ঢাকা , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

প্রবীণদের সুস্থ রাখতে দূরকরতে হবে একাকিত্ব

স্বাস্থ্য ডেস্ক: আমাদের সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় বয়স্ক ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়, যা তাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বহু প্রবীণ মানুষ মারাত্মক নিঃসঙ্গতা বা একাকিত্বের শিকার হন। এই মানসিক চাপ তাদের শারীরিক অসুস্থতাকেও আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই তাদের জীবনের মান উন্নত করতে হলে এই একাকিত্বের সমস্যাটির কার্যকর সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স্ক মানুষেরা কেবল অর্থবিত্ত কিংবা বস্তুগত সুখের মাধ্যমে ভালো থাকতে পারেন না। অনেক প্রবীণ ব্যক্তির পর্যাপ্ত ধনসম্পদ এবং আরাম-আয়েশের উপকরণ থাকলেও তাঁরা তীব্র একাকিত্বে ভুগে থাকেন। পরিবার ও সমাজের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং স্নেহ-ভালোবাসার অভাব তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। বস্তুগত সমৃদ্ধি কখনোই মানসিক শান্তির বিকল্প হতে পারে না, বরং প্রিয়জনদের সান্নিধ্য ও আন্তরিকতাই প্রবীণদের আনন্দময় জীবন নিশ্চিত করতে পারে।

পরিবার এবং সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি প্রবীণদের পর্যাপ্ত সময় দেন এবং তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, তবে এই নিঃসঙ্গতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। অবসর সময়ে তাঁদের বিভিন্ন সামাজিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে হবে, যেন তাঁরা নিজেদের সমাজের বোঝা না ভেবে বরং মূল্যবান অংশ মনে করেন। নাতি-নাতনি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা এবং কুশল বিনিময় প্রবীণদের মনে নতুন প্রাণশক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

পরিশেষে, প্রবীণ নাগরিকদের অবমূল্যায়ন না করে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে মূল্যায়ন করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক পর্যায়ে প্রবীণদের কল্যাণে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কেন্দ্র, ক্লাব এবং কাউন্সেলিং সেবার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি প্রবীণদের চারপাশের এই একাকিত্বের প্রাচীর ভেঙে ফেলা যায়, তবে তাঁরা একটি সুন্দর, আনন্দময় এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন উপভোগ করতে পারবেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত, চূড়ান্ত পর্ব ২৮ নভেম্বর

error: Content is protected !!

প্রবীণদের সুস্থ রাখতে দূরকরতে হবে একাকিত্ব

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

স্বাস্থ্য ডেস্ক: আমাদের সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় বয়স্ক ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়, যা তাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বহু প্রবীণ মানুষ মারাত্মক নিঃসঙ্গতা বা একাকিত্বের শিকার হন। এই মানসিক চাপ তাদের শারীরিক অসুস্থতাকেও আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই তাদের জীবনের মান উন্নত করতে হলে এই একাকিত্বের সমস্যাটির কার্যকর সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স্ক মানুষেরা কেবল অর্থবিত্ত কিংবা বস্তুগত সুখের মাধ্যমে ভালো থাকতে পারেন না। অনেক প্রবীণ ব্যক্তির পর্যাপ্ত ধনসম্পদ এবং আরাম-আয়েশের উপকরণ থাকলেও তাঁরা তীব্র একাকিত্বে ভুগে থাকেন। পরিবার ও সমাজের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং স্নেহ-ভালোবাসার অভাব তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। বস্তুগত সমৃদ্ধি কখনোই মানসিক শান্তির বিকল্প হতে পারে না, বরং প্রিয়জনদের সান্নিধ্য ও আন্তরিকতাই প্রবীণদের আনন্দময় জীবন নিশ্চিত করতে পারে।

পরিবার এবং সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি প্রবীণদের পর্যাপ্ত সময় দেন এবং তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, তবে এই নিঃসঙ্গতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। অবসর সময়ে তাঁদের বিভিন্ন সামাজিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে হবে, যেন তাঁরা নিজেদের সমাজের বোঝা না ভেবে বরং মূল্যবান অংশ মনে করেন। নাতি-নাতনি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা এবং কুশল বিনিময় প্রবীণদের মনে নতুন প্রাণশক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

পরিশেষে, প্রবীণ নাগরিকদের অবমূল্যায়ন না করে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে মূল্যায়ন করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক পর্যায়ে প্রবীণদের কল্যাণে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কেন্দ্র, ক্লাব এবং কাউন্সেলিং সেবার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি প্রবীণদের চারপাশের এই একাকিত্বের প্রাচীর ভেঙে ফেলা যায়, তবে তাঁরা একটি সুন্দর, আনন্দময় এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন উপভোগ করতে পারবেন।