ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

পাট চাষি কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাজ

আত্রাইয়ে বৃষ্টির অভাবে পাট জাগের সমস্যা

বর্ষাকাল চলছে। দুঃখজনক হলেও সত্য নেই ঝমঝম বৃষ্টি মাঝে মধ্যে আকাশ কালো মেঘে ধেকে গেলেও মিলছে না বৃষ্টির দেখা। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এখন পর্যন্ত খাল, বিল, জলাশয় ও ডোবায় পানি জমতে শুরু করে নি।

 

পাট পরিপক্ব হয়েছে। পানির অভাবে নিরুপায় হয়ে কিছু কৃষক ডোবা নালা ও জলাশয়ে শালো মেশিন দিয়ে পাট জাগ দিতে শুরু করেছে। বাড়তি খরচ হওয়ায় লাভের তুলনায় ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। এর মধ্যে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। দামও বেশ ভালো। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে পাট চাষিদের কপালে চিন্তার ভাজ।

 

কিন্তু আত্রাই কৃষি অফিস বলছে বৃষ্টি পরিমাণ বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে। আত্রাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তাপস কুমার বলেন, নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৫৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার চষের শুরুতে চাষিদের বৈরি আবহাওয়া মোকাবেলা ও বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে পাট বীজ বুনতে হয়েছে। প্রচন্দ তাপ ও খরার সময় আবারও সেচ দেওয়ায় খরচ তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে।

এই উপজেলায় তৌষা পাট ও জেআরও ৫২৪ জাতের পাটের চাষ করা হয়েছে। পর্যাক্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দিতে চরম অসুবিদা হচ্ছে কৃষকদের।বর্তমানে পাট কাটা শুরু হয়েছে। পর্যাক্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে চাষিরা।

 

উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের পাট চাষি আব্দুল মান্নান জানান, এবার ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। পাটের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছে তিনি। কিন্তু পানির অভাবে এখন পর্যন্ত পাট জাগ দিতে পারিনি। এছাড়া মাগুরাপাড়া গ্রামের আবুল, লেজাম, আসকান সহ কয়েকজন পাট চাষি পাট কেটে বাড়ির পাশে গাদা দিয়ে রেখেছে।

 

মির্জাপুর গ্রামের বুক চিড়ে প্রবাহিত রতন ডারি নতুন করে খনন করা হলেও সে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় খালটি তেমন কাজে আসছে না। যে পরিমাণ পানি খালটিতে রয়েছে তাতে করে পাট জাগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজন অনুযায়ী বৃষ্টি হলেয় পাট জাগ দিবেন এই অপেক্ষাতে সময় পার করছে পাট চাষিরা। একই কথা জানান ভবাণীপুর গ্রামের নয়মদ্দিন।

 

আত্রাই উপজেলার ভবাণীপুর বাজারের পাট ব্যবসায়ী সেকেন্দার বলেন, গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার হাটে প্রায় ১৫-২০ মন পাট উঠে। প্রতি মন পাট বিক্রি হয়েছে ১৯০০-২২০০ দরে।

 

 

আত্রাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার  বলেন, এ উপজেলায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে পানির অভাবে পাট জাগে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে। আত্রাই উপজেলায় এবার পাট ভালো পরিপক্ষ হয়েছে, ফলনও  ভালো হবে বলে আশা বদী কৃষকরা। পাট কাটা ও ডোবা নালা জলাশয়ের পানিতে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে ব্যাস্তসময় পার করছে কৃষকরা।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

error: Content is protected !!

পাট চাষি কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাজ

আত্রাইয়ে বৃষ্টির অভাবে পাট জাগের সমস্যা

আপডেট টাইম : ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০২৩
মোঃ আব্দুল জব্বার ফারুক, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি :

বর্ষাকাল চলছে। দুঃখজনক হলেও সত্য নেই ঝমঝম বৃষ্টি মাঝে মধ্যে আকাশ কালো মেঘে ধেকে গেলেও মিলছে না বৃষ্টির দেখা। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এখন পর্যন্ত খাল, বিল, জলাশয় ও ডোবায় পানি জমতে শুরু করে নি।

 

পাট পরিপক্ব হয়েছে। পানির অভাবে নিরুপায় হয়ে কিছু কৃষক ডোবা নালা ও জলাশয়ে শালো মেশিন দিয়ে পাট জাগ দিতে শুরু করেছে। বাড়তি খরচ হওয়ায় লাভের তুলনায় ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। এর মধ্যে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। দামও বেশ ভালো। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে পাট চাষিদের কপালে চিন্তার ভাজ।

 

কিন্তু আত্রাই কৃষি অফিস বলছে বৃষ্টি পরিমাণ বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে। আত্রাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তাপস কুমার বলেন, নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৫৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার চষের শুরুতে চাষিদের বৈরি আবহাওয়া মোকাবেলা ও বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে পাট বীজ বুনতে হয়েছে। প্রচন্দ তাপ ও খরার সময় আবারও সেচ দেওয়ায় খরচ তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে।

এই উপজেলায় তৌষা পাট ও জেআরও ৫২৪ জাতের পাটের চাষ করা হয়েছে। পর্যাক্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ দিতে চরম অসুবিদা হচ্ছে কৃষকদের।বর্তমানে পাট কাটা শুরু হয়েছে। পর্যাক্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট জাগ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে চাষিরা।

 

উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের পাট চাষি আব্দুল মান্নান জানান, এবার ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। পাটের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছে তিনি। কিন্তু পানির অভাবে এখন পর্যন্ত পাট জাগ দিতে পারিনি। এছাড়া মাগুরাপাড়া গ্রামের আবুল, লেজাম, আসকান সহ কয়েকজন পাট চাষি পাট কেটে বাড়ির পাশে গাদা দিয়ে রেখেছে।

 

মির্জাপুর গ্রামের বুক চিড়ে প্রবাহিত রতন ডারি নতুন করে খনন করা হলেও সে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় খালটি তেমন কাজে আসছে না। যে পরিমাণ পানি খালটিতে রয়েছে তাতে করে পাট জাগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজন অনুযায়ী বৃষ্টি হলেয় পাট জাগ দিবেন এই অপেক্ষাতে সময় পার করছে পাট চাষিরা। একই কথা জানান ভবাণীপুর গ্রামের নয়মদ্দিন।

 

আত্রাই উপজেলার ভবাণীপুর বাজারের পাট ব্যবসায়ী সেকেন্দার বলেন, গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার হাটে প্রায় ১৫-২০ মন পাট উঠে। প্রতি মন পাট বিক্রি হয়েছে ১৯০০-২২০০ দরে।

 

 

আত্রাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার  বলেন, এ উপজেলায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে পানির অভাবে পাট জাগে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে। আত্রাই উপজেলায় এবার পাট ভালো পরিপক্ষ হয়েছে, ফলনও  ভালো হবে বলে আশা বদী কৃষকরা। পাট কাটা ও ডোবা নালা জলাশয়ের পানিতে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে ব্যাস্তসময় পার করছে কৃষকরা।


প্রিন্ট