ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ছয় মাসে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার

-ছবিঃ প্রতীকী।

ছয় মাসে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার। চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই তেল আমদানি করা হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পাঁচ ধরনের মোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন তেল আনবে। সিঙ্গাপুরের দু’টি কোম্পানি থেকে এই তেল আমদানিতে খরচ পড়বে ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

 

সূত্র জানায়, চলতি মাস জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে ৫টি প্যাকেজে বিভক্ত করে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হবে। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান (১) ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর (প্যাকেজ-এ ও ই) এবং (২) ভাইটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর (প্যাকেজ বি, সি ও ডি) থেকে মোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মে. টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১১২ কোটি ৬০ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৪ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

 

২০১৬ সাল থেকে বিপিসি দেশের মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ জ্বালানি তেল কোটেশন প্রক্রিয়ার (দরপত্র) মাধ্যমে আমদানি করে থাকে। জ্বালানি তেলের পরিমাণকে ৫টি প্যাকেজে (এ, বি, সি, ডি এবং ই) বিভক্ত করে ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করা হয়। দরপত্রের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৭টি দরপত্র জমা পড়ে।
এরপর একটি একক দরপত্রের মাধ্যমে ৫টি প্যাকেজের আওতায় জ্বালানি তেল ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। দর প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক একজন দরদাতাকে ৫টি প্যাকেজের সব কয়টি অথবা যেকোনো সংখ্যক প্যাকেজের জন্য দরপ্রস্তাব করার সুযোগ রাখা হয়। চাহিদার বিপরীতে আমদানিতব্য পরিমাণে ফ্লেক্সিবিলিটি বিবেচনা করে কোটেশন প্রক্রিয়ায় গ্যাস অয়েল (ডিজেল) আমদানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ চাহিদা বিবেচনা করে পণ্যের মূল্য (প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে) নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিবেচনা করা হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, গত ৮ জুন অনুষ্ঠিত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় দরপত্রে অংশ নেয়া ৪ প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা কোটেশনের কারিগরি ও আর্থিক বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। প্রাথমিক কারিগরি মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য ৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২টি দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড, সিঙ্গাপুর এবং ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই, সিঙ্গাপুর দরপত্রের সব শর্ত প্রতিপালন করায় তাদের দরপত্র গ্রহণ যোগ্য বিবেচিত হয়।

 

বিপিসির প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বাজেট বরাদ্দ, জ্বালানি তেল বিক্রির অর্থ এবং অন্য উৎস থেকে ঋণ নেয়ার মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানির অর্থায়ন করা হবে। প্রযোজ্য লুল্ক ও ভ্যাট বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে।

 

বিপিসি সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসের জন্য গ্যাস অয়েল আমদানি করবে ১২ লাখ মেট্রিক টন, বাংলাদেশী টাকায় দাম পড়বে ৯ হাজার ৩৮৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। জেট এ-১ এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আমদানিতে ব্যয় হবে এক হাজার ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফার্নেস অয়েল এক লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ৬৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। মোগ্যাস ৮০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ৭৫২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং মেরিন ফুয়েল ৩০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ২০৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ সর্বমোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ৫ ধরনের জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের হোঁচট, চাপে পড়তে পারেন ইনফান্তিনো

error: Content is protected !!

ছয় মাসে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার

আপডেট টাইম : ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০২৩
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক :

ছয় মাসে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার। চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই তেল আমদানি করা হবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পাঁচ ধরনের মোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন তেল আনবে। সিঙ্গাপুরের দু’টি কোম্পানি থেকে এই তেল আমদানিতে খরচ পড়বে ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

 

সূত্র জানায়, চলতি মাস জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে ৫টি প্যাকেজে বিভক্ত করে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হবে। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান (১) ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর (প্যাকেজ-এ ও ই) এবং (২) ভাইটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর (প্যাকেজ বি, সি ও ডি) থেকে মোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মে. টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১১২ কোটি ৬০ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৪ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

 

২০১৬ সাল থেকে বিপিসি দেশের মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ জ্বালানি তেল কোটেশন প্রক্রিয়ার (দরপত্র) মাধ্যমে আমদানি করে থাকে। জ্বালানি তেলের পরিমাণকে ৫টি প্যাকেজে (এ, বি, সি, ডি এবং ই) বিভক্ত করে ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করা হয়। দরপত্রের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৭টি দরপত্র জমা পড়ে।
এরপর একটি একক দরপত্রের মাধ্যমে ৫টি প্যাকেজের আওতায় জ্বালানি তেল ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। দর প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক একজন দরদাতাকে ৫টি প্যাকেজের সব কয়টি অথবা যেকোনো সংখ্যক প্যাকেজের জন্য দরপ্রস্তাব করার সুযোগ রাখা হয়। চাহিদার বিপরীতে আমদানিতব্য পরিমাণে ফ্লেক্সিবিলিটি বিবেচনা করে কোটেশন প্রক্রিয়ায় গ্যাস অয়েল (ডিজেল) আমদানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ চাহিদা বিবেচনা করে পণ্যের মূল্য (প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে) নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিবেচনা করা হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, গত ৮ জুন অনুষ্ঠিত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় দরপত্রে অংশ নেয়া ৪ প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা কোটেশনের কারিগরি ও আর্থিক বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। প্রাথমিক কারিগরি মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য ৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২টি দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড, সিঙ্গাপুর এবং ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই, সিঙ্গাপুর দরপত্রের সব শর্ত প্রতিপালন করায় তাদের দরপত্র গ্রহণ যোগ্য বিবেচিত হয়।

 

বিপিসির প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বাজেট বরাদ্দ, জ্বালানি তেল বিক্রির অর্থ এবং অন্য উৎস থেকে ঋণ নেয়ার মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানির অর্থায়ন করা হবে। প্রযোজ্য লুল্ক ও ভ্যাট বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে।

 

বিপিসি সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসের জন্য গ্যাস অয়েল আমদানি করবে ১২ লাখ মেট্রিক টন, বাংলাদেশী টাকায় দাম পড়বে ৯ হাজার ৩৮৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। জেট এ-১ এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আমদানিতে ব্যয় হবে এক হাজার ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফার্নেস অয়েল এক লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ৬৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। মোগ্যাস ৮০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ৭৫২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং মেরিন ফুয়েল ৩০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করতে ব্যয় হবে ২০৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ সর্বমোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ৫ ধরনের জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।