ঢাকা , শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বেনাপোল কাস্টমসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব ঘাটতি এক হাজার ১৩ কোটি টাকা

সাজেদুর রহমানঃ

বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। প্রথম ৬ মাসেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি প্রায় এক হাজার ১৩ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি দাড়িয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা।

 

বেনাপোল কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে। আগে যেখানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হতো, বর্তমানে সেটা কমে দাড়িয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাকে। এছাড়া রপ্তানি হতো ৩০০ ট্রাক সেটা কমে
দাড়িয়েছে ১৫০ ট্রাকে। ফলে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে।

 

বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি বাণিজ্যের স্থবিরতা, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপড়েন এবং বন্দরের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম মিলে এই সঙ্কটকে আরো গভীর করেছে। বেনাপোল কাস্টমসে ৬ মাসে এত বড় ধস গত এক দশকের মধ্যে বিরল।

মাসভিত্তিক হিসাবেও রাজস্ব পতনের চিত্র স্পষ্ট। জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আদায় হলেও আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে ঘাটতি বাড়তে থাকে। আগস্টে ৪৯৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৪৪৭ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে ৬০১ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ৫১৩ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা।

 

অক্টোবরে ৬৪৫ কোটির বিপরীতে আদায় হয় ৪৪৯ দশমিক ২৮ কোটি টাকা। নভেম্বরে ৭৫৫ কোটির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৫৬৪ দশমিক ৪১ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৬শ দশমিক ৮১ কোটি টাকা, যা সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেনাপোল বন্দর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে বেনাপোল দিয়ে আমদানি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ১৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন পণ্য। অথচ আগের অর্থবছরে একই সময়ে এবং পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছর মিলিয়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৪২০ মেট্রিক টনের বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বাণিজ্যে বড় ধরনের পতন ঘটেছে, যা বেনাপোল বন্দরের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় ধস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

বিশেষ করে উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্য আমদানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। শিল্প কাঁচামাল, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, যন্ত্রাংশ ও কেমিক্যাল আমদানি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এসব পণ্য থেকেই শুল্ক ও ভ্যাটের বড় অংশ আসে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিই দায়ী নয়। কাস্টম হাউস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও আমদানিকারকদের বেনাপোলমুখী আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।

 

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন জানান, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইতিপূর্বে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হতো। এখন সেটা কমে তার সংখ্যা দাড়িছে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক। রপ্তানি হতো ৩০০ ট্রাক সেটা কমে দাড়িয়েছে ১৫০ ট্রাকে। ফলে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয় কমে গেছে।

 

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল বিহারী বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে, এটা আমরা স্বীকার করছি। আমদানি বাণিজ্য কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। তবে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত পণ্য খালাস এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, অর্থবছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ে উন্নতি হবে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান; চাই দ্রুত বাস্তবায়ন

error: Content is protected !!

বেনাপোল কাস্টমসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব ঘাটতি এক হাজার ১৩ কোটি টাকা

আপডেট টাইম : ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
সাজেদুর রহমান, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :

সাজেদুর রহমানঃ

বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। প্রথম ৬ মাসেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি প্রায় এক হাজার ১৩ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি দাড়িয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা।

 

বেনাপোল কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে। আগে যেখানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হতো, বর্তমানে সেটা কমে দাড়িয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাকে। এছাড়া রপ্তানি হতো ৩০০ ট্রাক সেটা কমে
দাড়িয়েছে ১৫০ ট্রাকে। ফলে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে।

 

বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি বাণিজ্যের স্থবিরতা, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপড়েন এবং বন্দরের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম মিলে এই সঙ্কটকে আরো গভীর করেছে। বেনাপোল কাস্টমসে ৬ মাসে এত বড় ধস গত এক দশকের মধ্যে বিরল।

মাসভিত্তিক হিসাবেও রাজস্ব পতনের চিত্র স্পষ্ট। জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আদায় হলেও আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে ঘাটতি বাড়তে থাকে। আগস্টে ৪৯৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৪৪৭ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে ৬০১ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ৫১৩ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা।

 

অক্টোবরে ৬৪৫ কোটির বিপরীতে আদায় হয় ৪৪৯ দশমিক ২৮ কোটি টাকা। নভেম্বরে ৭৫৫ কোটির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৫৬৪ দশমিক ৪১ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৬শ দশমিক ৮১ কোটি টাকা, যা সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেনাপোল বন্দর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে বেনাপোল দিয়ে আমদানি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ১৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন পণ্য। অথচ আগের অর্থবছরে একই সময়ে এবং পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছর মিলিয়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৪২০ মেট্রিক টনের বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বাণিজ্যে বড় ধরনের পতন ঘটেছে, যা বেনাপোল বন্দরের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় ধস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

বিশেষ করে উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্য আমদানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। শিল্প কাঁচামাল, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, যন্ত্রাংশ ও কেমিক্যাল আমদানি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এসব পণ্য থেকেই শুল্ক ও ভ্যাটের বড় অংশ আসে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিই দায়ী নয়। কাস্টম হাউস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও আমদানিকারকদের বেনাপোলমুখী আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।

 

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন জানান, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইতিপূর্বে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হতো। এখন সেটা কমে তার সংখ্যা দাড়িছে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক। রপ্তানি হতো ৩০০ ট্রাক সেটা কমে দাড়িয়েছে ১৫০ ট্রাকে। ফলে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয় কমে গেছে।

 

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল বিহারী বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে, এটা আমরা স্বীকার করছি। আমদানি বাণিজ্য কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। তবে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত পণ্য খালাস এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, অর্থবছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ে উন্নতি হবে।


প্রিন্ট