো ভাই আল মামুন জানান, তাদের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ইউনিয়নের আমদানি ঘাট এলাকায়। গত দুই মাস ধরে একই ইউনিয়নের খাঁ ও শিকদার গোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিলো তাদের।

তিনি বলেন, ওই পক্ষ আমাদের কয়েকজনকে মারধর করে। সেই ঘটনায় আমরা দৌলতপুর থানায় মামলা করি। গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে তার চাচা দীনি মণ্ডল, চাচাতো ভাই ফারুকসহ কয়েকজন চিলমারি বাজারে গেলে খাঁ ও শিকদার গোষ্ঠীর লোকজন লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে ধাওয়া করে।

ধাওয়া খেয়ে চিলমারি বাজার মোজাম্মেল মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন তারা। এসময় দেড় থেকে দুইশ লোক সেই ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ও পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পাঁচটি ঘর পুড়ে যায়। কয়েকজন দগ্ধ হন। এছাড়া কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ৪ জনকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ও ফজলুল মণ্ডলকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।