এখলাস উদ্দীন:
মাদকের ভয়াল নেশা থেকে মুক্তি পেতে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার এক ব্যক্তি। টানা তিন দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে নিজেকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত তার আন্তরিকতা বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে পাঁচ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে দণ্ডপ্রাপ্ত জহুরুল ইসলামকে (৫০) রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। এর আগেও একটি মাদক মামলায় ছয় মাস কারাভোগ করলেও নেশার অভ্যাস থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি।
জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে জহুরুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহানের কার্যালয়ে এসে জানাতে থাকেন, তিনি আর মাদক সেবন করতে চান না। কিন্তু নিজের চেষ্টায় নেশা ছাড়তে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।
প্রথম দিন তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাকে পরদিন আসতে বলা হয়। দ্বিতীয় দিনও একই আবেদন নিয়ে উপস্থিত হলে তাকে আবারও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার তৃতীয় দিনের মতো একই অনুরোধ নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। এদিন তার পরিবারের একজন সদস্যও সঙ্গে ছিলেন এবং তিনিও জহুরুলকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান, যাতে তিনি মাদকের নেশা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ১৬ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী জহুরুল ইসলামকে পাঁচ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থ অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি 
এখলাস উদ্দীন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি 











