ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়ায় দুই মাসে ৫৪ অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত, স্থানীয়দের উদ্বেগ

ইসমাইল হোসেন বাবু:

 

কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় বাড়ছে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ। গবাদিপশুর পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষও। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে উপজেলায় ৫৪ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ায় ২০১০ সাল থেকে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। মাঝখানে রোগটির প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবারও সংক্রমণ বাড়ছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ মাঠপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলামের ১৮ মাস বয়সী শিশু নুসাইবাও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে শিশুটির শরীরে ছোট ছোট ফোসকা দেখা দেয়। পরে সেগুলো কালচে হয়ে বড় ক্ষতে পরিণত হয়। বর্তমানে ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে শিশুটি।

 

একই উপজেলার গাছেরদিয়াড় এলাকার ইউসুফ সরদারও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বজনের অসুস্থ একটি গরু জবাই করার দুই দিন পর তাঁর শরীরে ফোসকা দেখা দেয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক সময় গরু-ছাগল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসার পর মানুষের শরীরেও ফোসকা ও ক্ষত দেখা দিচ্ছে।

 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সারা বছরই অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নেন। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দৌলতপুর উপজেলায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

 

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শরীরে অস্বাভাবিক ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। আক্রান্ত পশুর মাংস কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। শরীরে রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

এদিকে, গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, গবাদিপশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া এবং কোনো পশু অসুস্থ বা অস্বাভাবিকভাবে মারা গেলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশু জবাই না করা, এর মাংস না খাওয়া, আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং শরীরে অস্বাভাবিক ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় দুই মাসে ৫৪ অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত, স্থানীয়দের উদ্বেগ

আপডেট টাইম : ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবু:

 

কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় বাড়ছে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ। গবাদিপশুর পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষও। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে উপজেলায় ৫৪ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ায় ২০১০ সাল থেকে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। মাঝখানে রোগটির প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবারও সংক্রমণ বাড়ছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

 

দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ মাঠপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলামের ১৮ মাস বয়সী শিশু নুসাইবাও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে শিশুটির শরীরে ছোট ছোট ফোসকা দেখা দেয়। পরে সেগুলো কালচে হয়ে বড় ক্ষতে পরিণত হয়। বর্তমানে ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে শিশুটি।

 

একই উপজেলার গাছেরদিয়াড় এলাকার ইউসুফ সরদারও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বজনের অসুস্থ একটি গরু জবাই করার দুই দিন পর তাঁর শরীরে ফোসকা দেখা দেয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক সময় গরু-ছাগল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসার পর মানুষের শরীরেও ফোসকা ও ক্ষত দেখা দিচ্ছে।

 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সারা বছরই অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নেন। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দৌলতপুর উপজেলায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

 

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শরীরে অস্বাভাবিক ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। আক্রান্ত পশুর মাংস কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। শরীরে রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

এদিকে, গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, গবাদিপশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া এবং কোনো পশু অসুস্থ বা অস্বাভাবিকভাবে মারা গেলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশু জবাই না করা, এর মাংস না খাওয়া, আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং শরীরে অস্বাভাবিক ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।