ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কাশিয়ানীতে র‍্যাব সদস্যের দাপটে অসহায় ১০ পরিবার

লিয়াকত হোসেন লিংকন:

 

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্য আশিক খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

 

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফারজানা বেগম। তিনি একই গ্রামের মুস্তাকিন শেখের স্ত্রী।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ১৩ বছর আগে প্রতিবেশী কুটি মিয়া খানের কাছ থেকে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই জমি দিয়ে তাদের পরিবারসহ স্থানীয় প্রায় ১০টি পরিবারের অর্ধশতাধিক মানুষ এতদিন যাতায়াত করে আসছিলেন। কুটি মিয়া মারা যাওয়ার পর তার ছেলে ফরিদপুরে কর্মরত র‍্যাব সদস্য আশিক খান এবং দাদা আলেক খান টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন।

 

তিনি আরও বলেন, চলাচলের অধিকার রক্ষায় তারা আদালতে মামলা করেন। পরের দিন আশিকের সহকর্মী ভাটিয়াপাড়া র‍্যাব ক্যাম্পের আশিক নামে অপর এক সদস্য ৪-৫ জন সঙ্গী নিয়ে গাড়িযোগে এসে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরবর্তীতে আশিক খানের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার শর্তে আশিকের সঙ্গে সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতার ওপর আস্থা রেখে তারা আদালতের মামলা প্রত্যাহার করেন।

 

কিন্তু পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, সমঝোতার সময় গোপন রেখে আশিক খানের চাচা ইবাদ আলী খানকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। কিছুদিন পর চলাচলের পুরো পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে অন্যের জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে ১০টি পরিবারের সদস্যরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

 

বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলেও সেখানে আশিকের প্রভাবে কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত ন্যায়বিচার ও চলাচলের পথ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

 

এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য উজ্জ্বল শেখ, শরিফুল ইসলাম, মিজানুর শেখ, ময়েজ আলী, হোসনেরায়া, গুলশান আরা, রত্না বেগমসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত র‍্যাব সদস্য আশিক খানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা যে নির্দেশনা দেবেন, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমি কাজ করব।’

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

কাশিয়ানীতে র‍্যাব সদস্যের দাপটে অসহায় ১০ পরিবার

আপডেট টাইম : ৮ ঘন্টা আগে
লিয়াকত হোসেন লিংকন, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :

লিয়াকত হোসেন লিংকন:

 

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্য আশিক খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

 

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফারজানা বেগম। তিনি একই গ্রামের মুস্তাকিন শেখের স্ত্রী।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ১৩ বছর আগে প্রতিবেশী কুটি মিয়া খানের কাছ থেকে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই জমি দিয়ে তাদের পরিবারসহ স্থানীয় প্রায় ১০টি পরিবারের অর্ধশতাধিক মানুষ এতদিন যাতায়াত করে আসছিলেন। কুটি মিয়া মারা যাওয়ার পর তার ছেলে ফরিদপুরে কর্মরত র‍্যাব সদস্য আশিক খান এবং দাদা আলেক খান টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন।

 

তিনি আরও বলেন, চলাচলের অধিকার রক্ষায় তারা আদালতে মামলা করেন। পরের দিন আশিকের সহকর্মী ভাটিয়াপাড়া র‍্যাব ক্যাম্পের আশিক নামে অপর এক সদস্য ৪-৫ জন সঙ্গী নিয়ে গাড়িযোগে এসে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরবর্তীতে আশিক খানের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার শর্তে আশিকের সঙ্গে সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতার ওপর আস্থা রেখে তারা আদালতের মামলা প্রত্যাহার করেন।

 

কিন্তু পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, সমঝোতার সময় গোপন রেখে আশিক খানের চাচা ইবাদ আলী খানকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। কিছুদিন পর চলাচলের পুরো পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে অন্যের জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে ১০টি পরিবারের সদস্যরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

 

বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলেও সেখানে আশিকের প্রভাবে কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত ন্যায়বিচার ও চলাচলের পথ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

 

এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য উজ্জ্বল শেখ, শরিফুল ইসলাম, মিজানুর শেখ, ময়েজ আলী, হোসনেরায়া, গুলশান আরা, রত্না বেগমসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত র‍্যাব সদস্য আশিক খানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা যে নির্দেশনা দেবেন, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমি কাজ করব।’