ঢাকা , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

দরকার ২০ লাখ, ব্যাংক দিতে চায় ৫ লাখ, চাহিদা অনুযায়ী ঋণ পাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের ব্যাংক খাতের রক্ষণশীল নীতির কারণে ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে বড় উদ্যোক্তারা তাঁদের চাহিদামতো ঋণ পাচ্ছেন না। ব্যবসা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ঋণ চেয়ে আবেদন করলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে তার সিকিভাগ বা সামান্য অংশ দিতে চাইছে। জামানতের বিপরীতে আগের মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছাড় করতে নারাজ ব্যাংকগুলো। ফলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকলেও অর্থের সংকটে তা থমকে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যাংক শিল্পঋণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং নতুন কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। অতীতে বেনামে প্রচুর ঋণ বিতরণ হওয়ায় এবং খেলাপি সংস্কৃতির কারণে ব্যাংকিং খাতে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঋণ বিতরণ না হওয়ায় সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এর সুফল পেতে ব্যবসায়ীদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার কথা থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহের কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। পাশাপাশি ডলারের বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং ঋণপত্রের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে।

শিল্প খাতে এই মন্দাবস্থা কাটাতে এবং বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাড়াতে নীতি সুদহার কিছুটা হ্রাস করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর অর্থ সংগ্রহের খরচ কমানোর চেষ্টা করা হলেও উদ্যোক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘসূত্রতার মতো পুরোনো সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করছেন। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং সঠিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা না গেলে বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসির ফলাফলে ২২ বছরে এত বড় অবনতি যেসব কারণে

error: Content is protected !!

দরকার ২০ লাখ, ব্যাংক দিতে চায় ৫ লাখ, চাহিদা অনুযায়ী ঋণ পাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা

আপডেট টাইম : ৪৮ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের ব্যাংক খাতের রক্ষণশীল নীতির কারণে ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে বড় উদ্যোক্তারা তাঁদের চাহিদামতো ঋণ পাচ্ছেন না। ব্যবসা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ঋণ চেয়ে আবেদন করলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে তার সিকিভাগ বা সামান্য অংশ দিতে চাইছে। জামানতের বিপরীতে আগের মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছাড় করতে নারাজ ব্যাংকগুলো। ফলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকলেও অর্থের সংকটে তা থমকে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যাংক শিল্পঋণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং নতুন কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। অতীতে বেনামে প্রচুর ঋণ বিতরণ হওয়ায় এবং খেলাপি সংস্কৃতির কারণে ব্যাংকিং খাতে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঋণ বিতরণ না হওয়ায় সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এর সুফল পেতে ব্যবসায়ীদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার কথা থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহের কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। পাশাপাশি ডলারের বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং ঋণপত্রের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে।

শিল্প খাতে এই মন্দাবস্থা কাটাতে এবং বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাড়াতে নীতি সুদহার কিছুটা হ্রাস করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর অর্থ সংগ্রহের খরচ কমানোর চেষ্টা করা হলেও উদ্যোক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘসূত্রতার মতো পুরোনো সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করছেন। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং সঠিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা না গেলে বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।