ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

কুষ্টিয়ায় হত্যার ৫ মাস পর জানা গেল, ছেলের হাতে বাবা খুন

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সকালের দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সংগ্রামপুর গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে খেজের আলী মন্ডল নামে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটস্থলে গিয়ে খেজের আলীর লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় পরেরদিন নিহত খেজের আলীর ভাই নাজির আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার দুই মাসেও মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে দেওয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের ৫ মাস পর রহস্য উন্মোচন করেতে সক্ষম হন পিবিআই কর্মকর্তারা। তদন্তের এক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত হন পারিবারিক বিরোধ এবং অভিমান থেকে বাবা খেজের আলীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেন তার একমাত্র ছেলে আনোয়ার হোসেন।

রোববার বেলা ২টার দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কুষ্টিয়া কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার শহীদ আবু সারোয়ার।

তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত ভার তাদের উপর আসার পর তারা সেটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সরোজমিন তদন্ত এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে পিবিআই এক পর্যায়ে নিশ্চিত হয় এই হত্যাকাণ্ডে খেজের আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন জড়িত। নিশ্চিত হওয়ার পর গত শনিবার সন্ধায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআইর কুষ্টিয়া কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার তার বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তার দেখানো জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার শহীদ আবু সারোয়ার আরো জানান, আনোয়ার তার স্বীকারোক্তিতে বলেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে খেজের আলীর সামনে আনোয়ারকে তার ছেলে শিশির সামান্য বিষয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ না করায় বাবা খেজের ওপর ক্ষোভের সৃষ্টি হয় আনোয়ারের। সেই রাগে-ক্ষোভে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আনোয়ার তার বাবা খেজের আলীকে গোপন কথা আছে বলে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পেছন থেকে কোদাল দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করে।

 

পরে রোববার বিকেলে আনোয়ারকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করলে আদালতের কাছে আনোয়ার তার দোষ স্বীকার করেন। পরে আদালত আনোয়ারের জামিন আবেদন বাতিল করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পিএইচপি কী, এটি ঘিরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি হয়েছে কেন

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় হত্যার ৫ মাস পর জানা গেল, ছেলের হাতে বাবা খুন

আপডেট টাইম : ০৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪
ইসমাইল হোসেন বাবু, স্টাফ রিপোর্টার :

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সকালের দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সংগ্রামপুর গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে খেজের আলী মন্ডল নামে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটস্থলে গিয়ে খেজের আলীর লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় পরেরদিন নিহত খেজের আলীর ভাই নাজির আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার দুই মাসেও মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে দেওয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের ৫ মাস পর রহস্য উন্মোচন করেতে সক্ষম হন পিবিআই কর্মকর্তারা। তদন্তের এক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত হন পারিবারিক বিরোধ এবং অভিমান থেকে বাবা খেজের আলীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেন তার একমাত্র ছেলে আনোয়ার হোসেন।

রোববার বেলা ২টার দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কুষ্টিয়া কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার শহীদ আবু সারোয়ার।

তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত ভার তাদের উপর আসার পর তারা সেটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সরোজমিন তদন্ত এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে পিবিআই এক পর্যায়ে নিশ্চিত হয় এই হত্যাকাণ্ডে খেজের আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন জড়িত। নিশ্চিত হওয়ার পর গত শনিবার সন্ধায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআইর কুষ্টিয়া কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার তার বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তার দেখানো জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার শহীদ আবু সারোয়ার আরো জানান, আনোয়ার তার স্বীকারোক্তিতে বলেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে খেজের আলীর সামনে আনোয়ারকে তার ছেলে শিশির সামান্য বিষয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ না করায় বাবা খেজের ওপর ক্ষোভের সৃষ্টি হয় আনোয়ারের। সেই রাগে-ক্ষোভে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আনোয়ার তার বাবা খেজের আলীকে গোপন কথা আছে বলে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পেছন থেকে কোদাল দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করে।

 

পরে রোববার বিকেলে আনোয়ারকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করলে আদালতের কাছে আনোয়ার তার দোষ স্বীকার করেন। পরে আদালত আনোয়ারের জামিন আবেদন বাতিল করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।