মোহাম্মদ আবু নাছেরঃ
নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানা পুলিশ নোয়াখালী সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় অবস্থিত “নিলয় জুয়েলার্স”-এ সংঘটিত দুঃসাহসিক স্বর্ণচুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ স্বর্ণ চোরচক্রের লিডারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
রোববার ( ১২ জানুয়ারী ) নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার এর সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এ সময় চোরাই যাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের একটি অংশ উদ্ধার ও গ্রেফতারের বিষয় সাংবাদিকদের নিকট তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, গত ০১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিট থেকে ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে নোয়াখালী সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় অবস্থিত “নিলয় জুয়েলার্স”এর শাটারের তালা কেটে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দোকান থেকে প্রায় ১২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়।
এ ঘটনায় “নিলয় জুয়েলার্স”-এর পরিচালক মীর মোশারেফ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মামলা নং-০২, তারিখ-০২/০১/২০২৬, ধারা-৪৫৭/৪৬১/৩৮০ (পেনাল কোড ১৮৬০) এ রুজু হয়।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন-এর দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস অভিযানিক দল গঠন করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ভাঙ্গরা পাকা সড়ক এলাকা থেকে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ স্বর্ণ চোরচক্রের দলনেতা মো. মোর্শেদ (মহসিন) মোশারফ ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আরেক অভিযানে চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. আলাউদ্দিন ওরফে পিচ্চি আলাউদ্দিন (২৬)-কে তার বসতঘর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের সময় ও পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই যাওয়া মোট ৯ ভরি ৪ আনা ২ রতি ৭ পয়েন্ট স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃত আসামি মো. মোর্শেদ ও মো. আলাউদ্দিন বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মো. মোর্শেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পূর্বের ৮টি মামলা, মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে ৭টি মামলা।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত ও অভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ অভিযানে মাননীয় আইজিপি ও ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রিন্ট

সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে 
মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি 


















