ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

গায়ে হলুদের আগের দিনই নিথর কিশোরী, বিয়ের আনন্দে নেমে এলো শোকের ছায়া

মোহাম্মদ আবু নাছের:

 

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় গায়ে হলুদের এক দিন আগে সুরাইয়া আক্তার রাইসা (১৬) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ এবং শুক্রবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা থাকলেও, সেই আনন্দঘন মুহূর্তের আগেই পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজের শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ছোট জীবনগর গ্রামের গনেষ্ঠি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত রাইসা ওই গ্রামের সবজি বিক্রেতা মো. রায়হান উদ্দিনের মেয়ে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাইসার জন্মের এক বছর পর তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি সৎ মায়ের সংসারেই বেড়ে ওঠেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিয়ের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ এবং শুক্রবার বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ থাকলেও হঠাৎ এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

স্বজনদের অজান্তে বুধবার দুপুরে নিজের শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দেন রাইসা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। যে বাড়িতে কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই বিয়ের উৎসব শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন স্বজনদের আহাজারি আর শোকের মাতম বিরাজ করছে। তবে কী কারণে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাইসা, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিষখালী নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রমের উদ্বোধন

error: Content is protected !!

গায়ে হলুদের আগের দিনই নিথর কিশোরী, বিয়ের আনন্দে নেমে এলো শোকের ছায়া

আপডেট টাইম : ২ ঘন্টা আগে
মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :

মোহাম্মদ আবু নাছের:

 

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় গায়ে হলুদের এক দিন আগে সুরাইয়া আক্তার রাইসা (১৬) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ এবং শুক্রবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা থাকলেও, সেই আনন্দঘন মুহূর্তের আগেই পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজের শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ছোট জীবনগর গ্রামের গনেষ্ঠি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত রাইসা ওই গ্রামের সবজি বিক্রেতা মো. রায়হান উদ্দিনের মেয়ে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাইসার জন্মের এক বছর পর তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি সৎ মায়ের সংসারেই বেড়ে ওঠেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিয়ের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ এবং শুক্রবার বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ থাকলেও হঠাৎ এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

স্বজনদের অজান্তে বুধবার দুপুরে নিজের শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দেন রাইসা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। যে বাড়িতে কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই বিয়ের উৎসব শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন স্বজনদের আহাজারি আর শোকের মাতম বিরাজ করছে। তবে কী কারণে এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাইসা, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।