চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেল স্টেশন থেকে কম খরচে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষিপণ্য পৌঁছে দিতে গত ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক বিশেষ ট্রেন ‘কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেন’ চালু করেছিলো বাংলাদেশ রেলওয়ে।
শনিবার (০২ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনই রহনপুর থেকে কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চাষী ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, রহনপুর থেকে ঢাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য কেজিপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১ টাকা ৩০ পয়সা। প্রতি কেজি পণ্য ট্রেনে পরিবহন করতে ভাড়ার পাশাপাশি কুলি, মাঠ থেকে স্টেশন ও স্টেশন থেকে মোকামের আলাদা পরিবহন খরচ পড়ে যাচ্ছিলো কেজি প্রতি ২ টাকা থেকে ৩ টাকার বেশি। অথচ সড়কপথে ট্রাকে পণ্য পরিবহন করতে তাদের খরচ হয় কেজিপ্রতি দুই-আড়াই টাকা।
ট্রেনের সময় সকালে হওয়ায় বাজারজাত নিয়েও রয়েছিলো শঙ্কা। এছাড়া ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়সহ নানা কারণে সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারলে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েও শঙ্কা রয়েছিলো। এছাড়াও চাষী ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন ট্রেনে কৃষিপণ্য পরিবহনের বড় ঝামেলা কুলি বহন খরচ এখানে স্বাভাবিক নিলেও ঢাকায় কুলি বহনের খরচ বেশী নেয়। এসব ঝামেলা নিয়ে আমরা ট্রেনে কৃষিপণ্য পরিবহন করিনি।
রহনপুর রেলওয়ের স্টেশন সহকারী মাস্টার জুনায়েদ আল মামুন জানান, রহনপুর রেল স্টেশন থেকে গত ২৬ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেন যাত্রা শুরু করেছিলো এতে শীতাতপ একটিসহ মোট পাঁচটি লাগেজ ভ্যান রয়েছিল । প্রতি কেজি পণ্য ঢাকায় পরিবহন করতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১ টাকা ৩০ পয়সা। গত ২৬ অক্টোবর কৃষিপণ্য ছড়াই কৃষি স্পেশাল ট্রেনটি যাত্রা শুরু করেছিলো।
রহনপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব হয় ৩৪৬ কিলোমিটার, ট্রেনটি পরিবহন খরচ হয় ৮ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪৩২ টাকা প্রথম দিন পথিমধ্যে বুকিং হয়েছিলো ডিমের খালি খাচা মাত্র ১৫০ কেজি যার বুকিং ৩৬০ টাকা, প্রথম দিনই ট্রেনটির লোকসান হয়েছিলো ৮ লক্ষ ৯৬ হাজার ৭২ টাকা। তবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য পরিবহন না করায় বিশেষ ট্রেন কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেন অনির্দিষ্টকালের জন্য দ্বিতীয় দিনে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রিন্ট