ঢাকা , রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

তিনদিনের মুদ্রা প্রদর্শনী: প্রাচীন লিডিয়া থেকে বাংলাদেশ, মুদ্রায় ধরা বিশ্ব ইতিহাস

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল মুদ্রা প্রদর্শনী। বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটির আয়োজনে এটি ছিল সংগঠনটির ষষ্ঠ আসর। প্রাচীন লিডিয়ার আমল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় পর্যন্ত বিস্তৃত ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং নকশার বৈচিত্র্য এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ ছিল। প্রদর্শনীটি দেখতে মুদ্রা সংগ্রাহক ছাড়াও ইতিহাসপ্রেমী নানা বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৪৩ জন মুদ্রা সংগ্রাহক অংশ নেন। তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে প্রায় ৬১টি ভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সংগ্রহ এখানে তুলে ধরা হয়। প্রাচীন সভ্যতার মোহর থেকে শুরু করে আধুনিক কাগজের নোট—সবকিছুতেই যেন মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার রূপান্তর মূর্ত হয়ে উঠেছিল। প্রতিটি সংগ্রহের পেছনে লুকিয়ে থাকা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দর্শনার্থীদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া প্রতিটি মুদ্রাই যেন একেকটি নীরব সাক্ষী হিসেবে অতীতের গল্প বলে গেছে। লিডিয়ার প্রাচীন মুদ্রা থেকে শুরু করে মুঘল আমল, সুলতানি যুগ এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের মুদ্রার বৈচিত্র্য গবেষকদের জন্য ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিশেষ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুদ্রা ও নোটগুলোর সমাহার নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পুরোনো এসব স্মারক দেখে দর্শনার্থীরা মুদ্রার নকশা এবং ধাতুর ব্যবহারে সময়ের পরিবর্তন খুব কাছ থেকে অবলোকন করার সুযোগ পেয়েছেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে মুদ্রা সংগ্রহ বা নিউমিসম্যাটিকসের প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে। শুধু শখ নয়, বরং মুদ্রা যে কোনো জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান দলিল, তা এই আয়োজনের মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরও এর রেশ বহু দিন সংগ্রাহক ও ইতিহাসপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে মিয়ানমারে পাচারের সময় এক হাজার মণ সিমেন্ট জব্দ

error: Content is protected !!

তিনদিনের মুদ্রা প্রদর্শনী: প্রাচীন লিডিয়া থেকে বাংলাদেশ, মুদ্রায় ধরা বিশ্ব ইতিহাস

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল মুদ্রা প্রদর্শনী। বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটির আয়োজনে এটি ছিল সংগঠনটির ষষ্ঠ আসর। প্রাচীন লিডিয়ার আমল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় পর্যন্ত বিস্তৃত ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং নকশার বৈচিত্র্য এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ ছিল। প্রদর্শনীটি দেখতে মুদ্রা সংগ্রাহক ছাড়াও ইতিহাসপ্রেমী নানা বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৪৩ জন মুদ্রা সংগ্রাহক অংশ নেন। তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে প্রায় ৬১টি ভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সংগ্রহ এখানে তুলে ধরা হয়। প্রাচীন সভ্যতার মোহর থেকে শুরু করে আধুনিক কাগজের নোট—সবকিছুতেই যেন মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার রূপান্তর মূর্ত হয়ে উঠেছিল। প্রতিটি সংগ্রহের পেছনে লুকিয়ে থাকা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দর্শনার্থীদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া প্রতিটি মুদ্রাই যেন একেকটি নীরব সাক্ষী হিসেবে অতীতের গল্প বলে গেছে। লিডিয়ার প্রাচীন মুদ্রা থেকে শুরু করে মুঘল আমল, সুলতানি যুগ এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের মুদ্রার বৈচিত্র্য গবেষকদের জন্য ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিশেষ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুদ্রা ও নোটগুলোর সমাহার নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পুরোনো এসব স্মারক দেখে দর্শনার্থীরা মুদ্রার নকশা এবং ধাতুর ব্যবহারে সময়ের পরিবর্তন খুব কাছ থেকে অবলোকন করার সুযোগ পেয়েছেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এ ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে মুদ্রা সংগ্রহ বা নিউমিসম্যাটিকসের প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে। শুধু শখ নয়, বরং মুদ্রা যে কোনো জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান দলিল, তা এই আয়োজনের মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরও এর রেশ বহু দিন সংগ্রাহক ও ইতিহাসপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।