মোঃ নাঈমুল ইসলাম:
রংপুরের গংগাচড়া উপজেলায় জুথি আক্তার (৩৬) নামের দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও শাশুড়ি বাড়িতে নেই বলে জানা গেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর বড়বিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাকুরিয়া শরীফ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুথি আক্তার ওই গ্রামের মৃত জহুরুল হকের দ্বিতীয় ছেলে শহিদুল ইসলাম লেবু মাস্টারের স্ত্রী। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
**পরিবারের অভিযোগ**
নিহতের বোন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে জুথি আক্তার বিভিন্নভাবে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। নিহতের বোনের অভিযোগ, বাবার বাড়ির কেউ তাঁকে দেখতে বা বাড়িতে নিয়ে যেতে এলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে যেতে দিতেন না। এ নিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
নিহতের বোনের দাবি, ঘটনার সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল না; বরং দরজার খিল বা ছিটকানি বাইরে থেকে আটকানো ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
**স্বামী-শাশুড়ির খোঁজ নেই**
জুথির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলাম লেবু মাস্টার ও শাশুড়ির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর তাঁদের ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে গংগাচড়া মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
গংগাচড়া মডেল থানা-পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা বা অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজ করা হচ্ছে।
দুই সন্তানের জননীর মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান 
মোঃ নাঈমুল ইসলাম, রংপুর (সদর) উপজেলা প্রতিনিধি 










