ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

গরুর মাংস খেতে মহানবী (সা.) কেন নিরুৎসাহিত করেছেন

ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে হালাল ও হারাম নির্ধারণের একক অধিকার কেবল মহান আল্লাহর এবং মুসলমানদের জন্য যেসব প্রাণী খাওয়া বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, গরু তার মধ্যে অন্যতম। পবিত্র কোরআনে কোরবানির পশুর আলোচনায় এবং সুরা বাকারার নামকরণের ইতিহাসের মাধ্যমে গরুর মাংসের হালাল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের সময় তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কোরবানি করেছিলেন বলে সহিহ হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং ধর্মীয় দৃষ্টিতে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় বা এটিকে নিষিদ্ধ ভাবার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই।

তবে ধর্মীয়ভাবে হালাল হওয়া সত্ত্বেও গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়ে একটি বিশেষ হাদিস বর্ণিত রয়েছে যা নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। ওই হাদিসে নবীজি গরুর দুধ পান করার এবং মাখন বা ঘি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে এর ঔষধি গুণের কথা বলেছেন, পাশাপাশি এর মাংস খাওয়া থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। মুহাদ্দিসদের একাংশের মতে এই হাদিসটি গ্রহণযোগ্য হলেও এর প্রকৃত অর্থ মাংসকে হারাম ঘোষণা করা নয়। মূলত তৎকালীন আরব অঞ্চলের উষ্ণ আবহাওয়া এবং মানুষের দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রমের ধরন বিবেচনা করেই এই স্বাস্থ্যগত নির্দেশনা বা তিব্বে নববি দেওয়া হয়েছিল।

ইসলামের প্রখ্যাত পণ্ডিত ও হাদিস বিশারদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উদ্ভিদের ক্ষতিকর উপাদানগুলো পশুর মাংসের মধ্যে বেশি জমা হয় যা মানবদেহের জন্য ভারী ও কষ্টকর। অথচ সেই একই গাছপালার নির্যাস যখন পরিশোধিত হয়ে দুধে বা ঘিয়ে রূপান্তরিত হয়, তখন তা অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী উপাদানে পরিণত হয়। বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ইবনুল কাইয়িম উল্লেখ করেছেন যে গরুর মাংস হজম করা তুলনামূলক কঠিন এবং এটি কেবল কঠোর পরিশ্রমী মানুষের শরীরের জন্যই উপযোগী। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে রান্নায় বিভিন্ন ধরনের গরম মসলা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের লাল মাংসের ঝুঁকি সংক্রান্ত ধারণার সঙ্গেও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইসলাম ধর্মে সবসময় জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিমিতিবোধ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এবং কোনো হালাল খাবারও যদি চিকিৎসাগতভাবে ক্ষতিকর প্রমাণিত হয় তবে তা পরিহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। মহানবী (সা.) মূলত ছাগল বা দুম্বার মাংস বেশি পছন্দ করলেও গরুর মাংসকে কখনোই পুরোপুরি বর্জন করেননি, বরং অতিরিক্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। তাই ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গরুর মাংস সম্পূর্ণ হালাল হওয়া সত্ত্বেও শরীরের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এর পরিমাণ সীমিত রাখাই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে ভাটার দাদনের টাকা না পেয়ে মাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

error: Content is protected !!

গরুর মাংস খেতে মহানবী (সা.) কেন নিরুৎসাহিত করেছেন

আপডেট টাইম : ৬০ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে হালাল ও হারাম নির্ধারণের একক অধিকার কেবল মহান আল্লাহর এবং মুসলমানদের জন্য যেসব প্রাণী খাওয়া বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, গরু তার মধ্যে অন্যতম। পবিত্র কোরআনে কোরবানির পশুর আলোচনায় এবং সুরা বাকারার নামকরণের ইতিহাসের মাধ্যমে গরুর মাংসের হালাল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের সময় তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কোরবানি করেছিলেন বলে সহিহ হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং ধর্মীয় দৃষ্টিতে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় বা এটিকে নিষিদ্ধ ভাবার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই।

তবে ধর্মীয়ভাবে হালাল হওয়া সত্ত্বেও গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়ে একটি বিশেষ হাদিস বর্ণিত রয়েছে যা নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। ওই হাদিসে নবীজি গরুর দুধ পান করার এবং মাখন বা ঘি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে এর ঔষধি গুণের কথা বলেছেন, পাশাপাশি এর মাংস খাওয়া থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। মুহাদ্দিসদের একাংশের মতে এই হাদিসটি গ্রহণযোগ্য হলেও এর প্রকৃত অর্থ মাংসকে হারাম ঘোষণা করা নয়। মূলত তৎকালীন আরব অঞ্চলের উষ্ণ আবহাওয়া এবং মানুষের দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রমের ধরন বিবেচনা করেই এই স্বাস্থ্যগত নির্দেশনা বা তিব্বে নববি দেওয়া হয়েছিল।

ইসলামের প্রখ্যাত পণ্ডিত ও হাদিস বিশারদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উদ্ভিদের ক্ষতিকর উপাদানগুলো পশুর মাংসের মধ্যে বেশি জমা হয় যা মানবদেহের জন্য ভারী ও কষ্টকর। অথচ সেই একই গাছপালার নির্যাস যখন পরিশোধিত হয়ে দুধে বা ঘিয়ে রূপান্তরিত হয়, তখন তা অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী উপাদানে পরিণত হয়। বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ইবনুল কাইয়িম উল্লেখ করেছেন যে গরুর মাংস হজম করা তুলনামূলক কঠিন এবং এটি কেবল কঠোর পরিশ্রমী মানুষের শরীরের জন্যই উপযোগী। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে রান্নায় বিভিন্ন ধরনের গরম মসলা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের লাল মাংসের ঝুঁকি সংক্রান্ত ধারণার সঙ্গেও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইসলাম ধর্মে সবসময় জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিমিতিবোধ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এবং কোনো হালাল খাবারও যদি চিকিৎসাগতভাবে ক্ষতিকর প্রমাণিত হয় তবে তা পরিহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। মহানবী (সা.) মূলত ছাগল বা দুম্বার মাংস বেশি পছন্দ করলেও গরুর মাংসকে কখনোই পুরোপুরি বর্জন করেননি, বরং অতিরিক্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন। তাই ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গরুর মাংস সম্পূর্ণ হালাল হওয়া সত্ত্বেও শরীরের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এর পরিমাণ সীমিত রাখাই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।