ঢাকা , বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

রংপুরে ঘুষ দিতে গিয়ে কুড়িগ্রামের শিক্ষক আটক, ৮ লাখ টাকা জব্দ

মোঃ নাঈমুল ইসলামঃ

এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সুপারিশ আদায়ের লক্ষ্যে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিতে এসে রংপুরে আটক হয়েছেন কুড়িগ্রামের এক সাবেক শিক্ষক। তিনি কাজাইকাটা হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক ছিলেন।

 

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর কাচারীবাজার এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কোতোয়ালি থানা পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

আটক ব্যক্তি হলেন মাইদুল ইসলাম খান (৫০)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা এবং হাজী আব্দুর সবুর খানের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও সুপারিশের জন্য আঞ্চলিক দপ্তরে তদবির করে আসছিলেন।

 

কার্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে একটি কার্টনে করে নগদ ৮ লাখ টাকা নিয়ে তিনি রংপুরে আসেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগমের কার্যালয়ে প্রবেশ করে তিনি সুপারিশের বিনিময়ে ওই টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ সময় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।

 

ঘটনার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, “নির্বাচনের আগ থেকেই ওই ব্যক্তি বিভিন্নভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। তিনি বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, সুপারিশের বিষয়ে ‘সহযোগিতা’ করতে চান। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলাম, নিয়মের বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। সোমবার তিনি সরাসরি অফিসে এসে নগদ ৮ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করি এবং সংশ্লিষ্টদের অবহিত করি।

 

তিনি আরো বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এমপিও সংক্রান্ত সব কার্যক্রম নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হয়। কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে ঘুষ দিয়ে সুবিধা নিতে চান, তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমি চাই এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপচেষ্টা করার সাহস না পায়।”

 

অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম খান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে তিনি স্বীকার করেন যে, এমপিও সুপারিশ পেতে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিতে এসেছিলেন। তবে কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

 

কোতোয়ালি থানা সূত্র জানায়, ঘুষ দেওয়ার অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে নগদ ৮ লাখ টাকা। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

রংপুরে ঘুষ দিতে গিয়ে কুড়িগ্রামের শিক্ষক আটক, ৮ লাখ টাকা জব্দ

আপডেট টাইম : ২২ ঘন্টা আগে
মোঃ নাঈমুল ইসলাম, সদর উপজেলা (রংপুর) প্রতিনিধি :

মোঃ নাঈমুল ইসলামঃ

এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সুপারিশ আদায়ের লক্ষ্যে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিতে এসে রংপুরে আটক হয়েছেন কুড়িগ্রামের এক সাবেক শিক্ষক। তিনি কাজাইকাটা হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক ছিলেন।

 

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর কাচারীবাজার এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কোতোয়ালি থানা পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

আটক ব্যক্তি হলেন মাইদুল ইসলাম খান (৫০)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা এবং হাজী আব্দুর সবুর খানের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও সুপারিশের জন্য আঞ্চলিক দপ্তরে তদবির করে আসছিলেন।

 

কার্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে একটি কার্টনে করে নগদ ৮ লাখ টাকা নিয়ে তিনি রংপুরে আসেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগমের কার্যালয়ে প্রবেশ করে তিনি সুপারিশের বিনিময়ে ওই টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ সময় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।

 

ঘটনার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, “নির্বাচনের আগ থেকেই ওই ব্যক্তি বিভিন্নভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। তিনি বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, সুপারিশের বিষয়ে ‘সহযোগিতা’ করতে চান। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলাম, নিয়মের বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। সোমবার তিনি সরাসরি অফিসে এসে নগদ ৮ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করি এবং সংশ্লিষ্টদের অবহিত করি।

 

তিনি আরো বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এমপিও সংক্রান্ত সব কার্যক্রম নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হয়। কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে ঘুষ দিয়ে সুবিধা নিতে চান, তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমি চাই এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপচেষ্টা করার সাহস না পায়।”

 

অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম খান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে তিনি স্বীকার করেন যে, এমপিও সুপারিশ পেতে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিতে এসেছিলেন। তবে কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

 

কোতোয়ালি থানা সূত্র জানায়, ঘুষ দেওয়ার অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে নগদ ৮ লাখ টাকা। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রিন্ট