ঢাকা , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

জুলাই–অক্টোবরে রপ্তানি আয় ১৭.০৪ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর সময়কালে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অর্জনের পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই ব্যবধানে বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানি আয় প্রায় ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা বয়ে এনেছে।

এই সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ দশমিক চার শতাংশই এসেছে এই পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সাত দশমিক একাত্তর বিলিয়ন ডলারে এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি চার দশমিক আট শতাংশ বেড়ে ছয় বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সামগ্রিক রপ্তানির মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় একষট্টি শতাংশই এই দুই উপখাতের হাত ধরে অর্জিত হয়েছে যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পোশাক শিল্পের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রমাণ করে।

পোশাক শিল্পের পাশাপাশি বেশ কিছু অ-পোশাক খাতের পণ্য রপ্তানিতেও চমৎকার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রায় চব্বিশ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে প্রায় তেরো শতাংশ এবং রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানিতে সাতাশ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া হোম টেক্সটাইল এবং পাদুকা শিল্পের রপ্তানিও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে যা রপ্তানি বাণিজ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে একটি শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই সামগ্রিক অর্জনের মাঝেও কৃষিপণ্য, হিমায়িত মাছ এবং তুলাজাত কিছু পণ্যের রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি বা পতন দেখা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, রপ্তানি আয়ের এই ধারাবাহিক ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে পণ্যের গুণগত মান আরও উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন নতুন গন্তব্যে বাজার সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যে খাতগুলোতে সাময়িকভাবে রপ্তানি কমে গেছে, সেগুলোর মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সঠিক নীতিনির্ধারণ এবং সময়োপযোগী সহায়তার মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাত আরও সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের কেন সক্রিয় হতে হবে

error: Content is protected !!

জুলাই–অক্টোবরে রপ্তানি আয় ১৭.০৪ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর সময়কালে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অর্জনের পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই ব্যবধানে বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানি আয় প্রায় ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা বয়ে এনেছে।

এই সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ দশমিক চার শতাংশই এসেছে এই পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সাত দশমিক একাত্তর বিলিয়ন ডলারে এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি চার দশমিক আট শতাংশ বেড়ে ছয় বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সামগ্রিক রপ্তানির মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় একষট্টি শতাংশই এই দুই উপখাতের হাত ধরে অর্জিত হয়েছে যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পোশাক শিল্পের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রমাণ করে।

পোশাক শিল্পের পাশাপাশি বেশ কিছু অ-পোশাক খাতের পণ্য রপ্তানিতেও চমৎকার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রায় চব্বিশ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে প্রায় তেরো শতাংশ এবং রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানিতে সাতাশ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া হোম টেক্সটাইল এবং পাদুকা শিল্পের রপ্তানিও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে যা রপ্তানি বাণিজ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে একটি শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই সামগ্রিক অর্জনের মাঝেও কৃষিপণ্য, হিমায়িত মাছ এবং তুলাজাত কিছু পণ্যের রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি বা পতন দেখা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, রপ্তানি আয়ের এই ধারাবাহিক ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে পণ্যের গুণগত মান আরও উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন নতুন গন্তব্যে বাজার সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যে খাতগুলোতে সাময়িকভাবে রপ্তানি কমে গেছে, সেগুলোর মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সঠিক নীতিনির্ধারণ এবং সময়োপযোগী সহায়তার মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাত আরও সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।