ঢাকা , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযানে ৬১ কোটি টাকার জাল-সরঞ্জাম জব্দ

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় সম্পদ মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং বংশবিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয়। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সরকারের এই নির্দেশ বাস্তবায়নে নৌবাহিনী অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রধান প্রজননক্ষেত্রগুলোতে মা ইলিশ রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিযান চলাকালীন দেশের ৯টি জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ২১২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে আনুমানিক একষট্টি কোটি ১৮ লাখ টাকার অবৈধ জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল, ১৬৬টি বিভিন্ন ধরনের জাল, চারটি বোট এবং ৫৭০ কেজি মা ইলিশ রয়েছে। এ ছাড়া আইন অমান্য করার অপরাধে ছয় হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং নিয়মের বাইরে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে নৌবাহিনীর সাতটি জাহাজ এবং বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালায়। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি নৌযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জাহাজের পাশাপাশি মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমেও আকাশপথে নজরদারি রাখা হয়। শুধু সমুদ্র বা উপকূলীয় অঞ্চলই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রধান নদ-নদীগুলোতেও এই কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছিল যাতে কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে না পারে।

অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধারকৃত মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা এখন পুনরায় স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ শুরু করতে পারছেন, যা দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদের টেকসই সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

error: Content is protected !!

ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযানে ৬১ কোটি টাকার জাল-সরঞ্জাম জব্দ

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় সম্পদ মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং বংশবিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয়। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সরকারের এই নির্দেশ বাস্তবায়নে নৌবাহিনী অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রধান প্রজননক্ষেত্রগুলোতে মা ইলিশ রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিযান চলাকালীন দেশের ৯টি জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ২১২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে আনুমানিক একষট্টি কোটি ১৮ লাখ টাকার অবৈধ জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল, ১৬৬টি বিভিন্ন ধরনের জাল, চারটি বোট এবং ৫৭০ কেজি মা ইলিশ রয়েছে। এ ছাড়া আইন অমান্য করার অপরাধে ছয় হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং নিয়মের বাইরে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে নৌবাহিনীর সাতটি জাহাজ এবং বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালায়। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি নৌযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জাহাজের পাশাপাশি মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমেও আকাশপথে নজরদারি রাখা হয়। শুধু সমুদ্র বা উপকূলীয় অঞ্চলই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রধান নদ-নদীগুলোতেও এই কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছিল যাতে কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে না পারে।

অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধারকৃত মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা এখন পুনরায় স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ শুরু করতে পারছেন, যা দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদের টেকসই সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।